Ajker Patrika

ভেনেজুয়েলায় ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ চান ট্রাম্প, তেল কোম্পানিগুলো বলছে—সে অবস্থা নেই

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১১: ৪৬
শুক্রবার হোয়াইট হাউসে বৈঠকে জ্বালানি জায়ান্টদের কাছ থেকে তেমন সাড়া পাননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে
শুক্রবার হোয়াইট হাউসে বৈঠকে জ্বালানি জায়ান্টদের কাছ থেকে তেমন সাড়া পাননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে

ভেনেজুয়েলার তেলশিল্পে অন্তত ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের জন্য মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক বৈঠকে কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছ থেকে এ বিষয়ে খুব একটা ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমনকি একজন নির্বাহী বর্তমান পরিস্থিতিতে দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটিকে ‘বিনিয়োগের অনুপযোগী’ বলে সতর্ক করেছেন।

৩ জানুয়ারি মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনি ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদ উন্মুক্ত করে দেবেন। ওয়াশিংটনে শুক্রবারের (৯ জানুয়ারি) বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ‘এই প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় প্রাপ্তি হবে জ্বালানি তেলের দাম আরও কমে যাওয়া।’ ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, কোম্পানিগুলো সরাসরি মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করবে, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে নয়।

তবে বিপুল তেল মজুত থাকা সত্ত্বেও মার্কিন জ্বালানি খাতের জায়ান্টরা এখনই বড় কোনো আর্থিক প্রতিশ্রুতি দিতে রাজি হয়নি। এক্সন মবিলের প্রধান নির্বাহী ড্যারেন উডস জানান, ভেনেজুয়েলায় এর আগে দুবার তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তৃতীয়বার সেখানে প্রবেশ করতে গেলে আমাদের ঐতিহাসিকভাবে দেখা পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। বর্তমানে এটি বিনিয়োগযোগ্য নয়।’

বর্তমানে কেবল শেভরন একমাত্র মার্কিন কোম্পানি হিসেবে দেশটিতে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। রেপসল এবং এনির মতো কিছু বিদেশি কোম্পানিও সেখানে সক্রিয় রয়েছে।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তারা ভেনেজুয়েলার ওপর থাকা মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলো ‘বেছে বেছে’ প্রত্যাহার করার কাজ করছে। বর্তমানে দেশটির অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষ বা ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের সরকারের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে তেল বিক্রির পুরো প্রক্রিয়াটি যুক্তরাষ্ট্র নিজের অধীনে রাখতে চায়। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছু তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে এবং বিক্রীত অর্থ মার্কিন-নিয়ন্ত্রিত অ্যাকাউন্টে জমা করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

বর্তমানে ভেনেজুয়েলা প্রতিদিন মাত্র ১০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করে, যা বিশ্ব সরবরাহের ১ শতাংশের কম। বিশ্লেষকদের মতে, উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে গেলে বিপুল বিনিয়োগ এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ডেভিড গোল্ডউইন মনে করেন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, আইনি নিশ্চয়তা এবং প্রতিযোগিতামূলক করকাঠামো ছাড়া কোম্পানিগুলো বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঝুঁকি নেবে না।

রাইস্ট্যাড এনার্জির মতে, ২০৪০ সালের মধ্যে উৎপাদন তিন গুণ করতে হলে প্রতিবছর ৮ থেকে ৯ বিলিয়ন ডলার নতুন বিনিয়োগ প্রয়োজন। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়া বর্তমানে ‘অলীক’ বলেই মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক। তাঁদের মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না আসা পর্যন্ত বড় কোনো বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

গাজায় ট্রাম্প বাহিনীর অংশ হতে চায় বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্রকে জানালেন খলিলুর

দুবাই পালানোর সময় বিমানবন্দর থেকে নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার

শিক্ষককে হেনস্তার পর টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর অফিসে নিয়ে গেলেন চাকসুর শিবির নেতারা

তারেক রহমানের নেতৃত্বেই বিনির্মিত হবে আগামীর বাংলাদেশ, মোদির প্রত্যাশা

রাইস কুকার ব্যবহারের ভুল ও সতর্কতা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত