Ajker Patrika

শেরপুরে কোল্ডস্টোরেজে অ্যামোনিয়া গ্যাস লিকেজ, ৫৭ হাজার বস্তা আলু নষ্ট

শেরপুর প্রতিনিধি
আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৬, ২১: ১৫
শেরপুরে কোল্ডস্টোরেজে অ্যামোনিয়া গ্যাস লিকেজ, ৫৭ হাজার বস্তা আলু নষ্ট
হিমাগারের রেফ্রিজারেশন ইউনিটের পাইপ ফেটে অ্যামোনিয়া গ্যাস ছড়িয়ে পড়লে নষ্ট হয় আলু। ছবি: আজকের পত্রিকা

শেরপুরের একমাত্র বেসরকারি হিমাগার `তাজ কোল্ড স্টোরেজে' যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক হয়ে প্রায় ৫৭ হাজার বস্তা আলু পঁচে গেছে। এতে আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন। আসন্ন আলু চাষের মৌসুমে বীজ সংকটের শঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর জেলায় গত মৌসুমে ৫ হাজার ৪৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৯০০ মেট্রিক টন। মৌসুমের শুরুতে দাম কম থাকায় বেশি লাভের আশায় এবং পরবর্তী মৌসুমের চাষাবাদের জন্য কৃষকরা প্রতি বছরই কোল্ড স্টোরেজে আলু সংরক্ষণ করেন।

জেলায় সরকারি দুটি আলু বীজ হিমাগারে মাত্র ৩ হাজার মেট্রিক টন বীজ আলু রাখা যায়। এ কারণে কৃষকদের প্রধান ভরসা জেলার বিসিক শিল্পনগরীতে স্থাপিত একমাত্র বেসরকারি হিমাগার তাজ কোল্ড স্টোরেজ। এর ধারণক্ষমতা প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন বা ১ লাখ ৭৩ হাজার বস্তা। এখানে বস্তাপ্রতি ৩৬০ টাকায় নভেম্বর মাস পর্যন্ত বীজ ও খাবারের আলু রাখা যায়। শেরপুরের বাইরে ও আশপাশের জেলার নিকটবর্তী উপজেলা থেকেও এখানে আলু আসে।

গত ১৪ জুলাই কোল্ড স্টোরেজটির রেফ্রিজারেশন ইউনিটের পাইপ ফেটে বিষাক্ত অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক হওয়া শুরু করে। প্রথমে কোল্ড স্টোরেজের ফোরম্যান আব্দুল মান্নান ও তাঁর সহকারীরা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন। ব্যর্থ হলে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এর আগেই গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনায় কোল্ড স্টোরেজটির তিনটি চেম্বারের মধ্যে দুই নম্বর চেম্বারে থাকা প্রায় ৫৭ হাজার বস্তা আলু পঁচে নষ্ট হয়ে যায়। পরিমাণে এটি প্রায় ৩ হাজার ১শ টনের বেশি। ঘটনা জানাজানি হলে আজ রোববার দুপুরে কৃষকরা কোল্ড স্টোরেজে ছুটে এসে বিক্ষোভ শুরু করেন। বীজ আলু নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আগামী মৌসুমে আবাদ কীভাবে করবেন, তা নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

সদর উপজেলার হেরুয়া গ্রামের কৃষক সুলতান মিয়া বলেন, আগামী মৌসুমে চাষাবাদের জন্য তিনি ৫১ বস্তা বীজ আলু রেখেছিলেন। কিন্তু গ্যাসের কারণে সব আলু পঁচে গেছে। টাকা দিয়ে কোল্ড স্টোরেজে আলু রেখেও তা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।

পার্শ্ববর্তী লতারিয়া গ্রামের কৃষক দেলোয়ার হোসেন, আব্দুস সালাম, আনোয়ার হোসেনসহ অনেক কৃষকের একই অবস্থা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

লোকসানের মুখে পড়েছেন আলু ব্যবসায়ীরাও। স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল গণি বলেন, তাঁর ১ হাজার ৬৪০ বস্তা দেশি আলু একেবারে পঁচে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে লাখ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পুরো হিসাব করার সাহসও তিনি পাচ্ছেন না।

ক্ষতির বিষয়টি স্বীকার করে কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন,`দুর্ঘটনাবশত পাইপ ফেটে গিয়ে অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক হয়ে ৫৭ হাজার বস্তা আলু নষ্ট হয়েছে। এ ঘটনায় আগামী বৃহস্পতিবার কৃষক ও ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসে আলোচনা করে তাদের সঙ্গে উপযুক্ত একটি সিদ্ধান্তে আসব।'

নষ্ট আলু বাজারে গিয়ে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরির শঙ্কায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ আলুর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে কোল্ড স্টোরেজের ক্ষতিগ্রস্ত চেম্বার পরিদর্শন করেছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা বিনতে রফিক।

পরিদর্শন শেষে আসমা বিনতে রফিক বলেন, `কোল্ড স্টোরেজের গ্যাস লিকেজের ঘটনাটি জানার পর জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনায় সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ আলুর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করবে। ঘটনার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে এবং তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত