Ajker Patrika

যানজট এড়াতে নৌপথে যমুনা পেরিয়ে ঢাকামুখী যাত্রা

আব্দুল্লাহ আল মারুফ, সিরাজগঞ্জ
যানজট এড়াতে নৌপথে যমুনা পেরিয়ে ঢাকামুখী যাত্রা
আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চৌহালী উপজেলার এনায়েতপুর নৌঘাট থেকে তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঈদ-পরবর্তী সময়ে সড়কে রাজধানীমুখী মানুষের ভিড় যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে যানজট আর ভোগান্তিও। সেই ভোগান্তি এড়াতে অনেকেই এখন বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছেন নৌপথ। যমুনা নদী পেরিয়ে নৌকায় টাঙ্গাইল হয়ে ঢাকায় ফিরছেন শত শত মানুষ।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চৌহালী উপজেলার এনায়েতপুর নৌঘাটে দেখা যায়, শিশু-কিশোরসহ ব্যাগপত্র নিয়ে গাদাগাদি করে নৌকায় উঠছেন যাত্রীরা। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ আবার একা সবাই দ্রুত ঢাকায় ফেরার তাড়ায়।

আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চৌহালী উপজেলার এনায়েতপুর নৌঘাট থেকে তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা
আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চৌহালী উপজেলার এনায়েতপুর নৌঘাট থেকে তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

৫৫ বছর বয়সী গোলজার হোসেন ছেলের স্ত্রীসহ ঢাকায় ফিরছেন নৌপথে। তিনি বলেন, রাস্তায় অনেক যানজট আর ভোগান্তি। তাই নৌকায় সিরাজগঞ্জের চৌহালী পার হয়ে টাঙ্গাইলের নাগরপুর হয়ে ঢাকায় যাব। তিনি জানান, এক ঘণ্টার বেশি যাত্রায় জনপ্রতি ভাড়া ১০০ টাকা হলেও নৌপথেও ঝুঁকি রয়েছে। এখন লোক বেশি, তাই একটু ভয়ও লাগে।

আকাশ নামের এক ব্যক্তি বলেন, শুক্রবার সারা দিন এবং শনিবারেও নিউজে দেখলাম রাস্তায় যানজট তাই বিকল্প পথে ভেঙে ভেঙে ঢাকায় যাওয়ার চেষ্টা করছি।

চৌহালী উপজেলার পশ্চিম কোদালিয়া এলাকার মো. আবুল খায়ের মিয়া বেলকুচিতে সন্তানকে রেখে ফেরার পথে বলেন, ‘নৌপথেও ঝুঁকি আছে। আকাশে যেকোনো সময় ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে, সেই ভয় তো আছেই। আর নিরাপত্তার জন্য তো নৌকায় লাইফ জ্যাকেট নেই।’

সরেজমিন দেখা যায়, সকাল থেকেই নৌঘাটে যাত্রীর চাপ বাড়তে থাকে। প্রতিটি নৌকায় গড়ে ১২০ থেকে ১৫০ জন করে যাত্রী পারাপার হচ্ছেন। শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের পাশাপাশি মালপত্র নিয়েও ভিড় দেখা গেছে। তবে অধিকাংশ নৌকায় কোনো ধরনের লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা নেই।

নৌকার মাঝিরা জানান, ঈদ-পরবর্তী যাত্রীর চাপ অনেক বেশি।

মাঝি মো. হৃদয় বলেন, লোকজনের চাপ আছে, এখনো ঈদের পরের ভিড় পুরোপুরি কমেনি।

এদিকে যমুনার পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কেও যানবাহনের চাপ লক্ষ করা গেছে। কোথাও কোথাও থেমে থেমে চলছে যান চলাচল।

সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু শনিবার দুপুর ১২টায় বলেন, রাতে কিছুটা সমস্যা ছিল, তবে এখন যমুনা সেতুর পশ্চিম মহাসড়কের কড্ডারমোড় এলাকায় যানজট নেই।

এদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে ১৭ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার (৫ জুন) দিবাগত রাত থেকে যমুনা সেতুর টোল প্লাজা থেকে পৌলি পর্যন্ত এই যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত