Ajker Patrika

বাজেটে বেসরকারি খাতে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে: সিপিডির খন্দকার গোলাম

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
বাজেটে বেসরকারি খাতে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে: সিপিডির খন্দকার গোলাম
সংসদ ভবনের জেনারেল এম এ জি ওসমানী গেটের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঘোষিত নতুন বাজেটে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ বা সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সংসদ ভবনের জেনারেল এম এ জি ওসমানী গেটের সামনে বাজেট-পরবর্তী তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই আশঙ্কার কথা জানান সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

ড. মোয়াজ্জেম বলেন, ‘এবারের বাজেটে আমাদের যে মূল আশঙ্কা হচ্ছে, তা হলো—বেসরকারি খাতে ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে একটা বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। এই সংকট মোকাবিলায় সরকারের উচিত হবে কেবল অভ্যন্তরীণ উৎসের ওপর নির্ভর না করে, বহিস্থ বা আন্তর্জাতিক উৎস থেকে কীভাবে বেসরকারি খাতের জন্য ফান্ড-ফ্লো (অর্থের প্রবাহ) নিয়ে আসা যায় এবং তাদের জন্য ঋণের বিকল্প ব্যবস্থা করা যায়, সেটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা।’

বাজেটের কিছু ইতিবাচক দিক উল্লেখ করে সিপিডির এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘একটি বিষয়কে আমরা বিশেষভাবে সাধুবাদ জানাতে চাই—সরকার এবার রাজস্ব আদায়ের জন্য বেশ কিছু নতুন নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে। বিশেষ করে করজাল বিস্তৃত করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত ইতিবাচক। এটি যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে আমার ধারণা তা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জন্য একটা বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে।’

সরকারের নতুন বাজেটকে বেশ বড় আকারের উল্লেখ করে ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম এর অর্থায়নের উৎস নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘অর্থের সংস্থানের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায়ের যে বিশাল লক্ষ্যমাত্রা বা টার্গেট দেওয়া হয়েছে, তা অর্জন করা বেশ কষ্টকর। তবে মনে হচ্ছে সরকার এবার একটা বড় চ্যালেঞ্জ নিতে চাচ্ছে।’

বাজেট ঘাটতি অর্থায়নের বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্লেষণ তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘বাজেটের যে ঘাটতি রয়েছে, তা পূরণের ক্ষেত্রে কাগজে-কলমে দেখানো হয়েছে যে সরকার বৈদেশিক ঋণ কম-বেশি নেবে এবং অভ্যন্তরীণ উৎস বা ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে তুলনামূলক কম ঋণ নেবে। কিন্তু বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক বাস্তবতা বলছে, আদতে হয়তো লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বিদেশি ঋণ এতটা পাওয়া সম্ভব হবে না। আর এমনটা হলে, সরকার শেষ পর্যন্ত ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ঋণের ওপরই বেশি নির্ভর করবে—এমনটাই আমরা অনুমান করছি।’ আর সরকার ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নিলে তা বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহকে সংকুচিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত