Ajker Patrika

দর্শক মাতিয়ে শেষ যাত্রা, আর ফিরলেন না পেহেলি

লবীব আহমদ, সিলেট 
দর্শক মাতিয়ে শেষ যাত্রা, আর ফিরলেন না পেহেলি
তরুণ সংগীতশিল্পী পেহেলি ভৈরবী। ছবি: সংগৃহীত

‘জীবনের সুখ আসলে ছোট ছোট মুহূর্ত দিয়ে তৈরি করা হয়’—বাক্যটি মৃত্যুর মাত্র ১৩ ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি রিলস ভিডিওর ক্যাপশনে লিখেছিলেন ১৯ বছর বয়সী তরুণ সংগীতশিল্পী পেহেলি ভৈরবী। জীবন নিয়ে যাঁর ভাবনা ছিল এমন পরিমিত ও সুন্দর, সেই জীবনের ইতি যে এত দ্রুত আর নির্মমভাবে ঘটবে, তা বোধ হয় ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি তাঁর শ্রোতারা।

গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত সিলেটের বিশ্বনাথের বৈরাগী বাজারে হজরত ছাবাল শাহ (রহ.)-এর মাজারে লালনগীতি ও বিচ্ছেদ গানে দর্শকদের বুঁদ করে রেখেছিলেন পেহেলি। সুরের ভেলায় পুরো আসর ভাসিয়ে অনুষ্ঠান শেষে যখন বাড়ির পথ ধরেছিলেন, তখন তাঁর চোখেমুখে ছিল হয়তো একবুক ক্লান্তি আর সফল পরিবেশনার তৃপ্তি। কিন্তু সেই ফেরার পথটাই যে তাঁর জীবনের শেষ পথ হবে, তা কে জানত।

আজ শুক্রবার সকালে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরের কাশিকাপন এলাকায় ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের মুখোমুখি সংঘর্ষে মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় বাউলশিল্পী পেহেলি ভৈরবীর প্রাণস্পন্দন। ঘটনাস্থলেই স্বর্গগত হন তিনি।

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার চন্ডিবের এলাকার বাবুল মিয়ার মেয়ে পেহেলি। মাত্র ১৯ বছর বয়সে লোকসংগীত ও লালনগীতির জগতে পা রেখে নিজের মিষ্টি সুর আর গায়কী দিয়ে জয় করে নিয়েছিলেন অজস্র ভক্তের হৃদয়। উদীয়মান এই গুণী শিল্পীর সুরের যাত্রাটা শুরু হতেই এভাবে থমকে যাবে, তা মেনে নিতে পারছেন না তাঁর সহশিল্পী ও সংস্কৃতিজনেরা।

দুর্ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বিশ্বনাথের বৈরাগী বাজারের অনুষ্ঠানে সবাইকে আসার দাওয়াত দিয়েছিলেন পেহেলি। সেই আমন্ত্রণই যে তাঁর জীবনের শেষ ডাক হয়ে থাকবে আর একতারার সুর যে অকালেই থেমে যাবে, তা ভেবে এখন অশ্রুসজল তাঁর সহশিল্পী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

সিলেটের ওসমানীনগরের সড়কে ঝরে পড়া অন্য আটটি তাজা প্রাণের সঙ্গে পেহেলির এই বিদায় লোকসংগীত অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করে গেল।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত