Ajker Patrika

রাজবাড়ীতে প্রবাসীর স্ত্রী হত্যা মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন

বালিয়াকান্দি প্রতিনিধি
রাজবাড়ীতে প্রবাসীর স্ত্রী হত্যা মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন
মিলন শেখ। ছবি: সংগৃহীত

রাজবাড়ীর পাংশায় প্রবাসীর স্ত্রী রুনা খাতুনকে শ্বাসরোধে হত্যার মামলায় মিলন শেখ (২৯) নামে এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

আজ বুধবার দুপুরে রাজবাড়ীর বিশেষ দায়রা জজ মো. ইউসুফ হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মিলন শেখ পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের মুছিদাহ খামারডাঙ্গী গ্রামের খলিল শেখের ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. আইয়ুব আলী খান।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১৯ আগস্ট দিবাগত রাতে কাতারপ্রবাসী আনিছুর রহমানের স্ত্রী রুনা খাতুন দুই সন্তানকে নিয়ে নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত দেড়টার দিকে দেড় বছর বয়সী ছোট ভাইয়ের কান্নায় রুনার ১০ বছর বয়সী মেয়ে উম্মে সিনহার ঘুম ভেঙে যায়। এ সময় সে দেখতে পায়, তার মা বিছানায় নেই। বারান্দায় এসে উম্মে সিনহা প্রতিবেশী মিলন শেখকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে। বাড়ির উঠানে তার মা রুনাকে পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে সে চিৎকার শুরু করে। এ সময় মিলনসহ আরও দুই ব্যক্তি সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

প্রতিবেশীরা এসে রুনাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরদিন সকালে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় রুনার বড় ভাই মো. রায়হান শেখ বাদী হয়ে পাংশা মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তে পুলিশ মিলন শেখসহ একই গ্রামের তেছেম সরদার (১৬) ও রিয়াজ জোয়াদ্দর (১৫) নামে আরও ২ জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে রুনার ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধারের কথা জানায় পুলিশ। পরে অপ্রাপ্তবয়স্ক ২ আসামির বিচার নারী ও শিশু আদালতে স্থানান্তর করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. আইয়ুব আলী খান বলেন, এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ মোট ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করেছে। তিন আসামির মধ্যে ২ জন নাবালক হওয়ায় তাদের বিচার নারী ও শিশু আদালতে চলছে। প্রাপ্তবয়স্ক আসামি মিলনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।

তিনি বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও আইনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজমুল হাসান দাবি করেন, তাঁর মক্কেল সম্পূর্ণ নির্দোষ। পুলিশের নির্যাতনের মাধ্যমে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ওই জবানবন্দির ভিত্তিতে আদালত সাজা দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন আইনজীবী। এ রায়ের বিরুদ্ধে দ্রুত হাইকোর্টে আপিল করা হবে বলে জানান তিনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত