
কর্মকর্তা নিয়োগে নীতিমালা না মানার অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হকের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মো. ইব্রাহিম কবীর গত ২৬ ফেব্রুয়ারি পদত্যাগ করেছেন। গত শনিবার তাঁকে অব্যাহতি দিয়েছেন রেজিস্ট্রার ডা. মো. হাসিবুল হোসেন।
রামেবির একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভিসি জাওয়াদুল হক কর্মকর্তা নিয়োগের কোনো নীতিমালা মানেননি। নীতিমালা লঙ্ঘন করে তিনি শুধু ইব্রাহিম কবীরকেই নিয়োগ দেননি, অস্থায়ীভাবে নিয়োগ পেয়েছেন রেজিস্ট্রার হাসিবুল হোসেন, কলেজ পরিদর্শক আবদুস সালাম, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শাহ আলম, পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) নজিবুর রহমান, উপপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) আশরাফুল ইসলামসহ মোট ৯ জন।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) এবং পরিচালকের (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদগুলোতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ২০২২ সালে একটি নীতিমালা করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এতে বলা হয়েছে, স্থায়ী নিয়োগের জন্য অন্তত দুবার জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়েও যদি উপযুক্ত জনবল না পাওয়া যায়, তবেই সিন্ডিকেট চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি পদের জন্য যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে ইউজিসি থেকে আগাম অনুমতি নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ কমিটিতে ইউজিসি চেয়ারম্যানের মনোনীত একজন প্রতিনিধিও থাকতে হবে।
এই নীতিমালা অনুসরণ না করে ভিসি নিয়োগ দিয়েছেন রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১৬ দেখিয়ে। এ আইনের ধারা ১৩-এর উপধারা ১০-এ বলা আছে, ভিসি শিক্ষক, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ও কোষাধ্যক্ষ বাদে অন্য পদে ছয় মাসের জন্য সম্পূর্ণ অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দিতে পারবেন। প্রয়োজনে নিয়োগের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়াতে পারবেন। কিন্তু বর্ধিত মেয়াদের মধ্যে নিয়োগ নিয়মিত করা না হলে ওই মেয়াদ শেষে নিয়োগ বাতিল বলে গণ্য হবে।
কিন্তু ভিসির নিয়োগ দেওয়া কর্মকর্তারা এক বছরের বেশি সময় ধরে চাকরিতে আছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
ভিসি সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে নবম গ্রেডের সেকশন অফিসার নাজমুল হোসেনকে অতিরিক্ত দায়িত্বে পঞ্চম গ্রেডের পিএস পদে বসান, যদিও সম-গ্রেডের কর্মকর্তা ছাড়া এ ধরনের দায়িত্ব দেওয়ার বিধান নেই। একই ব্যক্তিকে আবার সহকারী পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) পদে চলতি দায়িত্ব এবং একটি প্রকল্পের অ্যাকাউন্ট অফিসারের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। যদিও নবসৃষ্ট পদে চলতি দায়িত্ব দেওয়ার নিয়ম নেই।
এদিকে প্রয়োজনীয় সনদপত্র ও নির্ধারিত অভিজ্ঞতা ছাড়াই শুধু সিভি জমা নিয়েই অধ্যাপক ডা. আব্দুস সালামকে প্রথমে রেজিস্ট্রার এবং পরে কলেজ পরিদর্শক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। শিক্ষক ছাড়া কাউকে ডিন করা না গেলেও তাঁকে অবৈধভাবে এ পদে আনা হয়েছে।
জাওয়াদুল হক ভিসি হওয়ার পর উপরেজিস্ট্রার পদে মফিজ উদ্দিন নামের একজনকে নিয়োগ দিয়েছিলেন। এই পদের জন্যও শিক্ষাজীবনে তৃতীয় বিভাগ চাকরির অযোগ্যতা। মফিজ উদ্দিনের তৃতীয় বিভাগ থাকলেও তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরে বিতর্ক উঠলে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
একইভাবে তৃতীয় বিভাগ থাকা সত্ত্বেও পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) পদে মো. ইব্রাহিম কবীরকে নিয়োগ দেন ভিসি। বিতর্ক উঠলে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। শনিবার তাঁকে অব্যাহতি দিয়েছেন রেজিস্ট্রার।
জানতে চাইলে ভিসি অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হক বলেন, ‘তাঁর একটা থার্ড ডিভিশন ছিল। এ জন্য সমালোচনা হয়েছে। তাঁর সম্পর্কে একটু বিতর্ক আসছিল। আমাদেরও সতর্ক হওয়া উচিত।’
এই নিয়োগে নীতিমালা লঙ্ঘনের বিষয়ে জানতে চাইলে জাওয়াদুল হক বলেন, ‘এটা তো চাকরি না, এটাকে চুক্তি বলে, ৬ মাসের জন্য। অভিজ্ঞ লোকের দরকার হলে আমরা এভাবে নিয়োগ দিই। সবগুলো এভাবেই নিয়োগ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম থেকেই এভাবেই চলছে।’
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি বলে স্বীকার করেছেন ভিসি।

স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে ট্রেনে উঠে পড়ে দশ বছর বয়সী শিশু আবদুল্লাহ। এরপর আর তার বাড়ি ফেরা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে তাকে খুঁজে না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন স্বজনেরা।
১৮ মিনিট আগে
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার শালবনের গভীরে গড়ে ওঠা একটি অবৈধ সিসা তৈরির কারখানা ধ্বংস করে দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও বন বিভাগ। অভিযানে প্রায় ১৫ শতাংশ বনভূমি দখলমুক্ত করা হয়েছে। গতকাল রোববার (৮ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার অরণখোলা ইউনিয়নের কালার বাজার এলাকার শালবনের ভেতরে এই যৌথ অভিযান চালানো হয়।
১ ঘণ্টা আগে
দুদকের মহাপরিচালক (অনুসন্ধান ও তদন্ত–২) মো. মোতাহার হোসেনের আইফোন, মানিব্যাগ ও হাতঘড়ি ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
মোহনপুরে জামায়াত কর্মী মো. আলাউদ্দিন হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। আজ সোমবার নগরীর সাহেববাজার এলাকায় এ বিক্ষোভ ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন দলটির নেতা-কর্মীরা।
১ ঘণ্টা আগে