Ajker Patrika

পাওনা দিতে ডেকে ব্যবসায়ীর আড়াই লাখ টাকা ছিনতাই, অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৬: ১৭
পাওনা দিতে ডেকে ব্যবসায়ীর আড়াই লাখ টাকা ছিনতাই, অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে
হামলার নির্দেশ দিচ্ছেন জেলা যুবদলের সদস্য মো. আল আমিন বিশ্বাস। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক ব্যবসায়ীকে মারধর, হত্যার হুমকি ও তাঁর পকেট থেকে আড়াই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জেলা যুবদলের সদস্য মো. আল আমিন বিশ্বাসকে প্রধান আসামি করে ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. রুবেল হোসেন (৪১)। মারধরের কথা স্বীকার করলেও টাকা ছিনিয়ে নেওয়া ও বিবস্ত্র করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আল আমিন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে আল আমিন বিশ্বাস রুবেল হোসেনের শোরুম থেকে ৬ হাজার টাকা নগদ পরিশোধ করে বাকিতে একটি এলইডি টেলিভিশন কেনেন। এ বাবদ তাঁর কাছে আরও ২ হাজার ৫০০ টাকা পাওনা ছিল রুবেলের। অবশিষ্ট টাকা চাইতে গেলে আল আমিন নানা টালবাহানা শুরু করেন।

এজাহারে বলা হয়, ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টার দিকে গোমস্তাপুর ইউনিয়নের বাজারপাড়া বাজারে সিনেমা হলসংলগ্ন মশিউর রহমানের ডেকোরেটরের দোকানে পাওনা টাকা পরিশোধের কথা বলে রুবেলকে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছালে আগে থেকে অবস্থান করা ব্যক্তিরা তাঁকে গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে আল আমিন বিশ্বাস, তাঁর ভাই মো. মোমিন হোসেন ও মো. নুরুল ইসলামসহ ২০ থেকে ২৫ জন লাঠি ও লোহার রড দিয়ে তাঁকে মারধর করেন।

রুবেলের দাবি, হামলাকারীদের আঘাতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয় তাঁর। একপর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর গলা চেপে ধরা হয়। এ সময় তাঁর পকেটে থাকা আড়াই লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজন আহত রুবেলকে উদ্ধার করে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য মো. আল আমিন বিশ্বাস। ছবি: সংগৃহীত
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য মো. আল আমিন বিশ্বাস। ছবি: সংগৃহীত

ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজে কয়েকজনকে রুবেলকে মারধর করতে দেখা যায়। ফুটেজে আল আমিন বিশ্বাসের উপস্থিতিও রয়েছে। একপর্যায়ে মাটিতে পড়ে থাকা রুবেলের টি-শার্ট খুলে নেওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। এ ছাড়া, আল আমিনকে উপস্থিত ব্যক্তিদের মারধরের নির্দেশ দিতেও দেখা যায়। আরেকটি দৃশ্যে রুবেলের বাড়িতে বোমা ফাটানোর হুমকি দিতে দেখা যায়।

রুবেল হোসেন বলেন, ‘হামলার পর আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাঁর ভাই প্রকাশ্যে আমার বাড়িতে বোমা ফাটানোর হুমকি দিয়েছেন। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের পর আরও তিনজনকে তাঁর লোকজন দিয়ে একইভাবে মারধর করা হয়েছে। তাঁরা ভয়ে মুখ খুলছেন না, এমনকি আইনের আশ্রয়ও নিতে পারছেন না। আমার মতো আর কেউ যেন এমন হামলার শিকার না হন, সে জন্য দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি করছি।’

অভিযোগের বিষয়ে জেলা যুবদলের সদস্য আল আমিন বিশ্বাস বলেন, ‘টেলিভিশন কেনার সুবাদে রুবেল আমার কাছে আড়াই হাজার টাকা পেতেন। ওই টাকা নিয়ে ১৬ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে হেলিপ্যাড এলাকায় (হাটখোলা বাজার) কথা-কাটাকাটি হয়। পরে সন্ধ্যায় গোমস্তাপুর সিনেমা হলের সামনে তাঁর আপন চাচাতো ভাইয়ের দোকানে টাকা দেওয়ার বিষয়ে মীমাংসার জন্য বসি। কিন্তু সেখানেও রুবেল উচ্চবাচ্য করেন। তখন আমার লোকজন তাঁকে মারধর করেছে। তবে টাকা ছিনতাই ও বিবস্ত্র করার ঘটনা সত্য নয়।’

আল আমিন আরও বলেন, ‘তাঁর আপন চাচাতো ভাইয়ের কাছে আমি আগে থেকেই সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা পেতাম। সেই টাকা তাঁর ভাইয়ের কাছ থেকে নিতে বলেছিলাম। কিন্তু তাঁর ভাই তাঁকে টাকা দেননি, সেটা আমার জানা ছিল না। রুবেল টাকা পাবেন, এটা ঠিক। কিন্তু তিনি আমাকে যখন-তখন অসম্মানজনক কথা বলেছেন। সে কারণেই আমার লোকজন তাঁকে মারধর করেছে।’

গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হক বলেন, মারধরের ঘটনায় ২৬ অক্টোবর থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত