
ভারতে কোনো ছোট দোকান, রেস্তোরাঁ বা ধাবা যেখানেই যান না কেন, সামনে রাখা ফ্রিজে কোকা-কোলা, পেপসি বা স্প্রাইটের মতো বিদেশি পানীয়ের ছড়াছড়ি চোখে পড়বেই। স্থানীয় বাজারে আখের রস, বেলের শরবত বা আম পান্নার চেয়ে এই মার্কিন পানীয়গুলো খুঁজে পাওয়া অনেক সহজ। তবে ভারতের দেশীয় পানীয়গুলোও এখন জায়গা করে নিচ্ছে রেস্তোরাঁর মেনুতে। তেমনই এক পানীয় ব্র্যান্ড লাহোরি জিরা। নামে পাকিস্তানি হলেও এটি ভারতে গড়ে ওঠা একটি পানীয়র ব্র্যান্ড।
১০ রুপির এই দেশি স্বাদের পানীয় এখন দেশটিতে বিদেশি ব্র্যান্ডের দীর্ঘদিনের একাধিপত্য ভেঙে দিচ্ছে। তবে এই সাফল্য এক রাতে আসেনি। স্রেফ সড়কের পাশের সাধারণ পানীয়কে নতুন মোড়কে ব্র্যান্ডিং করা এবং মানুষের নস্টালজিয়াকে কাজে লাগিয়ে আজ এটি কয়েকশ কোটি রুপির ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।
ভারতের ছোট শহর বা মফস্বলে বেড়ে ওঠা মানুষের কাছে কোমল পানীয় মানেই ছিল বাড়িতে অতিথি আসা বা বিয়েবাড়ির আয়োজন। কিন্তু তৃষ্ণা মেটানো বা শরীরে ইলেকট্রোলাইট ধরে রাখার কথা উঠলে সবার আগে নাম আসত শিকঞ্জি, লেবুর শরবত, বান্টা বা আম পান্নার।
সেই ঘরোয়া এবং প্রাকৃতিক স্বাদ ধরে মানুষের মনে জায়গা করে নিতে ২০১৭ সালে তিন ভাই সৌরভ মুঞ্জাল, সৌরভ ভুটনা ও নিখিল ডোডা মিলে প্রতিষ্ঠা করেন লাহোরি জিরা। তাঁরা সড়কের ধারের পরিচিত পানীয়কেই সুন্দর ও স্বাস্থ্যসম্মত বোতলে বাজারজাত শুরু করেন। ঘরোয়া পানীয়ের স্বাদ ঠিক রেখে তাতে কেবল যোগ করা হয় কিছুটা ফিজ বা বুদবুদ।
পাঞ্জাবের খাদ্যরসিক পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন এই তিন ভাই। শৈশবে রাস্তার ধারের গোলি সোডার ওপর বিট লবণ ও জিরার গুঁড়ো ছিটিয়ে খাওয়ার স্মৃতি তাঁদের মনে গেঁথে ছিল। এই পানীয়টি শুধু গরম থেকে স্বস্তিই দিত না, বরং শরীরে এক ধরনের সতেজতা নিয়ে আসত। অথচ ভারতীয় বাজারে জনপ্রিয় পানীয়গুলোতে বিট লবণ বা জিরার কোনো নামগন্ধ ছিল না।
বাজারের এই শূন্যতাকেই তাঁরা সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেন। ২০১৬ সালে নিখিল ডোডা কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই বিট লবণ, জিরা ও লেবুর রস মিশিয়ে একটি পানীয় তৈরি করেন। এর স্বাদ তাঁদের রাস্তার ধারের সেই পুরোনো দিনের কথা মনে করিয়ে দেয়।

নিখিল ডোডা এক সাক্ষাৎকারে জানান, ‘আমরা তিন ভাই একসঙ্গে বড় হয়েছি। আমাদের মধ্যে গভীর বোঝাপড়া ছিল। একসঙ্গে কিছু করার স্বপ্ন আমাদের সব সময়ই ছিল। খাবারের ব্যবসায় নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আমরা পানীয় নিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিই।’
পুরনো কিছু মেশিন কিনে সেগুলো মেরামত করে কাজ শুরু করেন তাঁরা। এরপর স্থানীয় মুদি দোকানদার, চায়ের দোকান, কলেজ শিক্ষার্থী ও অটোচালকদের খাইয়ে তাঁদের মতামত নেন। নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মসলা, স্বাদ ও গ্যাসের সঠিক ভারসাম্য খুঁজে পান তাঁরা।
নিখিল আরও যোগ করেন, ‘আমরা স্রেফ একটি কারখানা দিয়ে শুরু করেছিলাম, কিন্তু আমাদের লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট—খাঁটি দেশি পানীয় তৈরি করা। মাত্র ১৬০ মিলিলিটারের একটি বোতলের দাম রাখা হয় ১০ টাকা, যাতে গুণগত মান ঠিক রেখেও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকা যায়।’
কেন এই ব্র্যান্ডের নাম লাহোরি জিরা
ভারত ও পাকিস্তানের পাঞ্জাব অঞ্চলের সংস্কৃতি ও ভাষার এক গভীর মিল রয়েছে। অমৃতসরের ওয়াঘা সীমান্ত থেকে লাহোরের দূরত্ব মাত্র ৫০-৫৫ কিলোমিটার। জিরার সঙ্গে লাহোর নামটি জুড়ে দিয়ে তাঁরা মূলত দুই দেশের মানুষের অভিন্ন নস্টালজিয়াকে ধরতে চেয়েছেন।

বাজারে লাহোরি জিরার অবস্থান
২০১৭ সালে যাত্রার পর থেকে ভারতীয় পানীয়র বাজারে দ্রুত জায়গা করে নিয়েছে লাহোরি জিরা। ২০২৪ অর্থবছরে এর আয় ছিল ৩১২ কোটি রুপি, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৫৪০ কোটি রুপিতে।
২০২৫ সালের মে মাসে মতিলাল ওসওয়াল ওয়েলথ থেকে ২০০ কোটি রুপি বিনিয়োগ পায় কোম্পানিটি। ফলে বর্তমানে এর বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮০০ কোটি রুপি। তবে বড় কোনো বিজ্ঞাপন ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি তাদের উৎপাদন সক্ষমতা এবং খুচরা বিপণন নেটওয়ার্ক বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির মূল পানীয়ের মধ্যে রয়েছে লাহোরি জিরা, লাহোরি শিকঞ্জি, লাহোরি নিম্বু, কাঁচা আম ও লাহোরি ইমলি বান্টা। ২০২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির মোট রাজস্ব প্রায় ৭৭৫ কোটি রুপি এবং ইবিআইটিডিএ ৬০ কোটি রুপিতে পৌঁছেছে।
বর্তমানে লাহোরি জিরার এক বিশাল ক্রেতা ও অনুরাগী গোষ্ঠী রয়েছে। সহপ্রতিষ্ঠাতা সৌরভ মুঞ্জাল বলেন, ‘বিক্রি করা আমাদের জন্য সমস্যা নয়, বরং চাহিদার তুলনায় জোগান দেওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের বর্তমান সক্ষমতায় এটিই সর্বোচ্চ উৎপাদন।’
মাত্র ২০ জন কর্মী নিয়ে শুরু করা লাহোরি জিরায় এখন ১ হাজার ৮০০-এর বেশি স্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক কর্মী কাজ করছেন। সড়কের পাশে সাধারণ পানীয়কে শৈশবের স্মৃতি ও সাহসের মিশেলে বোতলবন্দী করে আজ এক বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন এই তিন তরুণ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা অ্যাসেটস লিমিটেড, ফুডিকে নিজেদের বলে তারা কক্সবাজারে কথিত হোটেল প্রকল্পে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
৩ ঘণ্টা আগে
দেশে সস্তা প্রাণিজ প্রোটিনের অন্যতম প্রধান উৎস ডিম ও ব্রয়লার মুরগি। তবে বাড়তি উৎপাদন খরচ, করের চাপ এবং খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে পোলট্রিশিল্প এখন গভীর সংকটে পড়েছে। খাতসংশ্লিষ্টদের সতর্কবার্তা—বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ডিম ও মুরগির দাম ভবিষ্যতে দ্বিগুণে পৌঁছাতে পারে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে সাধারণ
১১ ঘণ্টা আগে
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল লিমিটেডের প্রায় ২৬৮ কোটি টাকার স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ফেরত পাওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর্থিক সংকট, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং একীভূতকরণের প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক বেসরকারি ব্যাংকে এই অর্থ জমা থাকায় তা আদায়ে অনিশ্চয়তা
১১ ঘণ্টা আগে
ঊর্ধ্বগতির মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে তাৎক্ষণিক মুক্তির কোনো সহজ পথ এখন সরকারের সামনে নেই। বাস্তবতাকে মেনে নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে ঊর্ধ্বমুখী এই প্রবণতাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে নেওয়া হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। লক্ষ্য—তাড়াহুড়ো নয়, বরং ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ।
১৫ ঘণ্টা আগে