Ajker Patrika

এফবিসিসিআইয়ের প্রস্তাব

রিজার্ভের অর্থ ঋণে টেনে নিতে চান ব্যবসায়ীরা

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে এফবিসিসিআই প্রতিনিধিদের বৈঠক।
  • ইডিএফ বাড়িয়ে ৫ বিলিয়ন করে ঋণ বৃদ্ধির দাবি ব্যবসায়ীদের।
  • এই দাবি মানলে আইএমএফের শর্ত উপক্ষিত হতে পারে।
‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
রিজার্ভের অর্থ ঋণে টেনে নিতে চান ব্যবসায়ীরা

দেশের রপ্তানিকারকদের ঋণ দিতে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) নামে একটি বিশেষ তহবিল আছে। এই তহবিলের অর্থের জোগান দেওয়া হয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে। বর্তমানে তহবিলটির আকার ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। এটা বাড়িয়ে ৫ বিলিয়ন ডলার করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে গতকাল সোমবার বৈঠক করে এমন দাবি জানিয়েছে দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)। একই সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট ব্যাংকের এক গ্রাহক ঋণসীমা ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার দাবি তাদের। এই দাবি মেনে নিলে কোনো একজন গ্রাহকই একটি ব্যাংকের মোট পরিশোধিত মূলধনের এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত টেনে নিতে পারবেন।

গতকালের বৈঠকে এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আরও যেসব দাবি জানানো হয়েছে তার মধ্যে আছে অনিচ্ছাকৃতভাবে ঋণখেলাপিদের পুনর্বাসনে নীতিগত সহায়তা দেওয়া, আমদানির জন্য ডলার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বৃদ্ধি এবং সরকারি ঋণ কমিয়ে বেসরকারি খাতে উৎপাদনমুখী ঋণ বৃদ্ধি করা। তাদের দাবির মধ্যে আরও আছে—ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পে সহায়তা, ঋণ পুনঃ তফসিল সহজ করা, সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া, প্রণোদনা প্যাকেজ নিশ্চিত করা, প্রবাসীদের জন্য প্রণোদনা ও সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা, এসএমই ও নারী উদ্যোক্তাদের জামানতবিহীন ঋণ দেওয়া।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, রপ্তানিকারকদের ঋণসুবিধা দিতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ইডিএফ গঠন করা হয়। ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বিশেষ এ তহবিলের আকার ছিল ৩৫০ কোটি বা সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর প্রথম দফায় সরকারের নির্দেশে ইডিএফের আকার ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হয়। এরপর কয়েক দফায় বাড়ানোর পর এর আকার একসময় ৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। বর্তমানে এ তহবিলের আকার প্রায় ২৩০ কোটি বা ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার।

তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) তাদের ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের সঙ্গে রিজার্ভের অর্থের অপব্যবহার রোধের শর্ত জুড়ে দেয়। এখন ইডিএফে রিজার্ভের অর্থ বাড়ালে আইএমএফের ওই শর্ত বাস্তবায়ন উপেক্ষিত হবে।

গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক শেষে এফবিসিসিআইয়ের মহাসচিব মো. আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশে বৈদেশিক মুদ্রার পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে। এরপরও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে যেন ডলারের বাজারে কোনো সংকট তৈরি না হয়, সে জন্য আমরা ইডিএফ তহবিলের পরিমাণ ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার অনুরোধ জানিয়েছি। গভর্নর কথা দিয়েছেন, তিনি ধীরে ধীরে তা বাড়াবেন।’

এফবিসিসিআইয়ের মহাসচিব জানান, গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে সুদহার কমানো ও একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার থাকা ব্যাংকগুলোর আমানতকারীদের যেন স্বার্থ ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়টিও বিশেষভাবে লক্ষ রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন।

সূত্র জানায়, এফবিসিসিআই একক গ্রাহক ঋণসীমা ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে। অর্থাৎ কোনো ব্যাংক যাতে তার পরিশোধিত মূলধনের এক-চতুর্থাংশ অর্থের পরিমাণ একজন গ্রাহককে ঋণ দিতে পারে, সেই দাবি করেন ব্যবসায়ী নেতারা। যা নতুন ও ছোট উদ্যোক্তাদের বঞ্চিত করে ঋণ পুঞ্জীভূত করবে। এমনকি একজন গ্রাহক খেলাপি হলে ব্যাংক বড় চাপে পড়বে, যা বিগত সরকারের সময় ঘটেছে। সেই ধাক্কা সামলাতে না পেরে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে ৪৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। কোনো কোনো ব্যাংকের খেলাপি ৯০ শতাংশ হয়েছে। যদিও ২০২৬ সালের মধ্যে খেলাপি ১০ শতাংশের নিচে নামানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিগত দুই গভর্নর আইএমএফের ঋণের কিস্তি নিশ্চিত করেছিলেন। সেই ঋণ চলমান রয়েছে। শর্ত ভঙ্গ করলে আইএমএফের ৪৭০ কোটি ডলারের অবশিষ্ট কিস্তির অর্থ ছাড় আটকে যাওয়ায় শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

এফবিসিসিআই লিখিতভাবে জানায়, দেশের অর্থনীতিতে অনাদায়ি বা খেলাপি ঋণের চাপ কমাতে গভর্নরকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে অনিচ্ছাকৃতভাবে ঋণখেলাপি হয়ে পড়ে ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনে নীতিগত সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

এফবিসিসিআই বলছে, খেলাপি ঋণ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের অন্তরায় সৃষ্টি করছে। তাই অনাদায়ি ঋণের পরিমাণ দ্রুত কমিয়ে আনা জরুরি। সংগঠনটি কখনোই ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের পক্ষে নয়। তবে ব্যবসায়িক ঝুঁকি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা বা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির কারণে যাঁরা অনিচ্ছাকৃতভাবে ঋণখেলাপি হয়েছেন, তাঁদের জন্য পুনর্বাসনমূলক নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন বলে মনে করে এফবিসিসিআই।

এফবিসিসিআই আশা প্রকাশ করেছে, যথাযথ নীতিসহায়তা ও কঠোর নজরদারির সমন্বয়ে দেশের ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও ব্যাংকিং খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যবসাবান্ধব নীতিগত সহায়তা জোরদারের দাবি ও ব্যাংকিং খাতের সুদ কমানো জরুরি।

গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক শেষে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘বর্তমান ব্যাংক থেকে অর্থায়ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ক্রমেই ব্যয়বহুল ও অনেক ক্ষেত্রে অকার্যকর হয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নীতি সুদহার ক্রমান্বয়ে কমানোর পাশাপাশি উৎপাদনশীল খাত, রপ্তানিমুখী শিল্প এবং এসএমই খাতের মতো অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকিযুক্ত ঋণসুবিধা চালু করার প্রস্তাব করেছি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

চীনকে নিয়ে হরমুজ নিয়ন্ত্রণ করবে ইরান! ভারতের জন্য বিপদ

যশোরে খোদ বিচারকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা, বাদী গ্রেপ্তার

পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন আর্টেমিস নভোচারীদের ৪০ মিনিট, কী ঘটবে তখন

ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, যুদ্ধ বন্ধে ইরানের পাল্টা ১০ দফা

অভিজ্ঞতা ছাড়াই প্রাইম ব্যাংকে নেবে ট্রেইনি অফিসার

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত