
উজানের ঢলে দেশের উত্তরাঞ্চলের তিনটি নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এতে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারীর বিভিন্ন উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। অপর দিকে বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে সুরমা নদীর পানি বেড়ে সুনামগঞ্জের ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার ছয় গ্রামে পানি প্রবেশ করছে। দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এসব এলাকার বাসিন্দারা।
আজকের পত্রিকার প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
উত্তরাঞ্চলের তিন জেলায় বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে দুধকুমার, তিস্তা ও ধরলায়। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে কুড়িগ্রামের পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদের পানি বিপৎসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার এবং সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। নাগেশ্বরীতে দুধকুমার-তীরবর্তী একটি গ্রামীণ ‘বাঁধ’ উপচে অন্তত পাঁচটি গ্রামে পানি প্রবেশ করে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কুড়িগ্রাম কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এসব নদ-নদীতে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আগামী দুই-তিন দিন পানি বেড়ে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।
কুড়িগ্রাম পাউবোর নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে জানা গেছে, গতকাল ব্রহ্মপুত্রের পানি নুন খাওয়া পয়েন্টে ৩৯ সেন্টিমিটার, চিলমারী পয়েন্টে ৩২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার যথাক্রমে ২৪ ও ৩০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। আগামী ছয় দিন পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপৎসীমায় পৌঁছাতে পারে।
এদিকে অব্যাহত পানি বৃদ্ধির ফলে কুড়িগ্রাম সদরের পাঁচগাছী, যাত্রাপুর, হলোখানা, ঘোগাদহ ও ভোগডাঙা ইউনিয়ন, উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ, হাতিয়া, বজরা ও সাহেবের আলগাসহ ৮টি ইউনিয়ন; ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার অববাহিকার আন্ধারীরঝাড়, নাগেশ্বরীর রায়গঞ্জ, বল্লভের খাস, নারায়ণপুর, নুনখাওয়া ও বামনডাঙাসহ ৯ ইউনিয়ন এবং চিলমারীর কয়েকটি ইউনিয়নের বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেছে। এতে এসব এলাকার কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।
নাগেশ্বরীর রায়গঞ্জ ইউনিয়নের ফাঁন্দেরচর গ্রামের চন্দ্রবানু বলেন, ‘আইজ তিন দিন থাইকা ঘরেত পানি। অহন আর থাহা যাইতেছে না। সবকিছু লইয়া উঁচা জায়গায় যাই। নাইলে পানিতে ডুইবা মরণ লাগবো।’
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ বলেন, শুক্রবার জেলার প্রায় ৭০০ পরিবারকে খাদ্যসহায়তা দেওয়া হয়েছে। নাগেশ্বরী, রাজারহাট, উলিপুর উপজেলার কিছু প্লাবিত এলাকা থেকে দুর্গতদের সরিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হচ্ছে। পশুখাদ্যের যেন ঘাটতি না হয় সে প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।
ফুলবাড়িতে ধরলা বারোমাসিয়া ও নীলকমল নদীর পানি বেড়ে চর ও নদী-তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। উপজেলার গোড়কমন্ডল বাজার থেকে গোড়কমন্ডল বিজিবি ক্যাম্প পর্যন্ত সড়কের ১৫ মিটার অংশ ভেঙে গেছে। এতে স্থানীয় নেঞ্জারকুটি গ্ৰামের ৫০০ পরিবার পানিবন্দী ও সড়কপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
তিস্তার পানি নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যারেজের ৪৪টি গেট খুলে দিয়েছে তিস্তা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ। এ নদীর পানিতে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তলিয়ে গেছে বেশ কয়েকটি এলাকার রাস্তাঘাট, পুকুরসহ বসতবাড়ি। উপজেলায় ভাঙন হুমকিতে আছে শতাধিক বাড়িঘর, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
গতকাল দুপুরে তিস্তার পানিতে গঙ্গাচড়ার মটুকপুর, চিলাখাল, বিনবিনা চর নোহালী, ছালাপাক আলালের চরসহ ছয় ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি গ্রামের বাসিন্দাদের পানিবন্দী হওয়ার খবর পাওয়া যায়। পরিবার নিয়ে অনেকে উঁচু রাস্তার ধারে ঠাঁই নিয়েছেন।
এ নদীর পানিতে লালমনিরহাটেরও অনেক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আদিতমারী উপজেলার বারঘরিয়া গ্রামের এক বাসিন্দা জানান, পানির কারণে মরদেহ দাফনেও বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। গতকাল স্থানীয় এক ব্যক্তি মারা গেছেন। কিন্তু কবরস্থানে হাঁটু সমান পানি জমে আছে। দাফন নিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন স্বজনেরা।
লালমনিরহাট পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। ফলে নদ-নদীর পানি আরও বাড়বে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ উল্যাহ বলেন, দুর্যোগকালীন ৪৫০ টন চাল ও ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ আছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় ১১০ টন চাল ও ৪ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে বরাদ্দ দেওয়া হবে।

উজানের ঢলে দেশের উত্তরাঞ্চলের তিনটি নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এতে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারীর বিভিন্ন উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। অপর দিকে বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে সুরমা নদীর পানি বেড়ে সুনামগঞ্জের ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার ছয় গ্রামে পানি প্রবেশ করছে। দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এসব এলাকার বাসিন্দারা।
আজকের পত্রিকার প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
উত্তরাঞ্চলের তিন জেলায় বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে দুধকুমার, তিস্তা ও ধরলায়। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে কুড়িগ্রামের পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদের পানি বিপৎসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার এবং সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। নাগেশ্বরীতে দুধকুমার-তীরবর্তী একটি গ্রামীণ ‘বাঁধ’ উপচে অন্তত পাঁচটি গ্রামে পানি প্রবেশ করে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কুড়িগ্রাম কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এসব নদ-নদীতে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আগামী দুই-তিন দিন পানি বেড়ে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।
কুড়িগ্রাম পাউবোর নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে জানা গেছে, গতকাল ব্রহ্মপুত্রের পানি নুন খাওয়া পয়েন্টে ৩৯ সেন্টিমিটার, চিলমারী পয়েন্টে ৩২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার যথাক্রমে ২৪ ও ৩০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। আগামী ছয় দিন পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপৎসীমায় পৌঁছাতে পারে।
এদিকে অব্যাহত পানি বৃদ্ধির ফলে কুড়িগ্রাম সদরের পাঁচগাছী, যাত্রাপুর, হলোখানা, ঘোগাদহ ও ভোগডাঙা ইউনিয়ন, উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ, হাতিয়া, বজরা ও সাহেবের আলগাসহ ৮টি ইউনিয়ন; ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার অববাহিকার আন্ধারীরঝাড়, নাগেশ্বরীর রায়গঞ্জ, বল্লভের খাস, নারায়ণপুর, নুনখাওয়া ও বামনডাঙাসহ ৯ ইউনিয়ন এবং চিলমারীর কয়েকটি ইউনিয়নের বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেছে। এতে এসব এলাকার কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।
নাগেশ্বরীর রায়গঞ্জ ইউনিয়নের ফাঁন্দেরচর গ্রামের চন্দ্রবানু বলেন, ‘আইজ তিন দিন থাইকা ঘরেত পানি। অহন আর থাহা যাইতেছে না। সবকিছু লইয়া উঁচা জায়গায় যাই। নাইলে পানিতে ডুইবা মরণ লাগবো।’
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ বলেন, শুক্রবার জেলার প্রায় ৭০০ পরিবারকে খাদ্যসহায়তা দেওয়া হয়েছে। নাগেশ্বরী, রাজারহাট, উলিপুর উপজেলার কিছু প্লাবিত এলাকা থেকে দুর্গতদের সরিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হচ্ছে। পশুখাদ্যের যেন ঘাটতি না হয় সে প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।
ফুলবাড়িতে ধরলা বারোমাসিয়া ও নীলকমল নদীর পানি বেড়ে চর ও নদী-তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। উপজেলার গোড়কমন্ডল বাজার থেকে গোড়কমন্ডল বিজিবি ক্যাম্প পর্যন্ত সড়কের ১৫ মিটার অংশ ভেঙে গেছে। এতে স্থানীয় নেঞ্জারকুটি গ্ৰামের ৫০০ পরিবার পানিবন্দী ও সড়কপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
তিস্তার পানি নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যারেজের ৪৪টি গেট খুলে দিয়েছে তিস্তা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ। এ নদীর পানিতে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তলিয়ে গেছে বেশ কয়েকটি এলাকার রাস্তাঘাট, পুকুরসহ বসতবাড়ি। উপজেলায় ভাঙন হুমকিতে আছে শতাধিক বাড়িঘর, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
গতকাল দুপুরে তিস্তার পানিতে গঙ্গাচড়ার মটুকপুর, চিলাখাল, বিনবিনা চর নোহালী, ছালাপাক আলালের চরসহ ছয় ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি গ্রামের বাসিন্দাদের পানিবন্দী হওয়ার খবর পাওয়া যায়। পরিবার নিয়ে অনেকে উঁচু রাস্তার ধারে ঠাঁই নিয়েছেন।
এ নদীর পানিতে লালমনিরহাটেরও অনেক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আদিতমারী উপজেলার বারঘরিয়া গ্রামের এক বাসিন্দা জানান, পানির কারণে মরদেহ দাফনেও বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। গতকাল স্থানীয় এক ব্যক্তি মারা গেছেন। কিন্তু কবরস্থানে হাঁটু সমান পানি জমে আছে। দাফন নিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন স্বজনেরা।
লালমনিরহাট পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। ফলে নদ-নদীর পানি আরও বাড়বে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ উল্যাহ বলেন, দুর্যোগকালীন ৪৫০ টন চাল ও ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ আছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় ১১০ টন চাল ও ৪ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে বরাদ্দ দেওয়া হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুরের পাঁচটি আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের অধিকাংশই কোটিপতি। পাশাপাশি জামায়াতের প্রার্থীরা হলেন লাখপতি। নির্বাচনে কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা পর্যালোচনা করে এসব তথ্য জানা গেছে।
৬ ঘণ্টা আগে
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে ছয়জন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে নামলেও বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। এই দুই প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবিরা সুলতানার সোনার গয়না আছে ৩০ তোলার; যার দাম ৫০ হাজার টাকা। জামায়াতের...
৬ ঘণ্টা আগে
বিরোধপূর্ণ একটি জমি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে (চসিক) হস্তান্তর করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। গত ৮ ডিসেম্বর চসিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ছয় একর জমি হস্তান্তর করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে কর্ণফুলী নদীর পাড়ে ওই জমি একসনা (এক বছরের জন্য) ইজারা নিয়ে ২০ বছরের জন্য লিজ দেওয়ার উদ্যোগ...
৬ ঘণ্টা আগে
চলতি আমন মৌসুমে সরকারি মূল্যে চাল সংগ্রহ কার্যক্রমে জয়পুরহাট জেলার পাঁচ উপজেলায় হাস্কিং মিল ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। খাদ্য বিভাগের নথিতে সচল দেখানো বহু হাস্কিং মিল বাস্তবে বিদ্যুৎ সংযোগহীন, উৎপাদন বন্ধ কিংবা দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকলেও এসব মিলের নামেই সরকারি খাদ্যগুদামে...
৬ ঘণ্টা আগে