Ajker Patrika

সুজন সেনের স্থায়ী বহিষ্কার দাবিতে রাবির ছাপচিত্র বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন

রাবি প্রতিনিধি  
আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৭: ০৩
সুজন সেনের স্থায়ী বহিষ্কার দাবিতে রাবির ছাপচিত্র বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন
রাবি ছাপচিত্র বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাপচিত্র বিভাগের শিক্ষক ড. সুজন সেনের বিরুদ্ধে অযোগ্যতা, দুর্নীতি, অনিয়ম ও শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তাঁর স্থায়ী বহিষ্কারসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে তাঁরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছেন।

আজ রোববার দুপুরে বিভাগের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে শিক্ষার্থীরা এসব দাবি জানান।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা ‘দুর্নীতি-অনিয়ম মানি না, মানব না’, ‘নেতা নামের প্রহসন, মানি না, মানব না’, ‘সুজনের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’ এবং ‘এক দফা, এক দাবি—সুজন তুই কবে যাবি’ স্লোগান দেন।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪৮তম সিন্ডিকেট সভায় দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুজন সেনকে পাঁচ বছরের অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

রাবি ছাপচিত্র বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন। ছবি: আজকের পত্রিকা
রাবি ছাপচিত্র বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন। ছবি: আজকের পত্রিকা

এই সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং ড. সুজন সেনের দুর্নীতি-অনিয়মে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ ও তা পুনরুদ্ধার, শাস্তির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার প্রক্রিয়া ঘোষণা এবং ড. সুজন সেনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবি জানান। শিক্ষার্থীদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রমাণিত অভিযোগগুলো জানানো, বর্তমান শাস্তির ভিত্তি ব্যাখ্যা করা, তদন্তের সিদ্ধান্ত ও সুপারিশের পার্থক্যের কারণ তুলে ধরা এবং অসংগতি থাকলে পুনঃ তদন্ত করা।

ছাপচিত্র বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আসাদ সাদিক রাফি বলেন, ‘ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অযোগ্যতা, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত কমিটি স্থায়ী বরখাস্তের সুপারিশ করেছিল। কিন্তু পরে তাঁকে পাঁচ বছরের অব্যাহতি দেওয়া হয়। দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার পরও কত টাকা আত্মসাৎ হয়েছে, কেন ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং অযোগ্য থাকা অবস্থায় প্রায় এক দশক নেওয়া বেতন-ভাতার বৈধতা কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে—এসব বিষয়ে প্রশাসন আমাদের কোনো জবাব দিতে পারেনি।’

আসাদ সাদিক রাফি বলেন, ‘আমরা তদন্ত প্রতিবেদন চাইলেও পাইনি। তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কারণ দেখিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। পরে জেলা প্রশাসকের কাছে আপিল করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো সাড়া দেয়নি। তাই আমরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছি। দাবি পূরণ না হলে আগামীকাল থেকে আরও কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে।’

একই বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সরোয়ার জাহান বলেন, ‘ওই শিক্ষক একজন দুর্নীতিবাজ। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কেন এত সীমিত রাখা হয়েছে, তা নিয়ে আমরা সন্দিহান। আমাদের বর্তমান দাবি হলো, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে করা তদন্তের প্রতিবেদন স্বচ্ছতার সঙ্গে আমাদের সামনে প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে তাঁকে পুরোপুরি বহিষ্কার করতে হবে।’

বিভাগের শিক্ষার্থী আছিয়া বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ দুই বছর ধরে আমাদের বিভাগের শিক্ষক ড. সুজন সেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ করে আসছি। এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে প্রায় ২০০ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রও দিয়েছি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সর্বশেষ সিন্ডিকেটে তাঁকে পাঁচ বছরের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আমরা এটিকে কোনোভাবেই শাস্তি হিসেবে মানি না।’

আছিয়া বলেন, ‘একজন অযোগ্য শিক্ষককে পাঁচ বছর অব্যাহতি দিয়ে বেতন-ভাতা দেওয়া হবে এবং এরপর তিনি আবার শিক্ষক হিসেবে ফিরে এসে আগের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন—এটি কীভাবে শাস্তি হয়, সেটিই আমাদের প্রশ্ন।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত