Ajker Patrika

‘রণডঙ্কা’ মঞ্চায়নে উঠে এল নূরলদীনের সংগ্রাম

রংপুর প্রতিনিধি
‘রণডঙ্কা’ মঞ্চায়নে উঠে এল নূরলদীনের সংগ্রাম
মঞ্চনাটক ‘রণডঙ্কা’র দৃশ্য। ছবি: বিকন নাট্যকেন্দ্রের সৌজন্যে

রংপুরের ঐতিহাসিক কৃষক বিদ্রোহকে ভিত্তি করে ‘রণডঙ্কা’ নাটক মঞ্চায়ন করেছে বিকন নাট্যকেন্দ্র। রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নাটকটি মঞ্চস্থ হয়েছে।

বিকন নাট্যকেন্দ্রের ৩৫ তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম দিনে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অন্যায় করনীতি ও অত্যাচারী ইজারাদার দেবী সিংহের বিরুদ্ধে রংপুরে যে ঐতিহাসিক কৃষক বিদ্রোহ হয়েছিল, সেই সত্যকে ভিত্তি করে রচিত হয়েছে ‘রণডঙ্কা’। নাটকের মূল চরিত্র নূরলদীন ছিলেন এই কৃষক বিদ্রোহের মহান নেতা। ব্রিটিশদের নির্মম শোষণ ও জমিদারদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে কীভাবে নূরলদীন সাধারণ কৃষকদের জাগরণে ভূমিকা রাখেন, সেই গল্প ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এখানে। আঞ্চলিক ভাষার সার্থক ও নান্দনিক ব্যবহারে রংপুরের মানুষের দুঃখ, কষ্ট ও সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে নাটকটি মঞ্চায়ন করা হয়।

রণডঙ্কা নাটকটির রচয়িতা ও নির্দেশক আরিফুল হক রুজু। প্রায় ৫০ মিনিটের এই নাটকে অংশ নেন বিকন নাট্যকেন্দ্রের নতুন-পুরোনো ১৪ জন শিল্পী। তারা অভিনয়ের বিভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে পলাশীর প্রান্তর থেকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ৩রা মার্চ পর্যন্ত তুলে ধরেন।

যখনই দেশে কোনো অন্যায়, রাজনৈতিক সংকট বা মানুষের ওপর অত্যাচার নেমে আসে, তখনই নূরলদীনের সংগ্রামী চেতনার কথা স্মরণ করা হয়—এমনটাই বলছিলেন এই নাটকের প্রধান চরিত্রে থাকা ভূপেন পাল। তাঁর ভাষায়, নূরলদীন শুধু একজন ঐতিহাসিক চরিত্র নন, তিনি সব যুগের শোষিত মানুষের অধিকার আদায়ের এবং অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের এক শাশ্বত প্রতীক।

মঞ্চনাটক ‘রণডঙ্কা’র দৃশ্য। ছবি: বিকন নাট্যকেন্দ্রের সৌজন্যে
মঞ্চনাটক ‘রণডঙ্কা’র দৃশ্য। ছবি: বিকন নাট্যকেন্দ্রের সৌজন্যে

নাট্যনির্মাতা আরিফুল হক রুজু বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের ইতিহাস জাগ্রত করতে হবে। পলাশীর প্রান্তর থেকে মুক্তিযুদ্ধ, ২০০ বছরের এই ইতিহাসের রংপুরে দুটো ঘটনা উপমহাদেশে প্রথম। সেই ইতিহাসের একটা হচ্ছে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে নূরলদীনের সংগ্রাম এবং আরেকটা মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রামের নূরলদীনের পথ ধরে শংকু সমজদারের আত্মত্যাগ। আমরা মনে করি রক্তে ভেজা রংপুরের মানুষের ঐতিহাসিক অবদান আত্মত্যাগকে কোনো সময়ই ভুলে যাওয়ার নয়। কারণ নূরলদীনের অঞ্চলের মানুষ বারবার জাগরিত হয়ে উঠে।’

অন্যদিকে পলাশীর প্রান্তর থেকেই মুক্তিযুদ্ধ, প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে রংপুরের মানুষের যে আত্মত্যাগ সংগ্রাম ও অবদান; রণডঙ্কায় সেই চিত্র অবলোকন করার কথা জানান দর্শকেরা। ইতিহাস নির্ভর এমন নাটক বেশি মঞ্চায়নেরও দাবি তাদের।

দীর্ঘদিন পর মঞ্চ নাটক দেখতে আসা অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘কষ্ট ও বেদনার অসাধারণ অভিব্যক্তির মাধ্যমে রংপুরের মানুষের আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরতে এই দুঃসাহসী বিকন নাট্যকেন্দ্র যে আগ্রহ দেখিয়েছে তা সত্যিই অতুলনীয়।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত