Ajker Patrika

ছেলের কোলে চড়ে ভোট দিতে এলেন শতবর্ষী ফুরকুনি বেগম

রংপুর প্রতিনিধি
ছেলের কোলে চড়ে ভোট দিতে এলেন শতবর্ষী ফুরকুনি বেগম
ছেলের কোলে চড়ে ভোট দিতে আসেন ফুরকুনি বেগম। ছবি: আজকের পত্রিকা

বার্ধক্যের ভারে ক্লান্ত শরীর, হাঁটার শক্তিও নেই। তবু নাগরিক দায়িত্ব পালনের টান তাঁকে ঘরে বসিয়ে রাখতে পারেনি। ছেলের কোলে ভর করে ভোটকেন্দ্রে এসে ব্যালটে সিল মেরে যেন জীবনের শেষ ইচ্ছাটা পূরণ করলেন শতবর্ষী ফুরকুনি বেগম। তাঁর কাঁপা কণ্ঠে একটাই কথা, ‘বাঁচো না বাঁচো, ভোটটা দেও।’

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রংপুরের কাউনিয়ার ভায়ারহাট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ছেলের কোলে চড়ে ভোট দিতে আসেন ফুরকুনি বেগম। এ সময় ভাঙা কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘সোবায় আইসোছে ভোট দিবার। ওই জন্যে বেটার সাথে আসনু। বাঁচো না বাঁচো ভোটটা দেও।’

ফুরকুনি বেগমের বাড়ি কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নের সদরা তালুক গ্রামের। ১৫ বছর আগে স্বামী আন্দু প্রামানিক মারা গেছেন। ছেলের সংসারে থাকেন তিনি।

ফুরকুনি বেগমের ছেলে তোফাজ্জল হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বাবা ১৫ বছর আগে মারা গেছে। মায়ের বয়স ১০০ বছর পার হয়েছে। নির্বাচনের কথা শুনে ভোট দিতে চেয়েছেন, তাই মাকে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে আসছি। মায়ের জীবনের শেষ ভোট হতে পারে এটা। তাঁর শরীরের অবস্থা বেশি ভালো না।’

ওই কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা সন্তোষ চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘সকালে ভোট দিবার পারি খুব ভালো লাগিল। কোনো ঝামেলা নাই। দুইটা ব্যালটে সিল মারছে। এখন খেতোত কাজ করতে যাই। ভোট হইল, কাজও হওচে।’

তৃপ্তি রানী নামের আরেক নারী ভোটার বলেন, ‘চুলাত রান্না উঠি দিয়া ভোট দিবার আলছি। ফাস্ট টাইমে ১০ মিনিটে ভোট দিনো। এখন বাড়ি যায় সংসারে কাজ করমো। গণভোট, এমপি ভোট দুইটাই দিনো।’

ভায়ারহাট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা বুলবুল আহমদ বলেন, ‘এখানে ভোটার ৩ হাজার ৭৫২ জন। এর মধ্যে নারী ১ হাজার ৯৮৪ এবং পুরুষ ১ হাজার ৭৬৪ জন। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৭টি বুথে ভোট গ্রহণ চলছে। সকাল ১০টা পর্যন্ত ১৫ দশমিক ৩৮ ভাগ ভোট কাস্ট হয়েছে।’

রংপুর-৪ আসনে বর্তমানে মোট ভোটার ৫ লাখ ৯ হাজার ৯০৬ জন। দুই উপজেলার ১৬৩টি ভোটকেন্দ্রের ৯৪৪টি বুথে ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত