Ajker Patrika

নেত্রকোনায় লাশ দাফন শেষে ফেরার পথে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ৪০

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নেত্রকোনায় লাশ দাফন শেষে ফেরার পথে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ৪০
প্রতীকী ছবি

নেত্রকোনার মদনে লাশ দাফন শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের নারীসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কিছু ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।

আজ ​রোববার সকালে উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের আলমশ্রী গ্রামে এ সংঘাতের ঘটনা ঘটে।

​সংবাদ পেয়ে মদন থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

​গুরুতর আহত ব্যক্তিদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। গুরুতর আহত ব্যক্তিদের মধ্যে এমদাদুল (৩৭), সাইফুল ইসলাম (৩০), সজীব মিয়া (২৫), প্রান্ত (৩০), আবুল কাশেম (৩৮), মুনায়েম (৩০), রামিন (১৩), সিফাত (১৫), রোশনারা আক্তার (৩৫), রাকিবা আক্তার (৪০) ও নুরজাহান আক্তারকে (৮০) আশঙ্কাজনক অবস্থায় মমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

অন্য আহত ব্যক্তিদের স্থানীয় মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পার্শ্ববর্তী কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে ফারুক মেম্বারের খালাতো ভাই জামাল অটোরিকশা নিয়ে আলমশ্রী বাজারের দিকে যাওয়ার সময় কামরুল ও বেবুল মেম্বারের লোকজন তাঁর গতি রোধ করেন। ওই সময় ফারুক মেম্বারের মামাতো ভাই হৃদয় বাধা দিতে গেলে তাঁকে মারধর করা হয়। এর পর থেকেই ফারুক মেম্বারের লোকজনের বাজারে যাতায়াত বন্ধ ছিল। স্থানীয় মাতব্বররা বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়।

গত শুক্রবার ফারুক মেম্বারের এক ভাতিজা ঢাকায় বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা যান। আজ সকালে গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন শেষে ফেরার পথে এ বিরোধকে কেন্দ্র করে কামরুল ও বেবুল মেম্বারের লোকজন হামলা চালালে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

​সাবেক ইউপি সদস্য বেবুল মিয়া বলেন, ‘ফারুক বর্তমান মেম্বার হওয়ার পর থেকে নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখতে চান। কেউ যেন ভবিষ্যতে নির্বাচনে প্রার্থী না হন, সে জন্য তিনি লোকজনকে মারধর করেন। আজ তাঁরা লাশ দাফন শেষে রাস্তায় অবস্থান করছিলেন। আমাদের পক্ষের সাত্তার হাওরে যাওয়ার সময় তাকে রাস্তায় আটকে দেওয়া হলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।’

মেম্বার ফারুক মিয়া বলেন, ‘এটি মূলত পূর্বপরিকল্পিত একটি অজুহাত। আমাদের বাড়ির সামনে ‘‘আশারবান’’ নামে একটি হাওর রয়েছে, যেখানে প্রতিবছর কোটি টাকার মাছ বেচাকেনা হয়। আমাদের মারধর করে গ্রামছাড়া করতে পারলে তারা হাওরটি দখল করে মোটা অঙ্কের টাকা আয় করতে পারবে—এটাই মূল উদ্দেশ্য।’

​মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন করিম জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আলমশ্রী গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত