Ajker Patrika

রাজস্ব ব্যবস্থায় অটোমেশন ও খুচরা বিক্রেতাদের ওপর অগ্রিম করের প্রস্তাব

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
রাজস্ব ব্যবস্থায় অটোমেশন ও খুচরা বিক্রেতাদের ওপর অগ্রিম করের প্রস্তাব

দেশের অর্থনীতিকে দীর্ঘ মেয়াদে আরও শক্তিশালী, প্রতিযোগিতাসক্ষম এবং প্রযুক্তিনির্ভর করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে কর ও শুল্ক কাঠামোয় বড় ধরনের রূপান্তরের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য ২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করা। এই লক্ষ্য অর্জনে করের হার বাড়ানোর পরিবর্তে করের পরিধি সম্প্রসারণ এবং রাজস্ব ব্যবস্থায় পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল অটোমেশনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

এবারের বাজেটের প্রধান আকর্ষণ হলো ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য আগামী ৫ বছরের একটি সুনির্দিষ্ট ও প্রগতিশীল করমুক্ত সীমার রোডম্যাপ ঘোষণা করা। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে শুল্ক হ্রাস, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) প্রসার এবং দেশীয় শিল্পকে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক করতে কাস্টমস আইনে কিছু প্রস্তাব আনা হয়েছে।

রাজস্ব ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা ও অটোমেশন

সরকার মধ্য মেয়াদে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশ এবং দীর্ঘ মেয়াদে ২০৩৫ সালের মধ্যে তা ১৫ শতাংশে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। বাজেট বক্তৃতায় দেশের রাজস্ব ব্যবস্থার মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিম্ন কর-জিডিপি অনুপাত, কর অব্যাহতির বিস্তৃত সংস্কৃতি, ক্ষুদ্র করভিত্তি, কর ফাঁকি এবং ডিজিটালাইজেশনের ঘাটতিকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় রাজস্ব ব্যবস্থায় ‘এন্ড-টু-এন্ড অটোমেশন’ (End-to-End Automation) চালুর রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য করদাতাদের হয়রানি কমানো এবং কর প্রদান প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করা।

সেন্ট্রাল ডেটা ইন্টিগ্রেশন: করের পরিধি বাড়াতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যভান্ডারকে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), ব্যাংক হিসাব, ইউটিলিটি সেবা এবং সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ডেটাবেইসের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করা হবে।

ব্যাংক হিসাবে টিআইএন বাধ্যবাধকতা: স্টুডেন্ট অ্যাকাউন্ট ও বিশেষ ‘নো-ফ্রিলস’ অ্যাকাউন্ট ব্যতীত যেকোনো সাধারণ ব্যাংক হিসাব খোলার সময় টিআইএন সনদ দাখিল বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

খুচরা বিক্রেতাদের ওপর অগ্রিম কর: করের আওতা বাড়ানোর লক্ষ্যে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহের ওপর ০.২০ শতাংশ অগ্রিম কর সংগ্রহের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা প্রতি হাজার টাকায় মাত্র ২ টাকা। এই অগ্রিম কর পরবর্তীতে করদাতার বার্ষিক প্রদেয় করের সঙ্গে সমন্বয় করা যাবে।

সেরা করদাতা সম্মাননা: করদাতাদের কর প্রদানে উৎসাহিত করতে ‘সেরা করদাতা পুরস্কার নীতিমালা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হচ্ছে, যার অধীনে খাতভিত্তিক সর্বোচ্চ ২২টি ক্যাটাগরিতে মোট ৬৭ জন করদাতাকে পুরস্কৃত করা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত