Ajker Patrika

কেএলডি অ্যাপারেলস: বন্ড অপব্যবহারে ৪.৮৫ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি

  • ১৭৯ টন কাপড় ও অ্যাকসেসরিজ খোলাবাজারে বিক্রি।
  • আছে পরিকল্পিত রপ্তানি জালিয়াতির অভিযোগ।
  • ১৫ বছর নজরদারির বাইরে ছিল প্রতিষ্ঠানটি।
‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
কেএলডি অ্যাপারেলস: বন্ড অপব্যবহারে ৪.৮৫ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি

বন্ড সুবিধার আড়ালে কেএলডি অ্যাপারেলস লিমিটেডের বিরুদ্ধে শুল্ক-কর ফাঁকি ও রপ্তানি জালিয়াতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠে এসেছে কাস্টমসের এক তদন্তে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত তিন বছরে প্রতিষ্ঠানটি বন্ড সুবিধায় আমদানি করা ১৭৯ টন কাপড় ও অ্যাকসেসরিজ উৎপাদনে ব্যবহার না করে ইসলামপুরসহ বিভিন্ন অনুমোদনহীন বাজারে বিক্রি করেছে। এতে শুল্ক-কর পরিশোধ না হওয়ায় সরকারের ৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকার বেশি রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র শেষ সাত মাসেই প্রতিষ্ঠানটি ৬৪ টনের বেশি কাপড় ও অ্যাকসেসরিজ আমদানি করে, যার বিপরীতে ২ কোটি ৭২ লাখ টাকার শুল্ক-কর পরিশোধ করা হয়নি।

কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, ঢাকার (উত্তর) প্রিভেন্টিভ টিমের এই তদন্তে দেখা গেছে, রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য দেওয়া বন্ড সুবিধা কেএলডি অ্যাপারেলস নিয়মিতভাবে অপব্যবহার করেছে। শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানি করা হলেও বাস্তবে কোনো উৎপাদন কার্যক্রম চালানো হয়নি। ৮ জানুয়ারি অভিযানে গিয়ে প্রিভেন্টিভ টিম ফ্যাক্টরিতে কোনো বন্ডেড কাঁচামাল বা উৎপাদনের চিহ্ন পায়নি। বরং একটি ওয়্যারহাউসে ১৭ হাজার ৪৮৮টি ডেনিম প্যান্ট মজুত পাওয়া যায়, যদিও এই ধরনের ডেনিম কাপড় প্রতিষ্ঠানটি কখনো আমদানি করেনি। রপ্তানি নথি যাচাই করে দেখা যায়, সাত মাসে ১০ হাজার ৫০০ কেজি পোশাক রপ্তানি দেখানো হয়েছে, যার বড় অংশ নিট ফ্যাব্রিকসের তৈরি। অথচ ওই সময়ে নিট ফ্যাব্রিকস আমদানির কোনো রেকর্ড নেই।

তদন্তে আরও উঠে আসে, কেএলডি অ্যাপারেলসের নামে থাকা রপ্তানি ঘোষণাপত্র ব্যবহার করে অন্য ব্যবসায়ীদের মজুত পণ্য কাগজে-কলমে রপ্তানি দেখানো হয়েছে। আবার ইউডি ব্যবহার করে বাস্তবে রপ্তানি না করেই রপ্তানির তথ্য উপস্থাপন করা হয়। কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, এটি পরিকল্পিত রপ্তানি জালিয়াতি।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সূত্র জানায়, আগেও এফওসি সুবিধায় আমদানি করা কাপড় কার্টিং তদারকির শর্ত ভেঙে বাজারে বিক্রি করা হয়েছে, যেখানে একটি অসাধু সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের মাধ্যমে ঘুষের বিনিময়ে পণ্য ছাড় করানো হতো।

এ বিষয়ে চেষ্টা করেও কেএলডি অ্যাপারেলস লিমিটেডের দায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রিভেন্টিভ টিমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শুল্ক-কর আদায়সহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

সাবেক আমলা ফিরোজ মিয়ার মতে, দীর্ঘদিন কার্যকর নজরদারি না থাকায় এমন অনিয়ম হয়েছে, যার দায় শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, পুরো তদারকি ব্যবস্থার ওপরও পড়ে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত