সালিসে দাম্পত্য কলহ মেটানোর পর গৃহবধূকে গলাকেটে হত্যা, স্বামী আটক

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় লামিয়া বৃষ্টি (২১) নামে এক গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগে তাঁর স্বামী রবিউল ছৈয়ালকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের কনেশ্বর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছয় বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে লামিয়ার সঙ্গে রবিউলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে রবিউল মাদক সেবন ও কারবারে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। সর্বশেষ এক সপ্তাহ আগে রবিউলকে মাদক সেবন ও বিক্রি ছেড়ে দিতে বলেন লামিয়া। তা না হলে তাঁকে তালাক দেওয়ার কথা জানিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান তিনি।
গতকাল সোমবার পারিবারিক বিরোধ মেটানোর কথা বলে লামিয়াকে রবিউলের বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। পরে স্থানীয় সালিসে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। তবে সালিস শেষে সবাই চলে গেলে রবিউলের সঙ্গে লামিয়ার আবারও কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রবিউল ধারালো অস্ত্র দিয়ে লামিয়ার গলা কেটে পাশের বাড়ির একটি ডোবায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
পরে লামিয়ার ছোট ভাই ওবায়দুল মাদবর তাঁকে খুঁজতে গিয়ে ডোবায় পড়ে থাকতে দেখেন। সেখান থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে লামিয়ার মৃত্যু হয়।
নিহতের মা শাহিদা আক্তার বলেন, ‘বিয়ের পর থেকে রবিউল মাদক সেবন ও ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে কথা বললে প্রায়ই আমার মেয়েকে মারধর করত। এ বিষয়ে আমরা থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছি। সর্বশেষ গত সপ্তাহে রবিউলকে তালাক দেওয়ার কথা বলে লামিয়া আমাদের বাড়িতে চলে আসে। গতকাল তাঁদের পরিবারের লোকজন সমাধানের কথা বলে লামিয়াকে ডেকে নেন। দুজনের মধ্যে বিষয়টি মীমাংসা করে দিলে আমরা বাড়ি ফিরে আসি। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই শুনি, আমার মেয়ের গলা কেটে রবিউল পালিয়ে গেছে। সেখানে গিয়ে দেখি, আমার মেয়েকে ডোবা থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়েছে। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীর বিচার চাই।’
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঘটনার পর মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অভিযুক্ত রবিউলকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









