Ajker Patrika

৫ টাকার জিনিস ২৫ টাকা দেখানোর সংস্কৃতি বন্ধ হলেই বাজেট সফল: আবদুল মজিদ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১১ জুন ২০২৬, ১৮: ৪৩
৫ টাকার জিনিস ২৫ টাকা দেখানোর সংস্কৃতি বন্ধ হলেই বাজেট সফল: আবদুল মজিদ
এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ। ছবি: সংগৃহীত

বাজেটের আকার বড় না ছোট—এ বিতর্ককে গৌণ বলে মনে করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ। তাঁর মতে, মূল প্রশ্ন হলো—প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়ন করা যাবে কি না এবং সেই অনুযায়ী রাজস্ব আহরণ সম্ভব হবে কি না।

প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আবদুল মজিদ বলেন, অর্থনীতিকে সচল রাখা গেলে এবং শিল্প ও ব্যাংকিং খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান করা সম্ভব হলে রাজস্ব আহরণ কঠিন হবে না। তবে এর জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, পাঁচ টাকার জিনিস ২৫ টাকা দেখানোর সংস্কৃতি বন্ধ হলেই বাজেট সফল।

মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, অতীতে সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। প্রকৃত ব্যয়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের ঘটনাও ঘটেছে। এসব অনিয়ম বন্ধ করা গেলে ও প্রকৃত ব্যয় নিশ্চিত করা গেলে বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব নয়।

শুধু এনবিআর নয়, নজর দিতে হবে অন্য খাতেও

রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে শুধু জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন সাবেক এই চেয়ারম্যান। তাঁর মতে, নন-এনবিআর কর ও নন-ট্যাক্স রাজস্বের বড় সম্ভাবনা রয়েছে, যা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

আবদুল মজিদ বলেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষসহ (বিআরটিএ) বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আয় করে। এসব প্রতিষ্ঠানের আয় ও রাজস্ব সংগ্রহে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে অর্জিত অর্থ যথাযথভাবে সরকারি কোষাগারে জমা হয়।

আবদুল মজিদের মতে, বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় এনবিআরের বাইরে থাকা রাজস্ব উৎসগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। কারণ, সরকারের আয় বাড়ানোর জন্য কেবল কর আদায়ের ওপর নির্ভর করা দীর্ঘ মেয়াদে যথেষ্ট না-ও হতে পারে।

শিল্প ও ব্যাংক খাত সচল করাই বড় শর্ত

মোহাম্মদ আবদুল মজিদ মনে করেন, দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করতে না পারলে রাজস্ব আহরণও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাবে না। তিনি বলেন, শিল্প খাতের কার্যক্রম সম্প্রসারিত হলে এবং ব্যাংকিং খাতের বিদ্যমান সংকটগুলো সমাধান করা গেলে অর্থনীতিতে গতি ফিরবে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়লে সরকারের রাজস্ব আহরণও স্বাভাবিকভাবে বাড়বে।

আবদুল মজিদের মতে, বর্তমানে ব্যাংকিং খাতের নানা সমস্যা অর্থনীতির জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংক খাতের বিশৃঙ্খলা ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কর্মকাণ্ডকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে রাজস্ব আদায়ের ওপরও।

ব্যয়ে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতার ওপর জোর

সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আয়ের পথ তৈরি করার পাশাপাশি সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রেও কঠোর শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। বড় বাজেট প্রণয়ন করাই যথেষ্ট নয়, সেটি যেন কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং ব্যয়ের ক্ষেত্রে কোনো অস্বচ্ছতা না থাকে, তা নিশ্চিত করাও জরুরি।

আবদুল মজিদ মনে করেন, বাজেটের সাফল্য কেবল কাগুজে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে কতটা ভূমিকা রাখছে, সেটিই হবে প্রকৃত মূল্যায়নের মানদণ্ড।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত