Ajker Patrika

পেটে গজ রেখে সেলাইয়ে নারীর মৃত্যুর অভিযোগ, কঠোর ব্যবস্থার আশ্বাস স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি 
পেটে গজ রেখে সেলাইয়ে নারীর মৃত্যুর অভিযোগ, কঠোর ব্যবস্থার আশ্বাস স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
মৃত নারীর বাড়িতে সমবেদনা জানাতে আজ শুক্রবার সকালে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে আসেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। ছবি: আজকের পত্রিকা

ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর পেটে প্রায় দেড় কেজি গজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তীকালে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কনিকা মণ্ডল (৩৫) নামের ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আজ শুক্রবার রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে নিহতের বাড়িতে পৌঁছে শোকাহত পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

নিহত কনিকা মণ্ডল রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মণ্ডলের স্ত্রী। ২০ আগস্ট রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছেন। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে রাজবাড়ীর সিভিল সার্জনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে চিকিৎসায় অবহেলা বা কারও দায় প্রমাণিত হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিহতের স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং সরকারের পক্ষ থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ জুন প্রসববেদনা উঠলে কনিকাকে ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্ত সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তাঁর একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। অপারেশনের পরদিন থেকেই কনিকার পেট ফুলে যায় এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরে ৩ জুলাই তাঁকে ঢাকার কল্যাণপুর ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

কনিকার স্বামী অশান্ত মণ্ডল বলেন, ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ জুলাই পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানতে পারেন, কনিকার পেটে প্রায় দেড় কেজি গজ রেখে সেলাই করা হয়েছে। ওই দিনই অস্ত্রোপচার করে গজ বের করা হয়। এরপর দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২০ আগস্ট কনিকার মৃত্যু হয়।

অশান্ত মণ্ডল বলেন, ‘আমি এখন দুই মাসের সন্তান নিয়ে কীভাবে বাঁচব? আরও দুটি ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে নিয়ে অথই সাগরে পড়ে গেলাম। আমার সন্তানদের ভবিষ্যৎ কী হবে, জানি না। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

পরিবারের দাবি, চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্ত পরে অশান্ত মণ্ডলকে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান। ওই বার্তায় তিনি ভুল হয়ে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্তের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার খেয়াল নেই, একটু পরে ফোন দিচ্ছি।’ এরপর একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এদিকে মায়ের মৃত্যুর পর তিন সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে পরিবারটি। মায়ের মুখ চিনে ওঠার আগেই তাঁকে হারিয়েছে নবজাতক অদ্রিজা। পরিবারের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত