
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের তিন নেতা-কর্মীর বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি বাড়িতে প্রায় সব আসবাব ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। লুট করা হয়েছে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার। গত শনিবার ঈদের দিন রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত বাগমারার তাহেরপুর পৌরসভার নূরপুর মহল্লায় বাড়ি তিনটিতে এই তাণ্ডব চালানো হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ছাত্রদল, কৃষক দলসহ বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা তাঁদের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে।
একই মহল্লায় অবস্থিত এ বাড়িগুলোর একটি তাহেরপুর পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল রানার। অন্য দুটি বাড়ি ছাত্রলীগ কর্মী শামীম ওসমান ও ফরিদ ইসলামের। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে সোহেল রানা আত্মগোপনে আছেন। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় তিনটি মামলা হয়েছে। শামীম ওসমান ও ফরিদ এলাকায় আছেন। সোহেল রানার ছোট ভাই শিহাব আল সবুজ ছাত্রলীগের সমর্থক। অনার্স পরীক্ষার জন্য তিনি তাহেরপুর কলেজে ফরম পূরণ করতে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর বড় ভাই সোহেল রানার।
অজ্ঞাত স্থান থেকে সোহেল রানা মোবাইল ফোনে আজকের পত্রিকাকে বলেন, তাহেরপুর পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল সরদার, পৌর কৃষক দলের সিনিয়র সহসভাপতি রাসেল ফরাসি, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব আশরাফুল পিয়াদা, পৌর যুবদলের নেতা জুয়েল রানা ও তাহেরপুর কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাকিলের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন নেতা-কর্মী ভাঙচুর চালিয়েছেন। সোহেল রানার দাবি, হামলার সময় রাসেল ফরাসি ও জুয়েলের হাতে পিস্তল ছিল। আর অন্যদের হাতে হাঁসুয়া, রামদা, পাইপসহ দেশীয় অস্ত্র ছিল।
সোহেল রানা জানান, ঘটনার পর তিনি মোবাইল ফোনে কথা বলেন রাসেল ফরাসির সঙ্গে। তাঁর সঙ্গে কথোপকথনে জানতে পারেন, তাহেরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র আ ন ম সামসুর রহমান মিন্টুর নির্দেশে বাড়িগুলো ভাঙচুর করা হয়েছে। সোহেল রানা বিএনপি নেতা মিন্টুর কথা উল্লেখ করে রাসেলকে বলেন, ‘তোমাদের বসের সঙ্গে একটা বিষয়ে কথাবার্তা হচ্ছে, তুমি কি জান?’ এ সময় রাসেল ফরাসি বলেন, ‘তাহলে আমাদের পাঠাল কেন?’
সরেজমিন দেখা গেছে, যুবলীগ নেতা সোহেল রানার বাড়ির খাট, টেবিল, আলমারি, টেলিভিশন, ফ্রিজ, এসিসহ বাড়ির প্রায় সব আসবাব ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একই অবস্থা ছাত্রলীগ কর্মী ফরিদের বাড়িরও। হামলাকারীরা শামীম ওসমানের বাড়ি ঢুকতে না পেরে বাইরে থেকে ভাঙচুর চালিয়ে চলে গেছেন। সোহেল রানা দাবি করেছেন, তাঁদের বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ ৫৫ হাজার টাকা লুট করা হয়েছে। এ ছাড়া ফরিদের বাড়িতে ঈদের আগে গরু বিক্রি করা দুই লাখ টাকা ছিল। সেটিও লুট করা হয়েছে।
সোহেল রানা জানান, ঘটনার পর তাহেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর আলম তাঁদের বাড়ি পরিদর্শন করে সান্ত্বনা দেন। পরে রোববার তাঁর বাবা আবদুল গাফফার অভিযোগ করতে বাগমারা থানায় যান। থানায় তখন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম ছিলেন না। থানার ডিউটি অফিসার অভিযোগ না নিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছেন। এখন তাঁরা সেনা ক্যাম্পে অভিযোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান সোহেল রানা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন তাহেরপুর পৌর কৃষক দলের সিনিয়র সহসভাপতি রাসেল ফরাসি। তিনি বলেন, ‘আমি এসব বিষয়ে কিছুই জানি না। তাই আমি কোনো মন্তব্য করব না।’ যুবলীগ নেতা সোহেলের সঙ্গে তাঁর ফোনকল রেকর্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, সোহেলের সঙ্গে তাঁর কোনো কথা হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন বাগমারা থানার ওসি সাইদুল আলম। এসআই জাহাঙ্গীর আলমের ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং অভিযোগ না নিয়ে থানা থেকে ডিউটি অফিসারের ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে জানালে ওসি বলেন, ‘যদি আসে কথা বলে ব্যবস্থা নেব।’

চট্টগ্রামের একটি হাসপাতাল থেকে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, সদ্য জন্ম নেওয়া সন্তানের মুখ দেখার ১৫-২০ মিনিট পর ওষুধ কিনতে গেলে ডিবি পরিচয়ে তাঁকে হাসপাতাল থেকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
১ সেকেন্ড আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে পাটবোঝাই ট্রলি উল্টে জগন্নাথ কর্মকার নামে পাঁচ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার সকালে কানসাট-বিনোদপুর সড়কের চামা বাজার মন্দিরের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জগন্নাথ কর্মকার শ্যামপুর ইউনিয়নের চামা বাজার এলাকার দুলাল কর্মকারের ছেলে।
৬ মিনিট আগে
মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীতে প্রবাসী রবিন ঢালীর স্ত্রী স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ ও মুঠোফোন নিয়ে চলে গিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন—এমন অভিযোগে আদালতে মামলা করেছেন রবিনের বাবা আমিরুল ঢালী। অভিযোগ অস্বীকার করে লামিয়ার দাবি, প্রথম স্বামীকে তালাক দিয়েই তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন।
১৪ মিনিট আগে
স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তিন সহপাঠী। কিন্তু স্কুলে না গিয়ে অটোরিকশায় পৌঁছে যায় পাবনা বাস টার্মিনালে। সেখান থেকে বাসে নাটোর, এরপর রংপুর হয়ে কুড়িগ্রাম। লক্ষ্য ছিল সীমান্ত এলাকায় যাওয়া। তবে অপরিচিত এলাকায় গিয়ে পথ হারিয়ে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি তারা।
২৫ মিনিট আগে