Ajker Patrika

জ্বালানি পাচার রোধে মূল্য সমন্বয় করেছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী অমিত

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭: ১৩
জ্বালানি পাচার রোধে মূল্য সমন্বয় করেছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী অমিত
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। ফাইল ছবি

বৈদেশিক মুদ্রায় কেনা জ্বালানি তেল প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাচার হওয়ার ঝুঁকি রোধ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) বিপুল লোকসান কমাতে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

আজ সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, অজনপ্রিয় হলেও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বাধ্য হয়ে সরকারকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর প্রথম প্রহর (রোববার দিবাগত রাত ১২টা) থেকে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে জনগণের ওপর প্রভাব যেন সর্বনিম্ন রাখা যায়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে ইতিমধ্যে নির্দেশ দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে একমাত্র বাংলাদেশেই জ্বালানি তেলের দাম সবচেয়ে কম ছিল। ফলে প্রবাসীদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রায় কেনা জ্বালানি তেল প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোতে পাচার হওয়ার তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘আমাদের প্রবাসী ভাইদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা, যা আমাদের রিজার্ভের প্রধানতম খাত—সেই মুদ্রায় কেনা জ্বালানি তেল প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোতে পাচার হওয়ার ঝুঁকির মুখে পড়েছিলাম আমরা। এমতাবস্থায় সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে এবং পাচার বন্ধে সরকারকে এই মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি খাতে বিশাল পরিমাণ ভর্তুকি অব্যাহত রাখলে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বরাদ্দ সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা—যেমন বিধবা বা প্রতিবন্ধী ভাতা মারাত্মক বিঘ্নিত হতো।

বিপিসির আর্থিক ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, গত মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় না করার কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে। এই সময়ে গড়ে প্রতি মাসে লোকসানের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা।

বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়, যার মধ্যে ৪৫ লাখ টনই ডিজেল। মূল্য সমন্বয়ের আগে ডিজেলে প্রতি লিটারে প্রায় ৯০ টাকা লোকসান দিতে হচ্ছিল জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমন্বয়ের পরও বিপিসিকে প্রতি লিটারে গড়ে প্রায় ৭০ টাকা করে ভর্তুকি দিয়ে যেতে হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, এই মূল্য সমন্বয় না করা হলে কেবল ডিজেলেই বছরে সরকারকে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হতো, আর সব ধরনের জ্বালানি মিলিয়ে বার্ষিক লোকসানের পরিমাণ দাঁড়াত প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকায়।

আন্তর্জাতিক বাজারে অব্যাহত দরবৃদ্ধি, বিমা প্রিমিয়াম বৃদ্ধি এবং জাহাজ ভাড়া বাড়ার কারণে দাম সমন্বয় ছাড়া বিকল্প ছিল না বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশগুলোতে ডিজেলের তৎকালীন বাজারদর তুলে ধরেন।

প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রতিবেশী দেশগুলোতে ডিজেলের বর্তমান মূল্য:

পাকিস্তান: প্রতি লিটার ১৮৫.৪৮ টাকা

শ্রীলঙ্কা: প্রতি লিটার ১৭৯.৪২ টাকা

ফিলিপাইন: প্রতি লিটার ১৬৮.৫৩ টাকা

মিয়ানমার: প্রতি লিটার ১৬৪.৮৩ টাকা

নেপাল: প্রতি লিটার ১৬১.২৪ টাকা

থাইল্যান্ড: প্রতি লিটার ১৫১.২২ টাকা

সংযুক্ত আরব আমিরাত (দুবাই) : প্রতি লিটার ১৪৪.৭৯ টাকা

মালদ্বীপ: প্রতি লিটার ১৪০ টাকা

ভিয়েতনাম: প্রতি লিটার ১৩৭ টাকা

ভারত (কলকাতা) : প্রতি লিটার ১৩৪.৭৬ টাকা

প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বৈশ্বিক সংকট ও জাতীয় অর্থনৈতিক সুরক্ষার স্বার্থে দেশের জনগণ সরকারের এই বাধ্যবাধকতামূলক সিদ্ধান্তটি অনুধাবন করতে সক্ষম হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত