Ajker Patrika

তিস্তার ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা চেয়ে পাউবো কার্যালয় ঘেরাও, মহাসড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি

 গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৬, ১৯: ৪৪
তিস্তার ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা চেয়ে পাউবো কার্যালয় ঘেরাও, মহাসড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি
রংপুর পাউবো কার্যালয়ের সামনে চর এলাকার দুই শতাধিক বাসিন্দার ঘেরাও কর্মসূচি। ছবি: আজকের পত্রিকা

তিস্তা নদীর ভাঙন রোধে দ্রুত ও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কার্যালয় ঘেরাও করেছেন ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দারা। আজ রোববার সকালে ‘তিস্তা নদীপাড়ের এলাকাবাসীর’ ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে গঙ্গাচড়া উপজেলার কয়েকটি চর এলাকার দুই শতাধিক মানুষ অংশ নেন। দাবি বাস্তবায়নে দ্রুত উদ্যোগ না নিলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধসহ আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।

আজ সকালে গঙ্গাচড়া উপজেলার বাগডহরা, নোহালী, বিনবিনা ও মটুকপুর চর এলাকার মানুষ রংপুর পাউবো কার্যালয়ের সামনে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বছরের পর বছর তিস্তার ভাঙনে হাজার হাজার হেক্টর আবাদি জমি ও শত শত বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হলেও স্থায়ী নদীশাসনের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। মাঝেমধ্যে কিছু জিও ব্যাগ দেওয়া হলেও তা দিয়ে ভাঙন ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না। জিও ব্যাগে বালু ভরাটের ব্যয়ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকেই বহন করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

সমাবেশে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রংপুর জেলা আহ্বায়ক আল মামুন, খেলাফত মজলিসের গঙ্গাচড়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মমিনুর ইসলাম ও ভাঙনকবলিত এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা।

এনসিপি নেতা আল মামুন বলেন, তিস্তার ভাঙনে প্রতিবছর মানুষ ঘরবাড়ি ও জমি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে। অনেক পরিবার এখনো নতুন করে বসত গড়তে পারেনি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরিদর্শন করলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ দেখা যায় না। সাময়িক কিছু জিও ব্যাগ দিয়ে দায় শেষ করা হচ্ছে। দ্রুত বরাদ্দ দিয়ে ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে স্থায়ী নদীশাসনের কাজ শুরুর দাবি জানান তিনি।

আল মামুন আরও বলেন, দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

নোহালী ইউনিয়নের বাগডহরা এলাকার কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, তিস্তার ভাঙনে তাঁর কয়েক বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। এখন বসতভিটাও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আর সাময়িক ব্যবস্থা চাই না। স্থায়ী নদীশাসনের মাধ্যমে ভাঙন রোধ করা না হলে আমাদের শেষ সম্বলটুকুও তিস্তা কেড়ে নেবে।’

সমাবেশ থেকে ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে পর্যাপ্ত জিও ব্যাগ সরবরাহ, স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়।

এ বিষয়ে রংপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, কোথাও ভাঙন দেখা দিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ সরবরাহ করা হয়। এটি তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে এসব কাজ পরিচালিত হয়।

রবিউল ইসলাম আরও বলেন, স্থায়ী প্রতিরক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা প্রণয়ন, বরাদ্দ অনুমোদন, ঠিকাদার নিয়োগসহ কয়েকটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগে। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক ভাঙনরোধের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করে পর্যায়ক্রমে স্থায়ী প্রতিরক্ষাকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত