আসাদুজ্জামান নূর, ঢাকা

বাজেটে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ রাখা নিয়ে বরাবরই সমালোচনা করে আসছেন বিশেষজ্ঞ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। নানা সমালোচনার মধ্যেই এবার বাজেটে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ রাখছে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে ঢালাওভাবে সব খাতে নয়; স্থাপনা, বাড়ি, ফ্ল্যাট, অ্যাপার্টমেন্ট, ফ্লোর স্পেস ও জমি কেনার ক্ষেত্রে এই সুযোগ রাখা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে করহার সাত গুণ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। এ লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবের ভেটিংও সম্পন্ন হয়েছে বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে।
কালোটাকা সাদা করার সুযোগ অসাংবিধানিক, অনৈতিক ও বৈষম্যমূলক উল্লেখ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ও দুদক সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. ইফতেখারুজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ দুর্নীতিকে উৎসাহ দেয় এবং এটি সংবিধানের ২০ (২) অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন। অন্তর্বর্তী সরকার এটি বহাল রাখলে সেটি হবে হতাশাজনক ও নিজের জন্য বিব্রতকর।
অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশে গত ২ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সিকিউরিটিজ, নগদ অর্থ, ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থসহ সব ধরনের ডিপোজিটে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ বাতিল করে এনবিআর। তবে আবাসন খাতে সেই সুযোগ রাখা হয়। ধারণা ছিল, আসছে বাজেটে এই সুবিধাও প্রত্যাহার করা হবে। কিন্তু সেটি বহাল রেখেই বাজেট প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে এনবিআরের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এটা আগেও ছিল, এখনো রাখা হয়েছে। অনেকের দাবি ছিল এবং অনেকেই ধারণা করেছিলেন, এই সুযোগ বাতিল করা হতে পারে। কিন্তু সেটা বাতিল করা হয়নি।’
তথ্য বলছে, বর্তমানে গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি, মতিঝিলসহ ঢাকার অভিজাত এলাকায় জমি কিনলে বর্গমিটারে ১৫ হাজার টাকা এবং ফ্ল্যাটে ৬ হাজার টাকা কর দিয়ে কালোটাকা সাদা করা যায়। এসব করহার আগামী বাজেটে সাত গুণ বাড়ানো হতে পারে। অন্যদিকে, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, উত্তরা, যাত্রাবাড়ীসহ অন্যান্য এলাকায় জমিতে বিদ্যমান করহার ১০ হাজার এবং ফ্ল্যাটে ৩ হাজার ৫০০ টাকা, যা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিজাত এলাকায় এক একটি অ্যাপার্টমেন্ট ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকা দামে বিক্রি হলেও দলিলে মূল্য দেখানো হয় ১ থেকে ২ কোটি টাকা। ক্রেতাদের বড় একটি অংশ সরকারি কর্মকর্তা হলেও তাঁদের বেতনকাঠামো অনুযায়ী এসব সম্পদ কেনার সামর্থ্য থাকার কথা নয়। ফলে এসব লেনদেনের বড় অংশ অবৈধ আয় দিয়ে হয়।
বিদেশে অর্থ পাচার ঠেকাতে এই উদ্যোগ কিছুটা কার্যকর উল্লেখ করে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদ বলেন, ‘তবে এটা নীতিগতভাবে অনুচিত। সব ধরনের কালোটাকা সাদা করার সুযোগ বাতিল করা উচিত। এটি সামাজিক ন্যায্যতার পরিপন্থী এবং ছাত্র-জনতার আন্দোলনের দাবির বিরোধী।’
এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, রিহ্যাবের দাবি থাকে এ সুযোগ রাখার। এ জন্য করহার বাড়িয়ে আদর্শ হারে আনার চেষ্টা থাকে।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে ২২ বার কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দিয়েছে সরকার। তবে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মাত্র ৪৭ হাজার কোটি টাকা সাদা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি, ২০ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা সাদা হয় ২০২০-২১ অর্থবছরে। এনবিআর কর্মকর্তারা মনে করেন, কোভিডের সময় বিদেশে অর্থ পাচার কমে যাওয়ায় ওই বছর বেশি কালোটাকা সাদা করা হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ও অর্থনীতিবিদ ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, দুর্নীতিকে উৎসাহ দিয়ে অবৈধ অর্থকে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। জমি বিক্রি করেন গরিবেরা, কেনেন ধনীরা। অথচ তাঁদের কর ফাঁকি ও অপরাধ ক্ষমা পেয়ে যায়।

