Ajker Patrika

রাণীশংকৈল পৌরসভায় এডিপির কোটি টাকার বরাদ্দ, অন্ধকারে পরিষদের সদস্যরা

খুরশিদ আলম শাওন, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও)
রাণীশংকৈল পৌরসভায় এডিপির কোটি টাকার বরাদ্দ, অন্ধকারে পরিষদের সদস্যরা

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল পৌরসভায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে পাওয়া প্রায় এক কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বরাদ্দের বিষয়টি পৌর পরিষদের সাধারণ সদস্যদের না জানিয়েই প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এতে পরিষদের সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভের পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যেও নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৭ মে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে রাণীশংকৈল পৌরসভার জন্য প্রায় এক কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়। বিধি অনুযায়ী এ ধরনের বরাদ্দের প্রকল্প নির্বাচন ও অনুমোদনের বিষয়ে পৌর পরিষদের সভায় আলোচনা এবং রেজল্যুশন হওয়ার কথা। তবে একাধিক সদস্যের দাবি, এ বিষয়ে তাঁদের কিছুই জানানো হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, পরিষদের অনুমোদনের আগেই দ্রুত প্রকল্পের ফাইল প্রস্তুত করে কার্যাদেশ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কারণে বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাণীশংকৈল পৌর পরিষদের সদস্য ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ বারী বলেন, ‘এডিপির বিশেষ বরাদ্দ এসেছে—এ বিষয়ে আমার জানা নেই।’

একই বক্তব্য দেন পৌর পরিষদের সদস্য উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল আহমেদ। তাঁরা বলেন, পরবর্তী সভায় বিষয়টি জানানো হতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌর পরিষদের এক সদস্য বলেন, ‘শুধু এডিপির বরাদ্দ নয়, পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়নকাজেও সাধারণ সদস্যদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে কাজ হলেও আমাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয় না। কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুললেও তা আমলে নেওয়া হয় না।’

পৌরসভার হিসাব সহকারী শাহাজাহান আলী বরাদ্দ-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা বেগম বরাদ্দের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও প্রকল্পের বিস্তারিত জানাতে অনীহা প্রকাশ করেন।

পৌর প্রকৌশলী জাবেদ আলী বলেন, সময় স্বল্পতার কারণে আরএফকিউ পদ্ধতিতে কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। তবে কোন কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে বা কাজের বিস্তারিত সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক ও ইউএনও খাদিজা বেগম বলেন, ‘সব উন্নয়নকাজ সরকারি বিধিবিধান অনুসারেই বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকৌশলী নিয়ম মেনেই প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন।’

তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো স্বাধীন তদন্ত হয়নি। এডিপির বরাদ্দ বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত