জয়নাল আবেদীন খান, ঢাকা

দেশে ডলার সরবরাহে সংকট ও দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি মূল্যস্ফীতিকে উসকেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকেন্দ্রিক বৈশ্বিক অস্থিরতা আরও উসকে দিয়েছে বাজারে ডলারের এই অস্থিশীলতাকে। ফলে দিন দিন ডলার আরও দামি হয়েছে এবং টাকার মান আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। এই পরিস্থিতি জ্বালানি, সার, তেল, শিশুখাদ্যসহ সব ধরনের আমদানি খরচের পাশাপাশি স্থানীয় ও বৈদেশিক রুটে সড়ক, নৌ ও আকাশপথের পরিবহন ব্যয় বাড়িয়ে তুলেছে। এসবের সার্বিক প্রভাব পড়েছে ভোগ্য, ব্যবহার্য ও সেবার দামের ওপর; যা দেশকে দুই অঙ্কের মূল্যস্ফীতির মুখোমুখি করেছে।
অবশ্য অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা এ দাবির পক্ষে অভিন্ন মতামত দিয়ে ঊর্ধ্বগতির এই মূল্যস্ফীতির পেছনে তাঁরা কিছু বাড়তি দুষ্টচক্র সূচককেও যোগ করেছেন। বলেছেন, দুর্বল বাজার মনিটরিং, ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফা, ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজি, আইনের সঠিক ব্যবহার না হওয়া এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নজির তৈরি না হওয়াও এর জন্য দায়ী।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডলারের বিপরীতে টাকার মান প্রায় ৪ বছরে কমেছে ৩৫ টাকা ২০ পয়সা বা ৪১ দশমিক ৫১ শতাংশ; যা মূল্যস্ফীতিকে সরাসরি চোখ রাঙিয়েছে। এ কারণে সরকার বাজেটে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য সাড়ে ৬ শতাংশে ধরে রাখার ঘোষণা দিলেও সেটি ইতিমধ্যে দুই অঙ্কের কোটা ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশ ছাড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঊর্ধ্বগতির এই মূল্যস্ফীতির চাপে এখন শুধু সীমিত আয়ের মানুষই বিপাকে পড়েনি, ভিত্তি দুর্বল করে তুলেছে মধ্যবিত্তেরও।
জানা যায়, দেশে ১৯৭২ সালে প্রতি ডলারের দাম ছিল ৭ টাকা ৮৮ পয়সা; যা ২০০৪ সালে হয় ৫৯ টাকা ৬৯ পয়সা। আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পরে ওই ডলারের দাম পৌঁছায় ৬৭ টাকা। পরে দ্বিতীয় মেয়াদে ২০১৪ সালে প্রতি ডলারের দাম দাঁড়ায় ৬৯ টাকা ৭০ পয়সা। পর্যায়ক্রমে তা ২০২০ এবং ২০২১ সালে দাঁড়ায় ৮৪ টাকা ৯০ পয়সা এবং ৮৪ টাকা ৮০ পয়সা। কিন্তু ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে ডলারের তেজ বাড়তে থাকায় সবশেষ প্রতি ডলারের দর দাঁড়িয়েছে ১২০ টাকায়; যা খোলাবাজারে বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকা। আর এতেই লাগামহীন হয়ে পড়ে মূল্যস্ফীতি।
ডলারের দর বাজারের ওপর ছেড়ে না দিয়ে একটা দীর্ঘ সময় আটকে রেখে হঠাৎ ছেড়ে দেওয়ায় দেশে ডলারের দরে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম। তিনি বলেন, এতে জ্বালানি, পরিবহন এবং আমদানি পণ্যের দাম হঠাৎ কর বেড়ে গেছে; যার চাপ সামলাতে মানুষ হিমশিম খাচ্ছে। ভোক্তাদের দুর্গতি ডেকে এনেছে।
২০২২ সালের ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে ২০২১ সালের ডিসেম্বরের ৮৪ টাকা ৮০ পয়সার ডলারের দাম পরের বছর হয় ১০৫ টাকা ৪০ পয়সা; যা ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে হয় ১০৯ টাকা ৫০ পয়সা। তবে খোলাবাজারে ১৩১ টাকা রেকর্ড দরে ডলার বিক্রি হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক খোলাবাজার এবং আন্তব্যাংক রেটের ব্যবধান কমাতে গত ৮ মে ডলারের দর এক দিনে ৭ টাকা বৃদ্ধি করে ১১৭ টাকায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর স্বল্প সময়ের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ২০ শতাংশ হয়। এরপর ডলারের দর এবং মূল্যস্ফীতি ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। সবশেষ ডলারের দর দাঁড়িয়েছে ১২০ টাকা। আর মূল্যস্ফীতি জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে গিয়ে দাঁড়ায় যথাক্রমে ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশ, ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ক্রলিং পেগ পদ্ধতিতে ডলারের দর অনেকটা বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এতে ডলার-খরা কমেছে। পাশাপাশি চলতি অর্থবছরের তিন মাসে মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী হতে শুরু করেছে।

দেশে ডলার সরবরাহে সংকট ও দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি মূল্যস্ফীতিকে উসকেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকেন্দ্রিক বৈশ্বিক অস্থিরতা আরও উসকে দিয়েছে বাজারে ডলারের এই অস্থিশীলতাকে। ফলে দিন দিন ডলার আরও দামি হয়েছে এবং টাকার মান আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। এই পরিস্থিতি জ্বালানি, সার, তেল, শিশুখাদ্যসহ সব ধরনের আমদানি খরচের পাশাপাশি স্থানীয় ও বৈদেশিক রুটে সড়ক, নৌ ও আকাশপথের পরিবহন ব্যয় বাড়িয়ে তুলেছে। এসবের সার্বিক প্রভাব পড়েছে ভোগ্য, ব্যবহার্য ও সেবার দামের ওপর; যা দেশকে দুই অঙ্কের মূল্যস্ফীতির মুখোমুখি করেছে।
অবশ্য অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা এ দাবির পক্ষে অভিন্ন মতামত দিয়ে ঊর্ধ্বগতির এই মূল্যস্ফীতির পেছনে তাঁরা কিছু বাড়তি দুষ্টচক্র সূচককেও যোগ করেছেন। বলেছেন, দুর্বল বাজার মনিটরিং, ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফা, ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজি, আইনের সঠিক ব্যবহার না হওয়া এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নজির তৈরি না হওয়াও এর জন্য দায়ী।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডলারের বিপরীতে টাকার মান প্রায় ৪ বছরে কমেছে ৩৫ টাকা ২০ পয়সা বা ৪১ দশমিক ৫১ শতাংশ; যা মূল্যস্ফীতিকে সরাসরি চোখ রাঙিয়েছে। এ কারণে সরকার বাজেটে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য সাড়ে ৬ শতাংশে ধরে রাখার ঘোষণা দিলেও সেটি ইতিমধ্যে দুই অঙ্কের কোটা ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশ ছাড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঊর্ধ্বগতির এই মূল্যস্ফীতির চাপে এখন শুধু সীমিত আয়ের মানুষই বিপাকে পড়েনি, ভিত্তি দুর্বল করে তুলেছে মধ্যবিত্তেরও।
জানা যায়, দেশে ১৯৭২ সালে প্রতি ডলারের দাম ছিল ৭ টাকা ৮৮ পয়সা; যা ২০০৪ সালে হয় ৫৯ টাকা ৬৯ পয়সা। আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পরে ওই ডলারের দাম পৌঁছায় ৬৭ টাকা। পরে দ্বিতীয় মেয়াদে ২০১৪ সালে প্রতি ডলারের দাম দাঁড়ায় ৬৯ টাকা ৭০ পয়সা। পর্যায়ক্রমে তা ২০২০ এবং ২০২১ সালে দাঁড়ায় ৮৪ টাকা ৯০ পয়সা এবং ৮৪ টাকা ৮০ পয়সা। কিন্তু ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে ডলারের তেজ বাড়তে থাকায় সবশেষ প্রতি ডলারের দর দাঁড়িয়েছে ১২০ টাকায়; যা খোলাবাজারে বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকা। আর এতেই লাগামহীন হয়ে পড়ে মূল্যস্ফীতি।
ডলারের দর বাজারের ওপর ছেড়ে না দিয়ে একটা দীর্ঘ সময় আটকে রেখে হঠাৎ ছেড়ে দেওয়ায় দেশে ডলারের দরে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম। তিনি বলেন, এতে জ্বালানি, পরিবহন এবং আমদানি পণ্যের দাম হঠাৎ কর বেড়ে গেছে; যার চাপ সামলাতে মানুষ হিমশিম খাচ্ছে। ভোক্তাদের দুর্গতি ডেকে এনেছে।
২০২২ সালের ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে ২০২১ সালের ডিসেম্বরের ৮৪ টাকা ৮০ পয়সার ডলারের দাম পরের বছর হয় ১০৫ টাকা ৪০ পয়সা; যা ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে হয় ১০৯ টাকা ৫০ পয়সা। তবে খোলাবাজারে ১৩১ টাকা রেকর্ড দরে ডলার বিক্রি হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক খোলাবাজার এবং আন্তব্যাংক রেটের ব্যবধান কমাতে গত ৮ মে ডলারের দর এক দিনে ৭ টাকা বৃদ্ধি করে ১১৭ টাকায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর স্বল্প সময়ের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ২০ শতাংশ হয়। এরপর ডলারের দর এবং মূল্যস্ফীতি ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। সবশেষ ডলারের দর দাঁড়িয়েছে ১২০ টাকা। আর মূল্যস্ফীতি জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে গিয়ে দাঁড়ায় যথাক্রমে ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশ, ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ক্রলিং পেগ পদ্ধতিতে ডলারের দর অনেকটা বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এতে ডলার-খরা কমেছে। পাশাপাশি চলতি অর্থবছরের তিন মাসে মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী হতে শুরু করেছে।

নেপাল ও বাংলাদেশ ঢাকায় বাণিজ্যসচিব পর্যায়ের বৈঠক পুনরায় শুরু করতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা বিষয়গুলো, বিশেষ করে প্রস্তাবিত দ্বিপক্ষীয় প্রেফারেনশিয়াল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (পিটিএ) বা অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি এবং এর আওতাভুক্ত পণ্যের তালিকার বিষয়টি পুনরায় আলোচনায় আসবে।
১ ঘণ্টা আগে
ব্যাংক খাতকে ঘিরে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানামুখী পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত দীর্ঘদিনের ভয় ও অনিশ্চয়তা ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করেছে। অনিয়ম-দুর্নীতি আর লুটপাটের অভিযোগে যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল, সেই জায়গা থেকে মানুষ আবার ব্যাংকমুখী হচ্ছে। একসময় আতঙ্কে তুলে নেওয়া নগদ টাকা এখন ফের জমা পড়ছে ব্যাংকে।
৯ ঘণ্টা আগে
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (আরএডিপি) বড় ধরনের কাটছাঁটের মুখে পড়ছে আটটি মেগা প্রকল্প। পরিকল্পনা কমিশনের খসড়া অনুযায়ী, এসব প্রকল্পে বরাদ্দ কমছে মোট ১৩ হাজার ৩৪৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা। অবকাঠামো খাতেই এই সংকোচন সবচেয়ে বেশি।
৯ ঘণ্টা আগে
দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের মন্দা দেখা দেওয়ায় হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) এ ঘাটতির পরিমাণ ১ হাজার ১৩ কোটি টাকা।
৯ ঘণ্টা আগে