ইয়াহ্ইয়া মারুফ, সিলেট

পানি কমছে সুরমা ও কুশিয়ারায়। সিলেটের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হচ্ছে দিনে দিনে। জেগে ওঠা জনপদে দীর্ঘ হচ্ছে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব। সরকার-প্রশাসন যখন ক্ষতির হিসাব কষছে, মানুষ তখন মেলাচ্ছে সামনের দিনের চিত্র। বহু মানুষের বাড়িঘর বিধ্বস্ত। দুবেলা খাবারের ব্যবস্থা করাই এখন যাদের জন্য কষ্টকর, তারা বাড়িঘর ঠিক করবে কীভাবে।
এক মাসের মধ্যে দুই দফায় বন্যার শিকার হলো সিলেট বিভাগ। এতে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায়। তবে এটি প্রাথমিক তথ্য। পানি পুরোপুরি নেমে যাওয়ার পর এ ক্ষতির পরিমাণ আরও যে বাড়বে, তা মোটামুটি নিশ্চিত।
ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে কথা হয় সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ড. মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ক্ষয়ক্ষতির পুরোপুরি রিপোর্ট এখনো আমার হাতে আসেনি। সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া আছে।
রিপোর্ট পেলে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করব।’
সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) আওতায় সিলেট বিভাগে ৩৫৪ কিলোমিটার সড়কের ক্ষতি হয়েছে। এ তথ্য জানিয়ে সওজ সিলেট জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. ফজলে রাব্বে বলেন, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখনো অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক স্বল্প মেয়াদের জন্য মেরামত করলে ৫৭ কোটি টাকা লাগতে পারে।
এলজিইডির সিলেট বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল মনসুর মিয়া আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমাদের পুরো বিভাগে প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকার রাস্তাঘাট, স্থাপনা ও ৪১ কোটি টাকার ব্রিজ-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
মৎস্য অধিদপ্তরও তাদের মতো করে হিসাব মেলাচ্ছে। অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় উপপরিচালক মো. মোতালেব হোসেন জানান, বিভাগে ৪০ হাজার ৫৩৮টি পুকুর-খামারে মোট ১৪২ কোটি ৪০ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে।
কৃষির ক্ষতি আরও বেশি। সিলেট বিভাগীয় কৃষি অফিসের উপপরিচালক কাজী মো. মজিবুর রহমান জানান, ৫৫ হাজার হেক্টর জমির আউশ, সাড়ে ১৪ হাজার হেক্টর বোরো-আমন ও ৫ হাজার হেক্টর জমির সবজির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।
এ ছাড়া শিক্ষার অবকাঠামো ক্ষতি ৪১ কোটি টাকা, বিদ্যুৎ বিভাগের প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক হিমাংশু লাল রায় তাঁর খাতে ক্ষতির হিসাব দিয়ে আজকের পত্রিকাকে বলেন, বিভাগের ২৪টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ৩১টি ইউনিয়ন সাব-সেন্টার ও ২টি ২০ শয্যার হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি নেমে গেলে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল হলে যন্ত্রপাতি পরীক্ষা- নিরীক্ষার পর ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ বলা যাবে।
সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় দুই দফা বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ২০০ কোটি টাকারও বেশি। ভয়াবহ এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বন্যাকবলিত এলাকায় রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি ও ব্রিজ-কালভার্ট, ড্রেন ও বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপকভাবে ক্ষতি হয়েছে। পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্লাবিত এলাকার ময়লা-আবর্জনা পরিচ্ছন্ন করা, পচা দুর্গন্ধ এড়াতে জীবাণুনাশক ছিটানোর কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
নগরীর কিছু কিছু এলাকার পানি নেমে গেলেও দুই জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অনেক রাস্তাঘাট এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চল এখনো পানির নিচে তলিয়ে আছে। ফলে বন্যার্তরা এখনো পোহাচ্ছেন ভয়াবহ দুর্ভোগ। খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও পয়োনিষ্কাশনের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যার পানি যত কমছে, পানিবাহিত রোগব্যাধির সংক্রমণ ততই বাড়ছে। বিশেষ করে ডায়রিয়ার প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে। এখন পর্যন্ত পুরো বিভাগে ২ হাজার ১৭৩ জন ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক হিমাংশু লাল রায় বলেন, পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়া নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে। সিলেট বিভাগে ৪২৯টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত বন্যাজনিত কারণে বিভাগে মোট ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পানিতে ডুবে ও টিলা ধসে মাটিচাপায় ছয়জন করে, বজ্রপাতে তিনজন ও সর্পদংশনে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি চারজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

