Ajker Patrika

ডিজাইনের কাজ করিয়ে পারিশ্রমিক না দেওয়ার অভিযোগ রাকসুর সাবেক সম্পাদকের বিরুদ্ধে

রাবি প্রতিনিধি
ডিজাইনের কাজ করিয়ে পারিশ্রমিক না দেওয়ার অভিযোগ রাকসুর সাবেক সম্পাদকের বিরুদ্ধে
অভিযোগকারী শিক্ষার্থী হাবিবুল বাশারের দেওয়া ফেসবুক পোস্ট। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাবেক সহ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে কাজ করিয়ে পারিশ্রমিক পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠেছে। প্রোডাকশনের জন্য পোস্টার ডিজাইন করিয়ে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার টাকা বকেয়া রেখেছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। তবে অর্থসংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ে টাকা পরিশোধ করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন রাকিবুল।

অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর নাম হাবিবুল বাশার। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে রাকিবুলের ছবি সংবলিত একটি ফটোকার্ড পোস্ট করেন হাবিবুল। ‘কাজ শেষ, ডিজাইন বুঝে নেওয়া হয়েছে, কিন্তু পারিশ্রমিক কোথায়?’ শিরোনামের ওই পোস্টে তিনি পারিশ্রমিক না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেন।

পোস্টে হাবিবুল লেখেন, গত জুন মাসের মাঝামাঝি থেকে জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসজুড়ে রাকিবুলের প্রোডাকশনের জন্য ডিজাইনের কাজ করেছেন তিনি। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো তাঁর প্রাপ্য পারিশ্রমিক বুঝে পাননি।

হাবিবুল বলেন, ‘কাজের মধ্যে পেমেন্ট নিয়ে সমস্যা হওয়ায় আগেই জানিয়েছিলাম, আগের কাজের পেমেন্ট না পেলে পরবর্তী কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। তখন পেমেন্ট দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে পেমেন্ট না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে পদত্যাগপত্র দিই। তখনও পেমেন্ট দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে পদত্যাগপত্র দিতে নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আশ্বাসের বাস্তবায়ন হয়নি। তাই কাজ বন্ধ করে দিই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এরপরও বিষয়টি সমাধানের জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করেছি এবং রাকসুর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু পেমেন্টের নির্দিষ্ট তারিখ বা সমাধানের আশ্বাস পাইনি। উল্টো দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছি। বিষয়টি অন্যদের জানানোর কারণে আমাকে বলা হয়, এখন আর পেমেন্ট দেওয়া হবে না, অথবা তাঁর যখন মনে হবে তখন দেবেন। সর্বশেষ পাওনা টাকা চাইতে যোগাযোগ করলে আবার মেসেজ দিলে ব্লক করে দেওয়ার কথা বলা হয়।’

হাবিবুল জানান, বিষয়টি তিনি শিবিরের প্রচার সম্পাদক মেহেদী সজীব ও রাকসুর সাবেক ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদকে জানিয়েছিলেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকেও বিষয়টি জানান। তবে এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক কোনো সমাধান পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করেছেন রাকিবুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘হাবিবুলের প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। প্রথম মাসে কিছু টাকা পরিশোধ করা হলেও পরবর্তী দেড় থেকে দুই মাসের পারিশ্রমিক বাকি পড়ে যায়।’

রাকিবুল বলেন, ‘একসঙ্গে এত টাকা ম্যানেজ করা আমার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। আমি ওকে একটু সময় দিতে বলেছিলাম। ও কয়েকবার সময়ও দিয়েছে, কিন্তু আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ করতে পারিনি।’

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার পেছনে অন্য কারও ইন্ধন রয়েছে বলে দাবি করেন রাকসুর সাবেক এই নেতা। তিনি বলেন, ‘তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য অন্য কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করাচ্ছে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমি বিষয়টি নিয়ে এখনই সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে চাইনি। এজন্য প্রথমে ভিপির সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁদের বলেছি, বিষয়টি যেন সমাধান করেন।’ তিনি বলেন, ‘আগে তাঁরা নিজেদের উদ্যোগে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করুক। তাঁরা ব্যর্থ হলে তখন আমি সরাসরি হস্তক্ষেপ করব।’

তবে এ বিষয়ে রাকসুর সাবেক ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত