
আসন্ন দুর্গাপূজার উৎসবের মৌসুমে ভারতে সুস্বাদু ইলিশ মাছ রপ্তানি না করারই জোরালো ইঙ্গিত দিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ভারত থেকে ইলিশের আমদানিও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়েছে ঢাকা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যকার ইলিশ বাণিজ্যে এক ধরনের বিপরীতমুখী চিত্র দেখা যায়, যেখানে ভারত থেকেই ৫০০ টনের বেশি ইলিশ বাংলাদেশে রপ্তানি করা হয়েছিল। তবে এর কিছুদিন পর হুট করেই বাণিজ্য চিত্রে এমন আকস্মিক ও অভূতপূর্ব পরিবর্তন নেমে এলো, যা ভারতের মাছপ্রেমীদের চরমভাবে হতাশ করেছে।
পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার মাছ ব্যবসায়ীদের মতে, প্রতি বছর দুর্গাপূজার আগে বাংলাদেশ সরকার নির্দিষ্ট পরিমাণ ও নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে ভারতে ইলিশ রপ্তানির যে প্রথা মেনে আসছিল, এবার তার ব্যতিক্রম ঘটেছে। পশ্চিমবঙ্গের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং হাওড়া পাইকারি মাছ বাজারের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ ইকোনমিক টাইমসকে জানান, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্ত ছাড়পত্র ২৩ সেপ্টেম্বর জারি করা একটি সার্কুলারের মাধ্যমে আকস্মিকভাবে বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ এবার ভারত থেকেও ইলিশ আমদানির প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়েছে।
সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ আরও ব্যাখ্যা করে বলেন, প্রতি বছর ১৫ থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সরকার একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ইলিশ আমদানির অনুমতি দিত এবং সেই আমদানির পরিমাণও নির্দিষ্ট করে দিত। কিন্তু এবার সেই নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেছে। তা ছাড়া আগামী ৭ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে জেলেদের ইলিশ ধরা বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে সময় পেরিয়ে যাওয়ার কারণে এবার আর ইলিশ আমদানির কোনো সুযোগ অবশিষ্ট নেই।
বাংলাদেশ থেকে আসা ইলিশের, বিশেষ করে বিখ্যাত পদ্মার ইলিশের পশ্চিমবঙ্গে ও ভারতের বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ভারতীয় আমদানিকারকেরা এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে আখ্যায়িত করেছেন। সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ উল্লেখ করেন, এটি অত্যন্ত আশ্চর্যজনক কারণ বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তোলপাড়ের সময়ে এবং সেখানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও ভারতের আমদানিকারকদের ইলিশ আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এবার সেই সুযোগ মিলছে না।
পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং এজেন্টস স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশের চলাচল এখন সম্পূর্ণ থমকে গেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ভারতের বাজারে ইলিশ প্রবেশের বিষয়টিও হয়তো আর অনুমোদন করবে না। সরকারের এই সিদ্ধান্ত কী কারণে নেওয়া হয়েছে সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকলেও, এ ঘটনাকে তারা নজিরবিহীন বলে মনে করছেন।
এর আগে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। গত আগস্ট মাসেই ভারতীয় ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের একটি প্রতিনিধি দল বিশেষ সফরে ঢাকায় এসে বাংলাদেশের বাণিজ্যসচিব আতাউর রহমান খানের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে তাঁরা ভারতে ইলিশ রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে প্রথম ভারতে ইলিশ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। তবে ২০১৯ সাল থেকে প্রতি বছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে উৎসবের সময় পারাপারের জন্য সীমিত সময়ের জন্য বিশেষ মেয়াদে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়ে আসছিল বাংলাদেশ।
ঐতিহাসিক তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এই উৎসবকালীন বিশেষ ছাড়পত্রের আওতায় ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ভারত বাংলাদেশ থেকে ৫০০ টন ইলিশ আমদানি করে। পরবর্তী বছর, অর্থাৎ ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে সেই আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৮৫০ টনে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে ১ হাজার ২০০ টন এবং ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ১ হাজার ৩০০ টন ইলিশ ভারতে পাঠানো হয়েছিল। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে রপ্তানির পরিমাণ কমে হয় ৫৮৭ টন এবং ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের বাজারে আসে ৫৭৭ টন ইলিশ। সর্বশেষ বছর এটি অনেকটাই কমে নেমে এসেছিল প্রায় ১৫০ টনে।
তবে চলতি বছরে দুই দেশের ইলিশ বাণিজ্যের চিত্রে এক বড় ধরনের বিপরীতমুখী ধারা দেখা দেয়। গত দুই মাসের মধ্যে ভারতের পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে উল্টো ৫০০ টনেরও বেশি ইলিশ বাংলাদেশে পাঠান ভারতের ব্যবসায়ীরা। ভারত থেকে পাঠানো ইলিশের এই বড় চালানের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সংগৃহীত হয়েছিল গুজরাটের ভারুচ অঞ্চল থেকে, পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া পাইকারি মাছ বাজার থেকেও কিছু অংশ সরবরাহ করা হয়। এসব ইলিশ বিক্রি হয় বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, সিলেটসহ বিভিন্ন জেলায়। বাংলাদেশিরা এগুলো তাজা খাওয়ার পাশাপাশি নোনা ইলিশ ও শুঁটকি জাতীয় খাবার তৈরিতেও ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু সম্প্রতি সব ধরনের সার্কুলার বাতিল করায় দুই দেশের ইলিশ আদান-প্রদান একেবারেই থমকে গেল।

দেশের বাজারে সোনা ও রুপার দাম কমেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, তেজাবী সোনা ও রুপার (পিউর গোল্ড ও সিলভার) দাম কমায় দেশের বাজারে সোনা ও রুপার গয়নার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির চাপ যে বাজারে পড়বে, তা আগে থেকেই আশঙ্কা করা হচ্ছিল। এর মধ্যেই হঠাৎ করে এল জ্বালানি তেলের ‘বড় অঙ্কের’ মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা। এতে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে চারদিক দিয়ে। বড় নড়াচড়া শুরু হয়েছে নিত্যপণ্যের বাজারে।
১ দিন আগে
বিশ্বের বৃহত্তম মুক্তবাণিজ্য ব্লক আরসেপে বাংলাদেশের সদস্য হওয়ার প্রক্রিয়া এবার আনুষ্ঠানিক আলোচনার পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাংলাদেশসহ চার আবেদনকারী অর্থনীতির সদস্যপদ দেওয়ার বিষয়ে কারিগরি পর্যালোচনার কাজ এগিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে জোটটি। এ লক্ষ্যে একটি বিশেষ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের অনুমোদন দিয়েছেন আরসেপ জোটের....
২ দিন আগে
দেশে পাঁচটি ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনের প্রাথমিক অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এসব ব্যাংককে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) দেওয়া হবে। এরপরই প্রক্রিয়া শেষে কার্যক্রম শুরু করতে পারবে ব্যাংকগুলো...
২ দিন আগে