পানি কমছে সুরমা ও কুশিয়ারায়। সিলেটের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হচ্ছে দিনে দিনে। জেগে ওঠা জনপদে দীর্ঘ হচ্ছে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব। সরকার-প্রশাসন যখন ক্ষতির হিসাব কষছে, মানুষ তখন মেলাচ্ছে সামনের দিনের চিত্র। বহু মানুষের বাড়িঘর বিধ্বস্ত। দুবেলা খাবারের ব্যবস্থা করাই এখন যাদের জন্য কষ্টকর, তারা বাড়িঘর ঠিক করবে কীভাবে।
এক মাসের মধ্যে দুই দফায় বন্যার শিকার হলো সিলেট বিভাগ। এতে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায়। তবে এটি প্রাথমিক তথ্য। পানি পুরোপুরি নেমে যাওয়ার পর এ ক্ষতির পরিমাণ আরও যে বাড়বে, তা মোটামুটি নিশ্চিত।
ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে কথা হয় সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ড. মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ক্ষয়ক্ষতির পুরোপুরি রিপোর্ট এখনো আমার হাতে আসেনি। সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া আছে।
রিপোর্ট পেলে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করব।’
সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) আওতায় সিলেট বিভাগে ৩৫৪ কিলোমিটার সড়কের ক্ষতি হয়েছে। এ তথ্য জানিয়ে সওজ সিলেট জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. ফজলে রাব্বে বলেন, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখনো অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক স্বল্প মেয়াদের জন্য মেরামত করলে ৫৭ কোটি টাকা লাগতে পারে।
এলজিইডির সিলেট বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল মনসুর মিয়া আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমাদের পুরো বিভাগে প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকার রাস্তাঘাট, স্থাপনা ও ৪১ কোটি টাকার ব্রিজ-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
মৎস্য অধিদপ্তরও তাদের মতো করে হিসাব মেলাচ্ছে। অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় উপপরিচালক মো. মোতালেব হোসেন জানান, বিভাগে ৪০ হাজার ৫৩৮টি পুকুর-খামারে মোট ১৪২ কোটি ৪০ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে।
কৃষির ক্ষতি আরও বেশি। সিলেট বিভাগীয় কৃষি অফিসের উপপরিচালক কাজী মো. মজিবুর রহমান জানান, ৫৫ হাজার হেক্টর জমির আউশ, সাড়ে ১৪ হাজার হেক্টর বোরো-আমন ও ৫ হাজার হেক্টর জমির সবজির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।
এ ছাড়া শিক্ষার অবকাঠামো ক্ষতি ৪১ কোটি টাকা, বিদ্যুৎ বিভাগের প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক হিমাংশু লাল রায় তাঁর খাতে ক্ষতির হিসাব দিয়ে আজকের পত্রিকাকে বলেন, বিভাগের ২৪টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ৩১টি ইউনিয়ন সাব-সেন্টার ও ২টি ২০ শয্যার হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি নেমে গেলে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল হলে যন্ত্রপাতি পরীক্ষা- নিরীক্ষার পর ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ বলা যাবে।
সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় দুই দফা বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ২০০ কোটি টাকারও বেশি। ভয়াবহ এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বন্যাকবলিত এলাকায় রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি ও ব্রিজ-কালভার্ট, ড্রেন ও বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপকভাবে ক্ষতি হয়েছে। পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্লাবিত এলাকার ময়লা-আবর্জনা পরিচ্ছন্ন করা, পচা দুর্গন্ধ এড়াতে জীবাণুনাশক ছিটানোর কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
নগরীর কিছু কিছু এলাকার পানি নেমে গেলেও দুই জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অনেক রাস্তাঘাট এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চল এখনো পানির নিচে তলিয়ে আছে। ফলে বন্যার্তরা এখনো পোহাচ্ছেন ভয়াবহ দুর্ভোগ। খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও পয়োনিষ্কাশনের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যার পানি যত কমছে, পানিবাহিত রোগব্যাধির সংক্রমণ ততই বাড়ছে। বিশেষ করে ডায়রিয়ার প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে। এখন পর্যন্ত পুরো বিভাগে ২ হাজার ১৭৩ জন ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক হিমাংশু লাল রায় বলেন, পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়া নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে। সিলেট বিভাগে ৪২৯টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত বন্যাজনিত কারণে বিভাগে মোট ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পানিতে ডুবে ও টিলা ধসে মাটিচাপায় ছয়জন করে, বজ্রপাতে তিনজন ও সর্পদংশনে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি চারজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

যশোরে গত এক বছরে খুন হয়েছেন অন্তত ৬২ জন। অধিকাংশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বিদেশি পিস্তল। সীমান্ত দিয়ে যে হারে অস্ত্র ঢুকছে, সেই তুলনায় উদ্ধার তৎপরতা কম। এমন বাস্তবতায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
রবিশস্য ও বোরো মৌসুম চলছে। দেশের উত্তরাঞ্চলের কৃষিপ্রধান জেলা নীলফামারীতে মাঠজুড়ে কৃষকের ব্যস্ততা। আলু, গম, ভুট্টা, শাকসবজি ও বোরো ক্ষেতে সেচ ও পরিচর্যায় সময় কাটছে কৃষকদের। তবে এই ব্যস্ততার আড়ালে চলছে আরেক লড়াই—সার সংগ্রহের। আবাদের জন্য প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না অনেক কৃষক।
২ ঘণ্টা আগে
বরিশাল নগরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের রুপাতলীতে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী লালার দীঘি দখলবাজির কারণে ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে। দীঘিটির দক্ষিণ পাড়ের ৫০ শতাংশ জায়গা পাইপের মাধ্যমে ভরাট করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে বরিশাল নগরের রুপাতলী হাউজিং স্টেট কর্তৃপক্ষ। এ জন্য দীঘির বিশাল অংশ নিয়ে তারা পাইলিংও দিয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি) প্রধান ও সহপ্রধান নিয়োগের ক্ষেত্রে পরীক্ষাভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। এ ব্যবস্থায় ওই দুই পদের প্রার্থীদের লিখিত বা বাছাই এবং মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।
৩ ঘণ্টা আগে