
ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রায়ত্ত খনি কোম্পানি গত সোমবার বিশাল অঙ্কের একটি চুক্তিতে সই করেছে। চুক্তির আওতায় সর্বোচ্চ ১ হাজার কেজি স্বর্ণ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিক্রি করা হবে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছে।
চুক্তিটি ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমশ ঘনিষ্ঠ হওয়া বাণিজ্যিক সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ধরে আনার পর দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানির ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর থেকেই দুই দেশের অর্থনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদার হচ্ছে।
সূত্রগুলোর একটির ভাষ্য, এই স্বর্ণ চুক্তির অধীনে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রায়ত্ত খনি কোম্পানি মিনারভেনকে ৬৫০ থেকে ১ হাজার কেজি ‘গোল্ড ডোরে’ বার সরবরাহ করতে হবে। এসব স্বর্ণ পণ্যসামগ্রী বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান ট্রাফিগুরার কাছে হস্তান্তর করা হবে। চুক্তি অনুযায়ী, সরবরাহ করা স্বর্ণের চূড়ান্ত বিশুদ্ধতার মাত্রা হবে ৯৮ শতাংশ।
একই সূত্র জানায়, ট্রাফিগুরা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে পৃথক এক ব্যবস্থার আওতায় এই স্বর্ণ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রিফাইনারিতে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডগ বার্গাম বুধবার ভেনেজুয়েলায় পৌঁছান। সেখানে তিনি তেল ও খনিজ সম্পদ সম্পর্কিত সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। এই স্বর্ণ চুক্তি বাস্তবায়নে তিনিও ভূমিকা রাখেন বলে জানা গেছে।
বর্তমানে বিশুদ্ধ স্বর্ণের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ১ লাখ ৬৬ হাজার ডলার। বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী এই দাম ওঠানামা করে। তবে সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে স্বর্ণের দাম বাড়তির দিকে রয়েছে। একই সময়ে তেলের দামও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী দেশ ইরানে হামলা চালানোর পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য বাড়তে শুরু করেছে।
ভেনেজুয়েলার সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ট্রাম্প প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে হওয়া এটি তৃতীয় চুক্তি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রাচুর্যপূর্ণ সম্পদ তেল খাতের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। এক বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের তেল চুক্তিতেও ট্রাফিগুরা জড়িত রয়েছে।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘তেল প্রবাহিত হতে শুরু করেছে, এবং দুই দেশের মধ্যে যে পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠা দেখা যাচ্ছে, তা সত্যিই আনন্দের।’ এ সময় তিনি ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের প্রশংসাও করেন। বুধবার বার্গামের সঙ্গে বৈঠকের পর রদ্রিগেজ ঘোষণা দেন, দেশটির খনি আইন সংস্কারের একটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তবে গত ৩ জানুয়ারি নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সম্পদের ওপর যে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্য ও উদারপন্থীদের মধ্যে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন সাম্রাজ্যবাদী ও দুর্নীতিপূর্ণ নীতি অনুসরণ করছে।
তবে স্বর্ণ ও তেল চুক্তি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র দাবি করেছে, বর্তমানে এই ব্যবস্থায় ভেনেজুয়েলারই বেশি লাভ হচ্ছে। কারণ দেশটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশাধিকার এবং একটি স্থিতিশীল আর্থিক ব্যবস্থার সুবিধা পাচ্ছে। ওই সূত্রের ভাষ্য, ‘আগে ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক দুর্নীতি ছিল। কালোবাজারি পাচারকারীরা স্বর্ণ ও অন্যান্য সম্পদ বিক্রি করে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করত।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন ভেনেজুয়েলার সম্পদ থেকে যে অর্থ আসবে, তা সরাসরি ভেনেজুয়েলার সরকার ও জনগণের কাছে যাবে। আগে এই স্বর্ণ তুরস্ক বা ইরানে চলে যেত, এখন সেই সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রে আসছে।’

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের ওপর আরোপিত ‘হেয়ারকাট’ সিদ্ধান্তকে প্রত্যাহারের দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী আমানতকারীরা। আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল থেকে তাঁরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে মানববন্ধন শুরু করে।
৩ ঘণ্টা আগে
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ দেশটির অর্থনীতিতে সর্বোচ্চ ২১০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতির কারণ হতে পারে। এমন পূর্বাভাস দিয়েছেন আর্থিক বিশ্লেষক কেন্ট স্মেটার্স। তিনি বহুল ব্যবহৃত পেন ওয়ার্টন বাজেট মডেলের পরিচালক। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
৬ ঘণ্টা আগে
টিকিট বুকিং সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের যেকোনো সেলস সেন্টার অথবা নিকটস্থ ট্রাভেল এজেন্সিতে যোগাযোগ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ ছাড়াও বিস্তারিত তথ্যের জন্য হটলাইন ১৩৬০৫, মোবাইল ০১৭৭৭৭৭৭৮০০-৮০৬ নম্বরে যোগাযোগের অনুরোধ জানিয়েছে
৯ ঘণ্টা আগে
গ্যাস-সংযোগ পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা; ব্যাংকঋণে চড়া সুদ; খেলাপি ঋণের পাহাড়; বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহে সংকোচন—এমন বাস্তবতায় নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের স্বপ্নকে ‘উচ্চাভিলাষী’ বলেই মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের বক্তব্য স্পষ্ট, জ্বালানি ও অর্থায়ন সংকট না কাটলে বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়।
১৪ ঘণ্টা আগে