Ajker Patrika

নীতিমালা না মেনে স্বর্ণের দোকানে অ্যাসিডের ব্যবহার

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
নীতিমালা না মেনে স্বর্ণের দোকানে অ্যাসিডের ব্যবহার

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে স্বর্ণের দোকানে অবাধে ব্যবহৃত হচ্ছে নাইট্রিক ও সালফিউরিক অ্যাসিড। অ্যাসিড পোড়ানোর নীতিমালা থাকলেও তা কেউ মানছেন না। এর ফলে স্থানীয় অধিবাসীদের শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন ধরনের রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। 

সোনার গহনা তৈরির জন্য অ্যাসিড ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। সোনা থেকে খাদ বের করার জন্য নাইট্রিক অ্যাসিড দিয়ে পোড়াতে হয়। আর গহনার সৌন্দর্য বাড়াতে ব্যবহার করা হয় সালফিউরিক অ্যাসিড। ব্যবহারের সময় এই এসিড বাতাসে মিশে বিষাক্ত জ্বলীয়বাষ্পে রূপ নেয় এবং তা শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। এতে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, হৃদরোগসহ নানা জটিল রোগ দেখা দেয়। 

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ঘুরে দেখা যায়, অ্যাসিড পোড়ানোর জন্য আলাদা কক্ষ ও চিমনি ব্যবহার করার বিধান থাকলেও অধিকাংশ দোকানেই সেটি নেই। এসব স্বর্ণের দোকানের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো অনুমতি নেই।

ঘাটাইল বাজার রোডের বাসিন্দা গৃহহবধূ সেলিনা আক্তার বলেন, বাসার পাশেই অ্যাসিড পোড়ানো হয়। ধোঁয়ার কারণে আমাদের শ্বাসকষ্ট হয়। বারবার বলা সত্ত্বেও কোনো লাভ হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে  ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাইফুর রহমান খান জানান, নাইট্রিক অ্যাসিডে নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড আছে যা মানবদেহ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। সালফিউরিক অ্যাসিডেও প্রায় একই রকম ক্ষতি হয়। এর প্রভাবে মানুষের শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ ছাড়াও হার্টের সমস্যা হতে পারে।

ঘাটাইল পৌরসভা স্বর্ণকার সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিপুল চন্দ অ্যাসিড পোড়ানোর ক্ষতির বিষয়টি স্বীকার করে জানান, পৌর এলাকায় অ্যাসিড দিয়ে সোনা পোড়ানের জন্য তিনটি কারখানা রয়েছে। তারা নির্ধারিত কারখানাতেই সোনা পোড়ায়। কারখানাগুলোতে লম্বা পাইপ দিয়ে ধোঁয়া বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে যাতে পরিবেশের ক্ষতি না হয়। 

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, নীতিমালা মেনেই স্বর্ণকারদের ব্যবসা করতে হবে। নীতিমালা ভঙ্গ করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত