অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে বৈদেশিক ঋণ এবং সুদ; ফলে চাপ বাড়ছে পরিশোধেরও। রাষ্ট্রীয় ব্যয় মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে রাজস্ব আয় বাড়ানো যাচ্ছে না, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কায় দেশীয় ব্যাংক থেকে ঋণ বাড়ানোও ঝুঁকিপূর্ণ। এই বাস্তবতা যখন সামনে দাঁড়িয়ে, তখন আশঙ্কাজনভাবে কমে গেছে দাতাদের প্রতিশ্রুত অর্থছাড় ও নতুন প্রতিশ্রুতি, যা সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়ে রীতিমতো উভয়সংকটে ফেলে দিয়েছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বৈদেশিক ঋণের প্রতিশ্রুতি কমেছে ১৩ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং অর্থছাড় কমেছে ২৯ দশমিক ২৩ শতাংশ। এর বিপরীতে পরিশোধের হার বেড়েছে ১০ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, সরকারের নীতিগত অবস্থান, প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি এবং উন্নয়ন সহযোগীদের বাড়তি সতর্কতাই এই প্রবণতার মূল কারণ। তবে রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এলে দাতা সংস্থাগুলোর ঋণছাড়ের আগ্রহ বাড়বে বলে মনে করেন তাঁরা।
‘বিগত এক দশকে নেওয়া বড় বৈদেশিক ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধ শুরু হওয়ায় সরকারের ওপর চাপ বেড়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো খাতের ঋণ নিয়মিত পরিশোধ করতে হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি ও দক্ষতা বাড়ানো না হলে ভবিষ্যতেও ঋণছাড় ও প্রতিশ্রুতি হ্রাস পাওয়ার ঝুঁকি থাকবে বলে জানান বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান।
ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দাতা সংস্থাগুলোকে ২১৯ কোটি ৫০ লাখ ২০ হাজার ডলার ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে। এর মধ্যে ঋণের সুদ বাবদ পরিশোধ হয়েছে ৭৬ কোটি ৯৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার। আর প্রকৃত ঋণ বাবদ পরিশোধ হয়েছে ১৪২ কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে ঋণ ও সুদ বাবদ পরিশোধ করা হয়েছিল ১৯৮ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার।
একই সময়ে সরকার নতুন করে দাতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে ১৯৯ কোটি ডলার ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২২৯ কোটি ৮৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার; অর্থাৎ প্রতিশ্রুতি কমেছে ১৩ দশমিক ৪২ শতাংশ।
প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, শীর্ষে থাকা দাতা সংস্থা ও দেশের মধ্যে ভারত, চীন, জাপান, রাশিয়া এবং এআইআইবি নতুন করে কোনো ঋণ প্রতিশ্রুতি দেয়নি। শুধু এডিবি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ১২৬ কোটি ৯৭ লাখ ১০ হাজার ডলার, আইডিএ ১ কোটি ৮৪ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং অন্যান্য দেশ ৭০ কোটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার ডলারের।
প্রতিশ্রুতির মধ্যে ১৮৯ কোটি ৪৬ লাখ ১০ হাজার ডলার ঋণ আর অনুদান পাওয়া গেছে ৯ কোটি ৫৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে এই ঋণের প্রতিশ্রুতি ছিল ২২৯ কোটি ৮৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার। এর মধ্যে ২০০ কোটি ৮৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার ঋণ আর অনুদান পাওয়া গেছে ২৮ কোটি ৯৭ লাখ ৯০ হাজার ডলার।
একই সময়ে বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড় নেমে এসেছে ২৪৯ কোটি ৯৭ লাখ ২০ হাজার ডলারে, যেখানে গত অর্থবছরের প্রথমার্ধে তা ছিল ৩৫৩ কোটি ২৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার।
সার্বিক বিষয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, বিদেশি ঋণনির্ভরতা কমানোর চেষ্টা চলছে। এখন দেশীয় অর্থায়নের প্রকল্পে বেশি নজর দেওয়া হচ্ছে।

দেশে জ্বালানি গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিপরীতে দিনে দিনে কমছে দেশীয় উৎপাদন। ফলে এ খাতে আমদানি-নির্ভরতা বেড়েই চলছে। সরকার নতুন কূপ খনন এবং পুরোনো কূপ সংস্কারের (ওয়ার্কওভার) কিছু উদ্যোগ নিলেও তাতে উৎপাদন হ্রাস ঠেকানো যাচ্ছে না। এতে জরুরি শিল্প খাত যেমন ভুগছে, তেমনি চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন...
১ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) ফেরি ও যাত্রীসেবায় ই-টিকিটিং ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ প্রায় ১৫ মাসেও বাস্তবায়িত হয়নি। দরপত্র নিয়ে নানা জটিলতার কারণে এই সেবা চালুর জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বা ঠিকাদারও এখনো নিয়োগ হয়নি।
৩ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে পরিবেশবান্ধব ও সামাজিক উন্নয়নভিত্তিক বিনিয়োগ বাড়াতে থিম্যাটিক বন্ড বাজারকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। টেকসই অর্থায়নের কাঠামো গড়ে তুলতে দুই সংস্থার মধ্যে আজ বুধবার একট
৭ ঘণ্টা আগে
বিশ্বের শীর্ষ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আমাজন জানিয়েছে, কোম্পানির চলমান পুনর্গঠন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিশ্বব্যাপী আরও ১৬ হাজার কর্মী ছাঁটাই করা হবে। অক্টোবর মাসে প্রতিষ্ঠানটি প্রথম দফায় ১৪ হাজার পদ কমানোর ঘোষণা দিয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় মোট ছাঁটাইয়ের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৩০ হাজারে।
৮ ঘণ্টা আগে