নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট

‘জীবনকে আলোকিত করতে পাঠিয়েছিলাম। ফিরল অন্ধ হয়ে। সব স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। এখন চাওয়া একটাই ছেলে জীবনের নিশ্চয়তা ও চিকিৎসা। আর আমার ছেলের মতো যেন কোনো বাবা-মার ছেলে অন্ধ হয়ে ঘরে ফিরতে না হয়।’
গতকাল শুক্রবার আজকের পত্রিকাকে কথাগুলো বলেন ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার আমিরাবাড়ী ইউনিয়নের গুজিয়াম গ্রামের আলমগীর হোসেন।
তিনি ৬ জানুয়ারি সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ এবং পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় আঘাত পেয়ে এক চোখ হারানো ফিশারিজ বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ওমর ফারুকের বাবা।
রাজধানীর জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে টানা ১২ দিন চিকিৎসা শেষে গত বুধবার সিকৃবিতে আসেন ওমর ফারুক। দুদিন থেকে পরীক্ষা দিয়ে শুক্রবার ময়মনসিংহে নিজ বাড়িতে চলে যান।
পরিবারের বড় ছেলের এমন করুণ পরিণতিতে হতবিহ্বল আলমগীর জানান, ‘ছেলে চিকিৎসা নিয়ে দৌড়া-দৌড়িতে ছিলাম। মাত্র বাড়িতে ফিরলাম। আগামী বুধবার আবার ওকে নিয়ে ঢাকা যেতে হবে। পরিবারের সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়ে মামলা করব। যাদের কারণে, যারা আমার ছেলে চোখের আলো কেড়ে নিয়েছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চিকিৎসার ব্যয় দিচ্ছে, তাঁরা বিচার ও চাকরির আশ্বাস দিচ্ছেন। যাতে আমরা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করি।’
ওমর ফারুক আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বাম চোখে আগে থেকেই কিছুটা সমস্যা। ডান চোখটা পুরোপুরি ভালো ছিল কিন্তু এখন একেবারে অন্ধ। সকালে ঘুম থেকে উঠলে চশমা ছাড়া আলো দেখতে পারি না। সারা জীবন আমাকে এই কষ্ট নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে।’
জানতে চাইলে ওমর ফারুক বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চিকিৎসার খরচ দিচ্ছেন। নানা আশ্বাস দিচ্ছেন। এসব তো মৌখিক আশ্বাস। আমার আরও পড়াশোনার বছর বাকি আছে। দুবছর পরে এসব আশ্বাস কতটুকু কার্যকর হবে হবে বুঝতেছি না। তা ছাড়া এত দিন আমি চিকিৎসার জন্য ব্যস্ত ছিলাম, এ জন্য কোনো কিছুই করতে পারিনি। আমি কোনো রাজনীতিও করি না। আহতদের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা করতে গিয়েছিলাম। যাদের জন্য, যারা আমার এই অবস্থা করেছে। তাদের সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। শিগগিরই পরিবারের সবার সঙ্গে পরামর্শ করে মামলা করব। বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আমার মতো আর কোনো ওমর ফারুক যেন অন্ধ না হয়, সেই ব্যবস্থা করার জন্য যা যা করতে হয় সব করব।’
এদিকে, এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় গঠিত তদন্ত কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আতিকুজ্জামান আগামী রোববার বিকেল ৩টায় নিজ অফিসকক্ষে সাক্ষাতের জন্য ডেকেছেন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক সহ ৮ নেতাকে। গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক মো. মনিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাদের ডাকা হয়।
অন্যদিকে এ ঘটনা ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ উল্লেখ করে দুঃখপ্রকাশ করেছে সিকৃবি ছাত্রলীগ। সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় ভবিষ্যতে আর কখনো এ রকম ঘটনা না ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের করা শোকজ নোটিশের জবাব দিয়েছেন সিকৃবি ছাত্রলীগ। গত রোববার কমিটির ১১ নেতা স্বাক্ষরিত লিখিত জবাব, শাখা সভাপতি আশিকুর রহমান জমা দেন।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রলীগ নেতা জানান, বিরোধীদের বহিষ্কার ভয় দেখিয়ে সমঝোতার স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, বিরোধীদের শীর্ষ নেতাদের বহিষ্কার করানোর জন্যই নাকি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে দিয়ে এই শোকজ করানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে সিকৃবি ছাত্রলীগের সভাপতি আশিকুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল। এ জন্য আমরা ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ বলেছি। কাউকে বহিষ্কারের ভয় দেখানো হয়নি। এসব অপপ্রচার, গুজব।’
এ বিষয়ে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জামাল উদ্দিন ভূঞা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। ভবিষ্যতেও করবে। ভবিষ্যৎ জীবনের নিশ্চয়তা দেওয়া তো সম্ভব না। ওমর ফারুকের এখনো পড়ালেখা বাকি রয়েছে। পড়াশোনা শেষ করুক, তখনো সামর্থ্য অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁর পাশে দাঁড়াবে। তদন্ত কমিটি কাজ করছে নিশ্চয়। ঢাকায় থাকাকালীন কতটুকু করেছে জানি না। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

‘জীবনকে আলোকিত করতে পাঠিয়েছিলাম। ফিরল অন্ধ হয়ে। সব স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। এখন চাওয়া একটাই ছেলে জীবনের নিশ্চয়তা ও চিকিৎসা। আর আমার ছেলের মতো যেন কোনো বাবা-মার ছেলে অন্ধ হয়ে ঘরে ফিরতে না হয়।’
গতকাল শুক্রবার আজকের পত্রিকাকে কথাগুলো বলেন ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার আমিরাবাড়ী ইউনিয়নের গুজিয়াম গ্রামের আলমগীর হোসেন।
তিনি ৬ জানুয়ারি সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ এবং পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় আঘাত পেয়ে এক চোখ হারানো ফিশারিজ বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ওমর ফারুকের বাবা।
রাজধানীর জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে টানা ১২ দিন চিকিৎসা শেষে গত বুধবার সিকৃবিতে আসেন ওমর ফারুক। দুদিন থেকে পরীক্ষা দিয়ে শুক্রবার ময়মনসিংহে নিজ বাড়িতে চলে যান।
পরিবারের বড় ছেলের এমন করুণ পরিণতিতে হতবিহ্বল আলমগীর জানান, ‘ছেলে চিকিৎসা নিয়ে দৌড়া-দৌড়িতে ছিলাম। মাত্র বাড়িতে ফিরলাম। আগামী বুধবার আবার ওকে নিয়ে ঢাকা যেতে হবে। পরিবারের সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়ে মামলা করব। যাদের কারণে, যারা আমার ছেলে চোখের আলো কেড়ে নিয়েছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চিকিৎসার ব্যয় দিচ্ছে, তাঁরা বিচার ও চাকরির আশ্বাস দিচ্ছেন। যাতে আমরা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করি।’
ওমর ফারুক আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বাম চোখে আগে থেকেই কিছুটা সমস্যা। ডান চোখটা পুরোপুরি ভালো ছিল কিন্তু এখন একেবারে অন্ধ। সকালে ঘুম থেকে উঠলে চশমা ছাড়া আলো দেখতে পারি না। সারা জীবন আমাকে এই কষ্ট নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে।’
জানতে চাইলে ওমর ফারুক বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চিকিৎসার খরচ দিচ্ছেন। নানা আশ্বাস দিচ্ছেন। এসব তো মৌখিক আশ্বাস। আমার আরও পড়াশোনার বছর বাকি আছে। দুবছর পরে এসব আশ্বাস কতটুকু কার্যকর হবে হবে বুঝতেছি না। তা ছাড়া এত দিন আমি চিকিৎসার জন্য ব্যস্ত ছিলাম, এ জন্য কোনো কিছুই করতে পারিনি। আমি কোনো রাজনীতিও করি না। আহতদের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা করতে গিয়েছিলাম। যাদের জন্য, যারা আমার এই অবস্থা করেছে। তাদের সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। শিগগিরই পরিবারের সবার সঙ্গে পরামর্শ করে মামলা করব। বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আমার মতো আর কোনো ওমর ফারুক যেন অন্ধ না হয়, সেই ব্যবস্থা করার জন্য যা যা করতে হয় সব করব।’
