
ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। বর্তমানে এ সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে সীমিত আয়ের মানুষকে স্বস্তি দিতেই এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বুধবার রাজধানীতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রাক্-বাজেট আলোচনায় ডিসিসিআই এ প্রস্তাব তোলে। একই সঙ্গে তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির করহার সাড়ে ২৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা এবং বাণিজ্যিক আমদানিতে আগাম করহার সাড়ে ৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশে নামানোর সুপারিশ করা হয়।
ডিসিসিআইয়ের পক্ষে প্রস্তাব উপস্থাপন করেন সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ কে এম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী। সংগঠনটি মোট ৫৪টি প্রস্তাব দেয়, যার মধ্যে ১৬টি মূল সুপারিশ বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে অনলাইনে করপোরেট কর বিবরণী জমা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু, ভ্যাট আদায়ে জাতীয় মোবাইল অ্যাপ চালু এবং তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে উৎসে কর কর্তনের হার আবার ৫ শতাংশে নির্ধারণ।
ঢাকা চেম্বারের কাস্টমস ও ভ্যাটবিষয়ক কমিটির আহ্বায়ক এ বি এম লুৎফুল হাদি বলেন, বর্তমান মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় করমুক্ত আয়ের সীমা পুনর্বিবেচনা জরুরি। তিনি আরও জানান, করজাল সম্প্রসারণ, রাজস্ব ` সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ব্যবসা সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করাই এবারের প্রস্তাবনার মূল লক্ষ্য।
ডিসিসিআই বলেছে, অনলাইন করপোরেট রিটার্ন চালু হলে প্রতিষ্ঠানগুলো সহজ, স্বচ্ছ ও নিরাপদভাবে কর বিবরণী জমা দিতে পারবে। এতে অতিরিক্ত কাগজপত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজন কমবে এবং অন্যান্য করসেবার সঙ্গে সমন্বিত একটি ডিজিটাল ব্যবস্থা তৈরি হবে। একই প্ল্যাটফর্মে আপিল ও কর ফেরত প্রক্রিয়াও ব্যাংক হিসাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে, ফলে সময় ও ব্যয় কমবে।
সংগঠনটি আরও প্রস্তাব করেছে, উৎসে কর্তিত কর চূড়ান্ত কর দায়ের চেয়ে বেশি হলে তা পরবর্তী করবর্ষে সমন্বয় বা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফেরত নেওয়ার সুযোগ রাখা উচিত।
এ আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন ডিসিসিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. সালিম সোলায়মানসহ সংগঠনের অন্য নেতারা। প্রস্তাবনার বিষয়ে একমত পোষণ করে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, আসন্ন বাজেটে শুল্কহার কমানোর চেয়ে শুল্কবহির্ভূত প্রতিবন্ধকতা দূর করার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে, যাতে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমে এবং অর্থনীতিতে গতি ফেরে।
মো. সালিম সোলায়মান আরও বলেন, কর ফাঁকিদাতাদের শনাক্ত করে করের আওতায় আনা হবে এবং সৎ করদাতাদের হয়রানি কমানো হবে। একই সঙ্গে ভ্যাটের আওতা বাড়াতেও সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অন্যদিকে সেমিকন্ডাক্টর খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে ১৫ বছরের কর অবকাশ চেয়েছে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা। এ খাতে প্রতিবছর প্রায় ২০ হাজার স্নাতক বের হলেও প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তার অভাব রয়েছে বলে তাঁরা জানান।
প্রাক্-বাজেট আলোচনায় বিভিন্ন খাতের উদ্যোক্তারা আমদানি শুল্ক কমানো, অনলাইন ভ্যাট ব্যবস্থার জটিলতা দূর করা, উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট সুবিধা বজায় রাখা এবং ক্ষুদ্র শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার দাবি জানান।

দক্ষিণ আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশের হোম ডেকোর ও লাইফস্টাইল পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে ব্রাজিলে ‘হোম শো ব্রাজিল ২০২৬’ মেলায় অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) আর্থিক সহযোগিতায় এবং ব্রাজিলের ব্রাসিলিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের ব্যবস্থাপনায় সাও পাওলোর ডিস্ট্রিটো আনহেমবি প্রাঙ্গণে গতকাল মঙ্গলবার
৮ ঘণ্টা আগে
দেশের সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থায় বড় ধরনের লক্ষ্যভ্রষ্টতা দেখা দিয়েছে। যাঁদের জন্য কর্মসূচিগুলো, সেই দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বড় অংশ সুবিধার বাইরে; বিপরীতে সুবিধা পাওয়া মানুষের বড় অংশ দরিদ্র বা ঝুঁকিপূর্ণ নন। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
১৭ ঘণ্টা আগে
ব্যবসায়ীদের আমদানি পরিকল্পনায় কিছুটা আস্থা ফিরলেও এর প্রতিফলন এখনো প্রকৃত আমদানিতে দেখা যাচ্ছে না। সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নতুন আমদানি ঋণপত্র বা এলসি খোলা বেড়েছে ৭ দশমিক ০৬ শতাংশ। বিপরীতে এলসি নিষ্পত্তির মাধ্যমে পরিমাপ করা প্রকৃত আমদানি বেড়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ০৯ শতাংশ।
১৮ ঘণ্টা আগে
গ্যাস-সংকটের কারণে ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পকারখানাগুলোয় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস না পাওয়ায় অনেক কারখানাকে বয়লার ও জেনারেটর সচল রাখতে ডিজেলসহ অন্য বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে একদিকে উৎপাদন ব্যয় যেমন বাড়ছে, তেমনি কমছে উৎপাদনের পরিমাণ।
১৯ ঘণ্টা আগে