Ajker Patrika

বেনাপোলে ভারী যন্ত্রপাতির সংকট: ঠিকাদার নিয়োগে দেরির মাশুল ব্যবসায়ীদের

আজিজুল হক, বেনাপোল (যশোর) 
বেনাপোলে ভারী যন্ত্রপাতির সংকট: ঠিকাদার নিয়োগে দেরির মাশুল ব্যবসায়ীদের
পর্যাপ্ত ক্রেন ও ফর্কলিফট না থাকায় আমদানি পণ্য খালাসে ধীরগতি তৈরি হয়েছে বেনাপোল স্থলবন্দরে। ছবি: আজকের পত্রিকা

বেনাপোল স্থলবন্দরে ভারী পণ্য ওঠানো-নামানোর জন্য পর্যাপ্ত ক্রেন ও ফর্কলিফট না থাকায় আমদানি পণ্য খালাসে চরম ধীরগতি তৈরি হয়েছে। এতে শিল্পকারখানার যন্ত্রপাতি, নির্মাণসামগ্রী ও উন্নয়ন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ভারী পণ্য দিনের পর দিন বন্দরেই আটকে থাকছে। অন্যদিকে, খালাসে বিলম্বের কারণে ব্যবসায়ীদের কিংবা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে বাড়তি গুদামভাড়া, ট্রাক স্ট্যান্ড চার্জ ও ডেমারেজ গুনতে হচ্ছে। একই সঙ্গে দুর্বল কার্গো ব্যবস্থাপনার কারণে দেশের বৃহত্তম এই স্থলবন্দরটি আঞ্চলিক বাণিজ্য প্রতিযোগিতায়ও ক্রমেই পিছিয়ে পড়ার শঙ্কায় পড়েছে।

বন্দর ও কাস্টমস সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রতিবছর ভারত থেকে গড়ে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার পণ্য আমদানি হয়। এসব পণ্য খালাস থেকে সরকার শুল্ক-কর বাবদ আদায় করে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব। আমদানি করা পণ্যের প্রায় ৩০ শতাংশই ভারী যন্ত্রপাতি, শিল্পকারখানার মেশিনারি, পাথর ও বড় আকারের শিল্পপণ্য। আর এসব পণ্য ওঠাতে-নামাতে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্রেন ও ফর্কলিফট অপরিহার্য। কিন্তু বাস্তবে বন্দরের যন্ত্র সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় অনেক কম থাকায় খালাস কার্যক্রমে বাড়ছে ধীরগতি ও ভোগান্তি।

ব্যবসায়ীদের দাবি, বেনাপোল স্থলবন্দরে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে কমপক্ষে ১২টি ক্রেন ও ২০টি ফর্কলিফট প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গ্রেড বেঙ্গল এন্টারপ্রাইজের কাছে রয়েছে মাত্র ৭টি ক্রেন ও ৮টি ফর্কলিফট। এর মধ্যেও প্রায়ই যান্ত্রিক ত্রুটিতে কয়েকটি অচল থাকে। ফলে প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ১০০টি ট্রাক খালাসের অপেক্ষায় আটকে থাকে। কোনো কোনো ভারী যন্ত্রপাতি খালাসে তিন থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ আমদানিকারকদের।

ভারত-বাংলা ল্যান্ডপোর্ট চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক মতিয়ার রহমান জানান, ‘ভারী মাল ওঠানোর মতো শক্তিশালী ক্রেন বন্দরে নেই। দুই পাশ থেকে দুটি ছোট ক্রেন দিয়ে মাল তুলতে হচ্ছে। এতে সময় যেমন বাড়ছে, তেমনি ঝুঁকিও বাড়ছে।’

অন্যদিকে ‘ক্রেন সংকটের কারণে শিল্পকারখানার জরুরি যন্ত্রপাতি সময়মতো সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এতে করে ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন বাড়তি খরচ দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের বন্দরবিষয়ক সম্পাদক মো. মেহেরুল্লাহ।

এদিকে বন্দর সূত্র জানায়, গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পাঁচ বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও এখনো নতুন ঠিকাদার নিয়োগ না হওয়ায় অতিরিক্ত সময় ধরে একই প্রতিষ্ঠান কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজনও বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে গ্রেড বেঙ্গল এন্টারপ্রাইজের বেনাপোল অফিসের ব্যবস্থাপক আব্দুর রাজ্জাক আজকের পত্রিকাকে জানান, বন্দরের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এখন নতুন করে কাজ পেলে পণ্য খালাসের সরঞ্জাম দ্রুত বাড়ানো হবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ায় অনেক আমদানিকারক এখন মোংলা ও চট্টগ্রাম বন্দরের দিকে ঝুঁকছেন। ভারতের পেট্রাপোল অংশে আধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং ব্যবস্থা থাকলেও বেনাপোলে সেই সক্ষমতা না থাকায় আঞ্চলিক বাণিজ্য প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ।

এই বাস্তবতায় গত পাঁচ বছরে বেনাপোল বন্দরে আমদানি ও রাজস্ব আয় ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের আশঙ্কা, যন্ত্র সংকট দ্রুত সমাধান না হলে রাজস্ব আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ জানতে চাইলে বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক রুহুল আমিন বলেন, নতুন ঠিকাদার নিয়োগের কার্যক্রম চলছে। দ্রুত সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

গাজীপুরে ৫ হত্যা: মরদেহগুলোর ওপর ছিল লিখিত অভিযোগ, যা লেখা আছে

গাজীপুরে তিন শিশুসন্তান, স্ত্রী ও শ্যালককে হত্যা: ফোনকলে স্বীকারোক্তি দিয়ে পলাতক অভিযুক্ত

গাজীপুরে গভীর রাতে একই পরিবারের ৫ সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা

আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে ভারত, বাংলাদেশের আকাশে কি তারই ঝলকানি

সংবিধি না হওয়া পর্যন্ত ববিতে শিক্ষকদের পদোন্নতি হচ্ছে না: সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত