ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে আমদানি করা গাড়ির ওপর শুল্ক বড় পরিসরে কমাতে যাচ্ছে ভারত। চলমান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) অংশ হিসেবে ইইউভুক্ত দেশগুলোর গাড়ির ওপর সর্বোচ্চ ১১০ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে তা ৪০ শতাংশে নামানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে ভারত সরকার। সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন দীর্ঘদিনের আলোচনার পর মঙ্গলবার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা আসতে পারে। আলোচনার সঙ্গে যুক্ত দুইটি সূত্র জানিয়েছে, এই চুক্তির আওতায় ১৫ হাজার ইউরোর (প্রায় ১৭ হাজার ৭৩৯ ডলার) বেশি মূল্যের সীমিত সংখ্যক ইইউ-নির্মিত গাড়ির ওপর তাৎক্ষণিকভাবে শুল্ক কমানো হবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই শুল্ক আরও কমিয়ে ১০ শতাংশে নামানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে বছরে প্রায় দুই লাখ অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিনচালিত (কমবাসশন ইঞ্জিন) গাড়ির ক্ষেত্রে এই শুল্ক ছাড় প্রযোজ্য হতে পারে। তবে শেষ মুহূর্তে কোটা বা শর্তে পরিবর্তন আসতে পারে।
ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ইউরোপীয় কমিশন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
‘মাদার অব অল ডিলস’
ভারত ও ইইউর এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে ইতিমধ্যে ‘মাদার অব অল ডিলস’ আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। চুক্তিটি কার্যকর হলে দুই অঞ্চলের মধ্যে বাণিজ্য ব্যাপকভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্কের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ভারতের বস্ত্র ও গয়না খাত নতুন সুযোগ পেতে পারে।
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম গাড়ির বাজার ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পরেই এর অবস্থান। তবে দেশটির গাড়ি শিল্প দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চ শুল্কে সুরক্ষিত। বর্তমানে আমদানিকৃত গাড়ির ওপর ৭০ থেকে ১১০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়, যা নিয়ে একাধিক আন্তর্জাতিক গাড়ি নির্মাতা, এমনকি টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কও প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন।
বৈদ্যুতিক গাড়িতে ছাড় পরে
চুক্তির আওতায় ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) প্রাথমিক পাঁচ বছর শুল্ক ছাড়ের বাইরে থাকবে। দেশীয় নির্মাতা মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা ও টাটা মোটরসের মতো প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ সুরক্ষিত রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো। পাঁচ বছর পর ইভি খাতেও একই ধরনের শুল্ক ছাড় কার্যকর হতে পারে।
ইউরোপীয় নির্মাতাদের বড় সুবিধা
শুল্ক কমানোর ফলে ইউরোপীয় গাড়ি নির্মাতারা বড় সুবিধা পাবে। ভক্সভাগেন, রেনো, স্টেলান্টিসের পাশাপাশি বিলাসবহুল ব্র্যান্ড মার্সিডিজ-বেঞ্জ ও বিএমডব্লিউ—যারা ইতিমধ্যে ভারতে উৎপাদন করলেও উচ্চ শুল্কের কারণে বাজার সম্প্রসারণে বাধার মুখে পড়েছিল—তারা এবার আমদানি করা গাড়ি তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করতে পারবে।
বর্তমানে ভারতের প্রায় ৪৪ লাখ ইউনিটের বার্ষিক গাড়ি বাজারের দুই-তৃতীয়াংশ দখলে রেখেছে জাপানের সুজুকি ও দেশীয় ব্র্যান্ড মাহিন্দ্রা ও টাটা। ইউরোপীয় নির্মাতাদের বাজার অংশীদারত্ব চার শতাংশেরও কম। তবে ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের গাড়ির বাজার ছয় মিলিয়ন ইউনিটে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই সম্ভাবনাকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে নতুন বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো। রেনো নতুন কৌশলে ভারতের বাজারে ফেরার পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে, ভক্সভাগেন গ্রুপ তাদের স্কোডা ব্র্যান্ডের মাধ্যমে ভারতে পরবর্তী বিনিয়োগ ধাপ চূড়ান্ত করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শুল্ক ছাড় কার্যকর হলে ভারতের গাড়ি বাজারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং দেশটির দীর্ঘদিনের সুরক্ষিত অটো খাতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

বিশ্ববাজারে সোনা ও রুপার ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধিতে দেশের বাজারেও রেকর্ডের পর রেকর্ড হচ্ছে। এবার সোনার দাম ভরিতে একলাফে ৫ হাজার ২৪৯ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এখন থেকে দেশের বাজারে প্রতি ভরি (২২ ক্যারেটের) সোনা বিক্রি হবে ২ লাখ ৬২ হাজার ৪৪০ টাকায়।
৯ ঘণ্টা আগে
দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানো এবং বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা উৎপাদন বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সামরিক শিল্পাঞ্চল গড়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বাতিল হওয়া ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জায়গায় এই শিল্পাঞ্চল স্থাপন করা হবে। আজ সোমবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ...
১০ ঘণ্টা আগে
সভা শেষে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান, আনোয়ারায় প্রায় ৬০০ থেকে ৬৫০ একর জমির ওপর এই ফ্রি ট্রেড জোন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
১০ ঘণ্টা আগে
দেশের খেলাপি ঋণের লাগাম টানা ও বন্ড মার্কেট উন্নয়নে ব্যাংকিং খাত থেকে করপোরেট প্রতিষ্ঠানের বড় ঋণ দেওয়ার পরিমাণ কমিয়ে আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
১১ ঘণ্টা আগে