Ajker Patrika

‘সিম করছাড়ের ১২০০ কোটি টাকার সুবিধা গ্রাহকেরা নন, পাবে অপারেটররা’

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭: ৪৪
‘সিম করছাড়ের ১২০০ কোটি টাকার সুবিধা গ্রাহকেরা নন, পাবে অপারেটররা’
আজ বুধবার রাজধানীতে ‘টেলিকম ও প্রযুক্তি খাতে বাজেটের প্রভাব’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নতুন সিমের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহারের মাধ্যমে সরকার প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ছাড় দিয়েছে। তবে এই ছাড়ের সুবিধা পাবে মোবাইল অপারেটররা, সাধারণ গ্রাহকেরা নন। আজ বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিডিবিএল ভবনে টেকনোলজি ইন্ডাস্ট্রি পলিসি অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের (টিআইপিএপি) এবং ভয়েস ফর রিফর্ম আয়োজিত ‘টেলিকম ও প্রযুক্তি খাতে বাজেটের প্রভাব’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টিআইপিএপির আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর। তিনি বলেন, সিমের ওপর কর তুলে দেওয়ার ফলে মূলত মোবাইল অপারেটরদের লাভ বাড়বে। তবে সাধারণ গ্রাহকেরা সরাসরি কোনো আর্থিক সুবিধা পাবেন না। এটি প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার দাম কমিয়ে ভোক্তাদের স্বস্তি দেওয়ার সরকারের বৃহত্তর নীতির সঙ্গে কিছুটা অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

ফাহিম মাশরুর টেলিকম ও তথ্যপ্রযুক্তির অন্যান্য খাতের বিষয়ে বলেন, বাজেটে স্টার্টআপের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা ও কর-সুবিধা ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে বাস্তবে এসব সুবিধা কতজন উদ্যোক্তা পাবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আর মোবাইল হ্যান্ডসেটের ক্ষেত্রে সরকার আমদানি নিরুৎসাহিত করে স্থানীয় মোবাইল ফোন সংযোজন শিল্পকে উৎসাহিত করতে চায়।

সেমিনারে টেলিকম বিশেষজ্ঞ মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, নতুন সিম বিক্রির ক্ষেত্রে একটি অপারেটরের ব্যয় ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০ টাকা। এর মধ্যে শুধু সিম ট্যাক্সই ছিল ৩০০ টাকা। বাকি অর্থ বিতরণ ব্যয়, খুচরা বিক্রেতার কমিশনসহ অন্যান্য খাতে খরচ হয়। সিম ট্যাক্স প্রত্যাহারের ফলে অপারেটরদের প্রতি সিমে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় কমে যাবে, যা সরাসরি তাদের আর্থিক সাশ্রয়ে পরিণত হবে।

মাহাতাব উদ্দিন বলেন, ‘আমি সিম ট্যাক্স প্রত্যাহারের বিরোধিতা করছি না। এটি ভালো সিদ্ধান্ত। কিন্তু এই ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার সুবিধা যদি গ্রাহকদের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর আরোপিত সম্পূরক শুল্ক (এসডি) কমানোর মাধ্যমে দেওয়া হতো, তাহলে দেশের মানুষ সরাসরি উপকৃত হতো।’

এ টেলিকম বিশেষজ্ঞ জানান, বর্তমানে একজন গ্রাহক মোবাইল অপারেটরকে ১০০ টাকা পরিশোধ করলে তার মধ্যে প্রায় ৩৯ টাকাই বিভিন্ন কর হিসেবে সরকারের কাছে যায়। অর্থাৎ টেলিকম খাতে সবচেয়ে বড় করদাতা আসলে গ্রাহক। অথচ এবারের বাজেটে গ্রাহকদের জন্য কোনো প্রত্যক্ষ সুবিধা রাখা হয়নি। বাজেটে অপারেটরদের জন্য রাজস্ব ভাগাভাগির ওপর ২ দশমিক ৫ শতাংশ উইথহোল্ডিং ট্যাক্স তুলে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নেটওয়ার্ক সেবার ওপর কর ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এসব সুবিধা শেষ পর্যন্ত অপারেটরদের মুনাফাই বাড়াবে।

মাহতাব উদ্দিনের মতে, টেলিকম খাতে মোট করের প্রায় ৭০ শতাংশই শেষ পর্যন্ত গ্রাহকদের পকেট থেকে আসে। নতুন বাজেট কার্যকর হওয়ার পর এই হার ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তিনি বলেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, দক্ষিণ এশিয়ায় মোবাইল ডেটার ক্রয়ক্ষমতা বা অ্যাফোর্ডেবিলিটির দিক থেকে বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে। তাই গ্রাহকের করের বোঝা কমানোই ছিল সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

শেয়ার ট্রিপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া হক বলেন, স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে ‘স্টার্টআপ’ শব্দটি এক দশকের বেশি সময় ধরে প্রচলিত। তবে এত দিন এটি মূলত একটি আকর্ষণীয় ধারণা হিসেবেই ছিল। একটি সফল স্টার্টআপ গড়ে তুলতে যে কঠোর পরিশ্রম, ঝুঁকি ও আত্মত্যাগের প্রয়োজন, তা নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে তেমন আলোচনা হয়নি। এবারই প্রথম জাতীয় বাজেটকে প্রকৃত অর্থে স্টার্টআপবান্ধব ও স্টার্টআপ ব্যবসাবান্ধব হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এবার প্রথমবারের মতো স্টার্টআপকে আলাদা একটি খাত হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। আগে স্টার্টআপকে শুধু আইসিটি বা সফটওয়্যার রপ্তানির অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু এবার এর নিজস্ব পরিচয় তৈরি হয়েছে। এটি অবশ্যই একটি বড় অগ্রগতি।

সেমিনারে আরও ছিলেন বেসিসের সাবেক পরিচালক ও ড্রিম ৭১-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশাদ কবির, বেসিসের সাবেক পরিচালক ও বন্ডস্টাইন টেকনোলজি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর শাহরুখ ইসলাম প্রমুখ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত