নির্যাতনের পর অচেতন ছাত্রলীগ নেতাকে হাসপাতালে রেখে যাওয়ার অভিযোগ, অস্বীকার পুলিশের

সুনামগঞ্জে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সকে (১৯) গ্রেপ্তারের পর পুলিশি হেফাজতে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, থানায় নেওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে ফেলে রাখা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে নেওয়া হয় তাঁকে। তবে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে সুনামগঞ্জ শহরের নতুনপাড়ার বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ।
শাহনেওয়াজ সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বলে জানা গেছে। তবে তাঁর পরিবারের দাবি, তিনি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। শাহনেওয়াজ সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার তেঘরিয়া গ্রামের শাহরুখ রাজা চৌধুরীর ছেলে।
পরিবারের অভিযোগ, গতকাল রাতে সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাকারিয়ার নেতৃত্বে একদল পুলিশ নতুনপাড়ার বাসায় যায়। ওসি রতন শেখের সঙ্গে দেখা করানোর কথা বলে শাহনেওয়াজকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রাত দেড়টার দিকে পরিচিত একজনের মাধ্যমে তাঁরা জানতে পারেন, শাহনেওয়াজ অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে পড়ে আছেন।
শাহনেওয়াজের বাবা শাহরুখ রাজা চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে তাঁরা দ্রুত হাসপাতালে যান। পরে ছেলেকে মুমূর্ষু অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসার ব্যবস্থা না হওয়ায় তাঁকে সুবিদবাজারের কুইন্স নামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আজ শুক্রবার বেলা ১টা পর্যন্ত তাঁর ছেলে অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
শাহরুখ রাজা চৌধুরী জানান, তাঁর ছেলে এ বছর সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন। এর আগে একটি মামলায় তাঁকে আটক করা হয়েছিল এবং কারাগারে থেকেই তিনি পরীক্ষায় অংশ নেন। বর্তমানে জামিনে থাকা সত্ত্বেও বাসা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার দুই ঘণ্টার মধ্যে ছেলেকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ফেলে রাখা হয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বাসা থেকে গ্রেপ্তারের আগে শাহনেওয়াজ পুলিশকে বলছেন, ‘স্যার, আমি কয়দিন পর আত্মসমর্পণ করব।’ জবাবে এক পুলিশ সদস্যকে বলতে শোনা যায়, ‘বোকা ছেলের মতো কথা বলো। দুদিন পরে তুমি পাস করলে আমরা মিষ্টি খাওয়াব, সমস্যা নাই।’ শাহনেওয়াজ তাঁর ক্যারিয়ার নষ্ট হওয়ার কথা বললে ওই পুলিশ সদস্য বলেন, ‘ক্যারিয়ার তো এমনিই নাই। ক্যারিয়ার তো শেষ হয়ে গেছে।’
থানায় শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি রতন শেখ বলেন, শাহনেওয়াজ চৌধুরীর বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে। অসুস্থতার কারণ চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন। এ বিষয়ে তিনি আর কোনো মন্তব্য করেননি।
শাহনেওয়াজের অসুস্থতার বিষয়ে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আলী আশরাফ সোহাগ বলেন, আজ শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় আমি হাসপাতালে নেই। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানি না।









