
পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে এখনো বাকি সপ্তাহতিনেক। এর মধ্যেই গরুর মাংসের বাজার যেন ‘গা গরম’ করতে শুরু করেছে। কোনো কোনো বাজারে এমন অবস্থাই দেখা গেছে গতকাল বৃহস্পতিবার। এত দিন যাঁরা ৭০০ টাকা কেজিতে গরুর মাংস বিক্রি করতেন এখন তাঁরা সাড়ে সাত শ রাখছেন। আর যাঁরা ৭৫০ টাকায় বিক্রি করতেন তাঁদের অনেকে ৭৮০ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছেন। কোথাও কোথাও ৮০০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে। কিন্তু বিক্রেতাদের দাবি, এই দাম আগে থেকেই ছিল।
গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচা, শান্তিনগর, মালিবাগ, মানিকনগর ও মুগদাসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, গরুর মাংস ও পোলাওয়ের চালসহ কয়েকটি উৎসবকেন্দ্রিক পণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে নিত্যদিনের প্রয়োজনের সবজি, পেঁয়াজ, মাছ, ডিম, মুরগি ও বিভিন্ন মুদিপণ্য বিক্রি হচ্ছে গত সপ্তাহের দামেই।
গতকাল সেগুনবাগিচা বাজারের গরুর মাংস বিক্রেতা মো. খোকন ৮০০ টাকা দাম চাইছিলেন। তবে দামাদামি করে ৭৮০ টাকায় কিনতে দেখা যায় কয়েকজন ক্রেতাকে। এ ছাড়া পরিচিত ক্রেতাদের কাছ থেকে ৭৫০ টাকা পর্যন্ত রাখেন খোকন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে খোকন বলেন, ‘হাটে এখন গরু কিনতে ৩-৪ হাজার টাকা বেশি লাগছে। তাই কেজিপ্রতির দামও কিছুটা বেশি রাখতে হয়।’
রাজধানীর মুগদা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, গরুর মাংস সেখানে বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা কেজিতে। এই বাজারের বিক্রেতা আব্দুস সালাম সপ্তাহখানেক আগেও ৭০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। তিনি বললেন, ‘এখন আর পোষাতে পারছি না। এখন দাম কম রাখলে মাংসের মান ঠিক রাখা যাবে না। মান ঠিক রাখতে দাম কিছুটা বাড়িয়েছি। আমি ছাড়া সবাই আগে থেকেই ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি।’
মাংস বিক্রেতারা বলছেন, রোজার মাসে মাংসের চাহিদা বাড়ে। এ ছাড়া রোজার আড়াই মাস পর কোরবানির জন্য অনেক খামারি গরু সংরক্ষণ করেন। এতে বাজারে গরুর সরবরাহ কমে দাম বেড়ে যায়।
রাজধানীর মানিকনগর বাজারে আসা মাংসের ক্রেতা মো. আলী বলেন, ‘একটা সময় ছিল শবে বরাতের কিছু আগে বাজার গরম হয়ে উঠত। তখন মাংসের বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে সিটি করপোরেশন দাম বেঁধে দিত। তবে শবে বরাতের বাজার নিয়ে আগ্রহ আগের মতো নেই। দামও বেঁধে দেওয়া হয় না। তবে হুজুগ একেবারে শেষ হয়েও যায়নি। তাই চাহিদা বাড়তে থাকায় মাংসের দাম বাড়ছে।’
সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বলছে, রাজধানীর খুচরা বাজারে গড়ে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০-৮০০ টাকা কেজি দরে। টিসিবির ভাষ্য, গত বছরও এ সময় গরুর মাংসের একই দাম ছিল।
প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০-১৮৫ টাকা কেজির মধ্যে। গতকালও এ দামেই বিক্রি হয়। ফার্মের ডিমের দাম প্রতি ডজন বাজারভেদে ছিল ১১০-১২০ টাকা।
শীতের সবজির সরবরাহ ভালো থাকায় স্থির রয়েছে গত সপ্তাহের দামেই। সপ্তাহখানেক ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়ার পর আলুর দাম আবার কমে ২০-২৫ টাকায় নেমেছে। বাজারে আকারভেদে ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিটি ৩০-৩৫, শিম প্রতি কেজি ৩০-৪০ টাকার মধ্যে কেনা যাচ্ছে। তবে শসা ও খিরার বাজার এখনো চড়া, দাম প্রতি কেজি ৭০-৮০ টাকা। প্রতি কেজি বেগুন মান ও জাতভেদে ৫৫-৮০ টাকার মধ্যে। প্রতিটি লাউ কিনতে ৭০-৮০ টাকা গুনতে হচ্ছে।
পেঁয়াজের বাজার স্থির রয়েছে গত সপ্তাহের দামেই। ভালো মানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকা কেজি। এ ছাড়া মানভেদে ৫০ টাকা কেজিতেও পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে।
দাম কিছুটা বেড়েছে প্যাকেটজাত সুগন্ধি চালের। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ টাকা দামে, যা সপ্তাহখানেক আগেও ছিল ১৬০ টাকার মধ্যে।
বেড়েছে খোলা সুগন্ধি চালের দামও। প্রতি কেজি খোলা চালের দাম দেখা গেল ১৫০-১৬০ টাকা। এত দিন ছিল ১৪০-১৫০ টাকা।
সেগুনবাগিচা বাজারের মুদিদোকানি মোস্তাফিজুর রহমান বললেন, মুদিসামগ্রীর মধ্যে ছোলা, চিনি, ডালসহ অনেক কিছুর দাম আগেই বেড়েছে। নতুন করে আর তেমন বাড়েনি। রোজার আগে হয়তো আর বাড়বে না।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি চিন্তায় ফেলে দিয়েছে বাংলাদেশের কৃষি খাতকে। বিশেষ করে জ্বালানি তেল ও সারের সরবরাহ নিয়ে গোটা বিশ্বের মতো উদ্বিগ্ন বাংলাদেশের কৃষকেরাও। দেশে সারের মোট চাহিদার একটি বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব ও কাতার থেকে।
২১ মিনিট আগে
টানা দরপতনের পর এবার দেশের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী সোনা ও রুপার দাম। আজ শনিবার (১৮ মার্চ) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। আজ সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং-এর এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
১ ঘণ্টা আগে
জ্বালানি তেলের সরবরাহ তদারকিতে দেশের সব জেলায় ভিজিল্যান্স টিম গঠন করেছে সরকার। পাশাপাশি অবৈধ মজুতদারি বন্ধে তথ্য দিলে পুরস্কারের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।
১৪ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে দক্ষিণ এশিয়ায়। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কা আবারও একটি সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে। দেশটিতে বর্তমানে জ্বালানি সংকট, মূল্যস্ফীতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ভেঙে পড়া—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অনেকটা ২০২২ সালের ভয়াবহ সংকটের স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে।
১৫ ঘণ্টা আগে