Ajker Patrika

তিন দিনেও রাবি সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারী কেউ গ্রেপ্তার হয়নি

রাবি প্রতিনিধি  
তিন দিনেও রাবি সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারী কেউ গ্রেপ্তার হয়নি
ফাইল ছবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ, ছবি ও বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে হামলায় জড়িতদের কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে এখনো তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ

৪ অক্টোবর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায় শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। আহত সাংবাদিকেরা হলেন দ্য ডেইলি স্টারের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল, দৈনিক সমকালের মাঈনুল ইসলাম রাজু, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আরিফ-উজ-জামান কোরবান এবং আগামীর সময়ের জাহিদুল ইসলাম।

সাংবাদিকদের দাবি, হামলার ভিডিও ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ প্রশাসন ও পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছে। হামলায় জড়িতদের কয়েকজনকে ভিডিও ফুটেজ ও ছবির মাধ্যমে চিহ্নিতও করা হয়েছে। এরপরও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

তবে এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এবং হামলায় তাঁদের সংশ্লিষ্টতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এ ঘটনায় শহীদ জিয়াউর রহমান হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে মতিহার থানায় মামলা করা হয়েছে। হলের উপ-রেজিস্ট্রার মোনির হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। তবে মামলার বাদী দাবি করেছেন, মামলার বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানেন না এবং তাঁকে জোর করে অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করানো হয়েছে।

মোনির হোসেন বলেন, ‘৫ অক্টোবর প্রাধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান স্যার ও সাত্তার ভাই আমাকে থানায় যেতে বলেন। আমাকে বলা হয়, আমাদের কিছু করতে হবে না, শুধু মতিহার থানায় গিয়ে স্বাক্ষর করতে হবে। আমাকে জোর করে স্বাক্ষর করানো হয়েছে। মামলার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। সেখানে গিয়ে স্বাক্ষর করার সময় দেখি, আসামিদের নাম অজ্ঞাত হিসেবে দেওয়া হয়েছে। হলের প্রভোস্ট আমাকে জানিয়েছেন, তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাপে রয়েছেন।’

হামলার শিকার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের রাবি প্রতিনিধি আরিফ-উজ-জামান কোরবান বলেন, ‘হল প্রশাসন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। অথচ যারা সেদিন আমাদের মারধর করেছে, তারা নিয়মিত ফেসবুকে পোস্ট করছে। তাদের মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই। বরং তারা আমাদের শিবিরের সদস্য ও গুপ্ত বলে প্রচার করছে।’

মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরজুন বলেন, বিষয়টি কাজলা পুলিশ ফাঁড়ির তদন্ত কর্মকর্তা মোস্তাক দেখছেন। কত সময় লাগবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তদন্ত করতে একটু সময় লাগবে, নির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কাজলা পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তা মোস্তাক বলেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিক ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। তদন্ত চলছে।

সময় সম্পর্কে জানতে চাইলে মোস্তাক বলেন, ‘নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না কত সময় লাগবে। তবে আমরা তদন্ত করছি। হাসপাতাল থেকেও তথ্য নিচ্ছি।’

এদিকে প্রশাসনের গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি আজ রাতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত