
শিল্পের ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলো মূলধনি যন্ত্রপাতি ও শিল্পের কাঁচামাল। একটি দেশে বিনিয়োগ কতটা বাড়ল কিংবা কমল, নির্দিষ্ট সময়ের হিসাবে এ দুই উপকরণের আমদানি হ্রাস-বৃদ্ধির প্রবাহ থেকেই বোঝা যায়। সাধারণত ব্যাংক ও আর্থিক খাতে প্রচলিত নিয়ম, নীতি ও বিধানগুলোর প্রয়োগ শিল্পবান্ধব হলে দেশে মূলধনি যন্ত্রপাতি ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানি বাড়ে, এতে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের কর্মকাণ্ডও সচল হয়। এর সবকিছুই এখন অনুকূলে। ঋণের সুদ কমছে, পর্যাপ্ত তারল্যও আছে। এমনকি আমদানি নীতিও শিথিল হয়েছে।
স্বাভাবিকভাবেই এতে বেসরকারি বিনিয়োগের গতি আগের তুলনায় বাড়ার কথা, অথচ বাস্তবতা ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে শিল্পের মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি কমেছে ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ। একই সময়ে শিল্পের কাঁচামাল আমদানি কমেছে ৬ দশমিক ৯২ শতাংশ। অর্থাৎ নতুন কারখানা, উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো কিংবা নতুন যন্ত্রপাতি কেনায় উদ্যোক্তার আগ্রহ আগের চেয়ে কমেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, চলতি বছরের জুলাই মাসে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে ১৪ কোটি ৯৫ লাখ ডলারের এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে; যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। সেই হিসাবে আমদানি কমেছে ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার। একই সময়ে শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে ১৯৩ কোটি ৭৭ লাখ ডলার। ২০২৫ সালের একই সময়ে নিষ্পত্তির পরিমাণ ছিল ২০৮ কোটি ১৭ লাখ ডলার। আগের বছরের তুলনায় কাঁচামাল আমদানিতে এলসি নিষ্পত্তি কমেছে ১৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
সবকিছু অনুকূল থাকার পরও কেন মূলধনি যন্ত্রপাতি ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানি কমছে, এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা দুষলেন দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কথা। বিনিয়োগের স্থবিরতাকে এখন শুধু উচ্চ সুদ বা অর্থের সংকট দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না। ব্যবসায়িক আস্থার ঘাটতি, গ্যাস-বিদ্যুতের অনিশ্চয়তা, বাড়তি উৎপাদন ব্যয়, দুর্বল চাহিদা, নীতির স্থিতিশীলতাসহ আরও কিছু অনিশ্চয়তাও বড় বাধা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে ব্যাংকঋণের গড় সুদ ১১ দশমিক ৮১ শতাংশে নেমেছে, এক বছর আগে যা ছিল ১২ দশমিক ১৪ শতাংশ। বড় শিল্পের ঋণের সুদ ১২ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশে নেমেছে, যা এক বছর আগে ছিল ১২ দশমিক ৪৯ শতাংশ। কৃষিঋণের সুদও কমে ১১ দশমিক ৬৪ শতাংশ হয়েছে, এক বছর আগে ছিল ১১ দশমিক ৬৯ শতাংশ।
বাংলাদেশ-থাই চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি শামস মাহমুদ জানান, উদ্যোক্তারা এখন শুধু ঋণের সুদ দেখছেন না। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ, উৎপাদন ব্যয়, স্থিতিশীল চাহিদা এবং বিনিয়োগের অর্থ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনা করছেন। গ্যাসের ঘাটতিতে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে; কোথাও কারখানা বন্ধ থাকছে, আবার কোথাও ব্যয়বহুল বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। তাই নতুন সক্ষমতা বাড়ানোর বদলে অনেকে বিদ্যমান ব্যবসা টিকিয়ে রাখছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক গত জুলাইয়ে নীতি সুদ ৫০ ভিত্তি পয়েন্ট কমিয়ে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ করেছে। পাশাপাশি বিনিয়োগ বাড়াতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন শুরু করেছে। তারপরও বেসরকারি বিনিয়োগের খরা কাটছে না।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, শুধু অর্থের সরবরাহ বাড়ালেই বিনিয়োগ বাড়বে না। নীতিগত আস্থা ও স্থিতিশীলতাও জরুরি। পাশাপাশি সহনীয় উৎপাদন ব্যয়, নির্ভরযোগ্য জ্বালানি, দক্ষ অবকাঠামো এবং নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগও থাকা দরকার। ব্যাংকে অতিরিক্ত তারল্য থাকা সত্ত্বেও বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি দুর্বল। অর্থাৎ উৎপাদনশীল বিনিয়োগের ঋণচাহিদাই দুর্বল হয়ে পড়েছে।

দেশের পুঁজিবাজারে এখন গুজব, অনিশ্চয়তা ও আস্থার সংকট সমান্তরাল রেখায় চলছে। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর আচরণও বেশ অস্থির হয়ে উঠছে। সপ্তাহের বেশির ভাগ কার্যদিবসে বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দরপতনের পরিস্থিতি তাঁদের শঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
১ দিন আগে
দেশে সবুজ বিনিয়োগ ও টেকসই অর্থায়নের গতি থমকে গেছে। এ দুই খাতে অর্থায়ন আশঙ্কাজনক কমেছে। এতে ভবিষ্যৎ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতিও দুর্বল হচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি খরচ ও দূষণ কমিয়ে সবুজ উৎপাদন ও টেকসই শিল্পায়নের পথেও বড় বাধা তৈরি হয়েছে।
১ দিন আগে
দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের প্রায় ৯৫ শতাংশই মন্দ বা আদায় অযোগ্য ঋণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ মন্দ ঋণে ব্যাংকগুলোর আর্থিক ভিত্তি ক্রমেই দুর্বল হচ্ছে।অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, মন্দ ঋণ বাড়লে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ সক্ষমতা কমে যায়।
১ দিন আগে
নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্তি উদ্যাপন করছে দেশের অন্যতম নৃত্যশিক্ষা প্রতিষ্ঠান নৃত্যাঞ্চল। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে তিন দিনব্যাপী আয়োজিত রজতজয়ন্তী উৎসবে নৃত্যশিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো প্রাঙ্গণ।
১ দিন আগে