এদিকে, এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় গঠিত তদন্ত কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আতিকুজ্জামান আগামী রোববার বিকেল ৩টায় নিজ অফিসকক্ষে সাক্ষাতের জন্য ডেকেছেন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক সহ ৮ নেতাকে। গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক মো. মনিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাদের ডাকা হয়।
অন্যদিকে এ ঘটনা ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ উল্লেখ করে দুঃখপ্রকাশ করেছে সিকৃবি ছাত্রলীগ। সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় ভবিষ্যতে আর কখনো এ রকম ঘটনা না ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের করা শোকজ নোটিশের জবাব দিয়েছেন সিকৃবি ছাত্রলীগ। গত রোববার কমিটির ১১ নেতা স্বাক্ষরিত লিখিত জবাব, শাখা সভাপতি আশিকুর রহমান জমা দেন।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রলীগ নেতা জানান, বিরোধীদের বহিষ্কার ভয় দেখিয়ে সমঝোতার স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, বিরোধীদের শীর্ষ নেতাদের বহিষ্কার করানোর জন্যই নাকি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে দিয়ে এই শোকজ করানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে সিকৃবি ছাত্রলীগের সভাপতি আশিকুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল। এ জন্য আমরা ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ বলেছি। কাউকে বহিষ্কারের ভয় দেখানো হয়নি। এসব অপপ্রচার, গুজব।’
এ বিষয়ে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জামাল উদ্দিন ভূঞা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। ভবিষ্যতেও করবে। ভবিষ্যৎ জীবনের নিশ্চয়তা দেওয়া তো সম্ভব না। ওমর ফারুকের এখনো পড়ালেখা বাকি রয়েছে। পড়াশোনা শেষ করুক, তখনো সামর্থ্য অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁর পাশে দাঁড়াবে। তদন্ত কমিটি কাজ করছে নিশ্চয়। ঢাকায় থাকাকালীন কতটুকু করেছে জানি না। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

রোববার সন্ধ্যায় মেহেদী গোবরা থেকে মোটরসাইকেলযোগে শহরের বাসায় ফেরার পথে চিত্রা নদীর এসএম সুলতান সেতু এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ভ্যানকে ধাক্কা দেয়।
২৩ মিনিট আগে
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকা-১২ আসনে (তেজগাঁও এলাকা) রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। এই আসনে ‘তিন সাইফুলের’ উপস্থিতি ভোটের মাঠে বাড়তি কৌতূহল তৈরি করেছে। তাঁরা হলেন—দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. সাইফুল
৫ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনায় সর্বোচ্চ খরচের পরিকল্পনা করেছেন বিএনপির আলী আসগর লবী। আর জেলায় সবচেয়ে কম বাজেট একই দলের আরেক প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুলের। হলফনামায় ছয়টি আসনের প্রার্থীদের অধিকাংশই নিজস্ব আয়ের পাশাপাশি স্বজনদের কাছ থেকে ধার ও অনুদান নিয়ে এই ব্যয় মেটানোর কথা জানিয়েছেন।
৫ ঘণ্টা আগে
লক্ষ্মীপুরে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে জামায়াতের মামলায় ১৭০ এবং বিএনপির মামলায় ২১৭ জনকে আসামি করা হয়। গত শনিবার রাতে জামায়াত নেতা হেজবুল্লাহ এবং বিএনপির কর্মী কামাল হোসেন বাদী হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় মামলা দুটি করেন।
৫ ঘণ্টা আগে