বাজেটে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ রাখা নিয়ে বরাবরই সমালোচনা করে আসছেন বিশেষজ্ঞ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। নানা সমালোচনার মধ্যেই এবার বাজেটে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ রাখছে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে ঢালাওভাবে সব খাতে নয়; স্থাপনা, বাড়ি, ফ্ল্যাট, অ্যাপার্টমেন্ট, ফ্লোর স্পেস ও জমি কেনার ক্ষেত্রে এই সুযোগ রাখা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে করহার সাত গুণ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। এ লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবের ভেটিংও সম্পন্ন হয়েছে বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে।
কালোটাকা সাদা করার সুযোগ অসাংবিধানিক, অনৈতিক ও বৈষম্যমূলক উল্লেখ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ও দুদক সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. ইফতেখারুজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ দুর্নীতিকে উৎসাহ দেয় এবং এটি সংবিধানের ২০ (২) অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন। অন্তর্বর্তী সরকার এটি বহাল রাখলে সেটি হবে হতাশাজনক ও নিজের জন্য বিব্রতকর।
অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশে গত ২ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সিকিউরিটিজ, নগদ অর্থ, ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থসহ সব ধরনের ডিপোজিটে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ বাতিল করে এনবিআর। তবে আবাসন খাতে সেই সুযোগ রাখা হয়। ধারণা ছিল, আসছে বাজেটে এই সুবিধাও প্রত্যাহার করা হবে। কিন্তু সেটি বহাল রেখেই বাজেট প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে এনবিআরের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এটা আগেও ছিল, এখনো রাখা হয়েছে। অনেকের দাবি ছিল এবং অনেকেই ধারণা করেছিলেন, এই সুযোগ বাতিল করা হতে পারে। কিন্তু সেটা বাতিল করা হয়নি।’
তথ্য বলছে, বর্তমানে গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি, মতিঝিলসহ ঢাকার অভিজাত এলাকায় জমি কিনলে বর্গমিটারে ১৫ হাজার টাকা এবং ফ্ল্যাটে ৬ হাজার টাকা কর দিয়ে কালোটাকা সাদা করা যায়। এসব করহার আগামী বাজেটে সাত গুণ বাড়ানো হতে পারে। অন্যদিকে, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, উত্তরা, যাত্রাবাড়ীসহ অন্যান্য এলাকায় জমিতে বিদ্যমান করহার ১০ হাজার এবং ফ্ল্যাটে ৩ হাজার ৫০০ টাকা, যা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিজাত এলাকায় এক একটি অ্যাপার্টমেন্ট ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকা দামে বিক্রি হলেও দলিলে মূল্য দেখানো হয় ১ থেকে ২ কোটি টাকা। ক্রেতাদের বড় একটি অংশ সরকারি কর্মকর্তা হলেও তাঁদের বেতনকাঠামো অনুযায়ী এসব সম্পদ কেনার সামর্থ্য থাকার কথা নয়। ফলে এসব লেনদেনের বড় অংশ অবৈধ আয় দিয়ে হয়।
বিদেশে অর্থ পাচার ঠেকাতে এই উদ্যোগ কিছুটা কার্যকর উল্লেখ করে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদ বলেন, ‘তবে এটা নীতিগতভাবে অনুচিত। সব ধরনের কালোটাকা সাদা করার সুযোগ বাতিল করা উচিত। এটি সামাজিক ন্যায্যতার পরিপন্থী এবং ছাত্র-জনতার আন্দোলনের দাবির বিরোধী।’
এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, রিহ্যাবের দাবি থাকে এ সুযোগ রাখার। এ জন্য করহার বাড়িয়ে আদর্শ হারে আনার চেষ্টা থাকে।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে ২২ বার কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দিয়েছে সরকার। তবে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মাত্র ৪৭ হাজার কোটি টাকা সাদা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি, ২০ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা সাদা হয় ২০২০-২১ অর্থবছরে। এনবিআর কর্মকর্তারা মনে করেন, কোভিডের সময় বিদেশে অর্থ পাচার কমে যাওয়ায় ওই বছর বেশি কালোটাকা সাদা করা হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ও অর্থনীতিবিদ ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, দুর্নীতিকে উৎসাহ দিয়ে অবৈধ অর্থকে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। জমি বিক্রি করেন গরিবেরা, কেনেন ধনীরা। অথচ তাঁদের কর ফাঁকি ও অপরাধ ক্ষমা পেয়ে যায়।

রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পে ব্যবহৃত ১০ থেকে ৩০ কাউন্ট মানের সুতা আমদানিতে বন্ডেড ওয়্যারহাউস অর্থাৎ শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। দেশীয় স্পিনিং-শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষা, রপ্তানি খাতে মূল্য সংযোজন বাড়ানো ও এলডিসি উত্তরণপরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উদ্দেশ্যে এমন
৩ ঘণ্টা আগে
দেশের নির্মাণসামগ্রী খাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে র্যাপিড হার্ডেনিং সিমেন্ট। সারা বিশ্বেই র্যাপিড হার্ডেনিং সিমেন্ট বর্তমানে বড় পরিসরে ব্যবহৃত হচ্ছে। নতুন দিনের নির্মাণ চাহিদা পূরণে এবং দ্রুততার সঙ্গে কাজ সম্পন্ন করতে র্যাপিড হার্ডেনিং সিমেন্ট ব্যবহারের প্রচলন আমাদের দেশে এখনো তুলনামূলকভাবে নতুন।
৫ ঘণ্টা আগে
চলতি অর্থবছরে উন্নয়ন খাতে ৮৫৬টি প্রকল্প রয়েছে; কিন্তু এর জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (আরএডিপি) এ চিত্র দেখা গেছে। প্রকল্পগুলোর মধ্যে সরকারি অর্থায়নে ৪১৩, বৈদেশিক অর্থায়নে ১৫৭, সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে ৩৫, পিপিপির আওতাভুক্ত প্রকল্প ৮১ এবং জলবায়ু
২০ ঘণ্টা আগে
রাজস্ব আয়, উদ্বৃত্ত ও রাষ্ট্রীয় কোষাগারে অবদান—এই তিন ক্ষেত্রেই গত পাঁচ বছরে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ২০২১ থেকে ২০২৫—এই পাঁচ বছরে গড়ে ১৩ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ রাজস্ব আয় প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি গড়ে ১৮ দশমিক ৪২ শতাংশ রাজস্ব উদ্বৃত্ত প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরটি।
২০ ঘণ্টা আগে