Ajker Patrika

গৃহকর্তার ওপর ক্ষোভে তাঁর শতবর্ষী মাকে হত্যা: যুবকের মৃত্যুদণ্ড

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি 
আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৮: ০৬
গৃহকর্তার ওপর ক্ষোভে তাঁর শতবর্ষী মাকে হত্যা: যুবকের মৃত্যুদণ্ড
মো. বাদল ওরফে বাবু। ছবি: সংগৃহীত

কাজে অবহেলার অভিযোগে গালিগালাজ করায় গৃহকর্তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর শতবর্ষী মা আহাতন বেওয়াকে বঁটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছিলেন মো. বাদল ওরফে বাবু (২৫)। আজ মঙ্গলবার ২০১৯ সালে ঘটা টাঙ্গাইলের এ ঘটনায় আদালত বাদলের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

টাঙ্গাইলের সিনিয়র দায়রা জজ মো. হাফিজুর রহমান আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাদল জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার রৌহা গ্রামের মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে। নিহত আহাতন বেওয়া টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ফলদা গ্রামের মুদিদোকানদার সেহাব উদ্দিনের মা।

টাঙ্গাইলের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. শফিকুল ইসলাম রিপন জানান, বাদল ভূঞাপুরের ফলদা বাজারের দোকানদার সেহাব উদ্দিনের দোকান ও বাসায় কাজ করতেন। ২০১৯ সালের ২৬ নভেম্বর সকালে দোকানের কাজ নিয়ে সেহাব উদ্দিন বাদলকে ‘পাগলের বাচ্চা’ বলে গালিগালাজ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কাজ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বাদল।

এর পরপরই বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সেহাব উদ্দিনের বাসায় গিয়ে কাউকে না পেয়ে সিঁড়ির গোড়ায় থাকা বঁটি দিয়ে তাঁর মা আহাতন বেওয়ার গলা কেটে হত্যা করেন বাদল। হত্যাকাণ্ডের পর মোবাইল ও ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে ইব্রাহিমাবাদ (যমুনা সেতু পূর্ব) রেলস্টেশনে যান তিনি।

পুলিশ ঘটনার পরপরই ইব্রাহিমাবাদ রেলস্টেশন থেকে ঢাকাগামী চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিটসহ বাদলকে গ্রেপ্তার করে।

শফিকুল ইসলাম রিপন আরও জানান, পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বাদল বলেন, মালিকের ওপর ক্ষোভের জেরেই তিনি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ, সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং আসামির স্বীকারোক্তি পর্যালোচনা করে আদালত বাদলকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালত তাঁকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত