Ajker Patrika

গ্যাস-সংকটে ময়মনসিংহের ২০ কারখানার শ্রমিকদের ছুটি

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৬, ২১: ২৪
গ্যাস-সংকটে ময়মনসিংহের ২০ কারখানার শ্রমিকদের ছুটি
গ্যাস সংকটে কারখানার শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

তীব্র গ্যাস-সংকটে ময়মনসিংহের ভালুকা ও আশপাশের এলাকার ২০টি শিল্পকারখানার শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে শ্রমিকেরা কাজে যোগ দেওয়ার পর গ্যাসের চাপ না থাকায় ধাপে ধাপে তাঁদের ছুটি দেওয়া হয়। বিকেলে শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

ভালুকা পৌর এলাকা ও গ্যাস অফিসের আশপাশের কারখানাগুলোয় কিছুটা চাপ থাকলেও দূরবর্তী কারখানাগুলোয় গ্যাসের চাপ প্রায় নেই। শিল্প পুলিশ-৫-এর পুলিশ সুপার আনছার উদ্দিন জানান, সকাল থেকে গ্যাস-সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

শিল্প পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার গোপীনাথ কাঞ্জিলাল জানান, গ্যাসের চাপ কম থাকায় দুপুরের খাবারের সময় মাহাদি সোয়েটার্স লিমিটেড, সুলতানা সোয়েটার্স, লিজ ফ্যাশন, টিএম টেক্সটাইল, ত্রিশাল টেক্সটাইল, বিএসপি স্পিনিং মিলসহ ২০টি প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের ছুটি দেয়।

শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চাহিদামতো গ্যাসের চাপ না থাকায় কোনো কোনো কারখানায় অর্ধেকের বেশি মেশিন বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন মালিকেরা। সার্বিকভাবে এই অঞ্চলের প্রধান শিল্পকারখানাগুলোয় উৎপাদন প্রায় ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে।

স্পিনিং মিলগুলোয় বেশি সংকট

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের ময়মনসিংহ ইউনিটের নথি অনুযায়ী, এই অঞ্চলে ২৯৩টি শিল্পকারখানা রয়েছে। এর মধ্যে ৯৯টি কারখানা গ্যাসনির্ভর।

শিল্প পুলিশের তালিকা অনুযায়ী, গ্যাস-সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে টেক্সটাইল ও সুতা তৈরির স্পিনিং মিলগুলো। গৌরীপুরের টয়ো স্পিনিং মিলসে ৫০টি মেশিনের মধ্যে ৪৩টি বন্ধ রাখতে হয়েছে।

ভালুকার সীমা স্পিনিং মিলেও একই অবস্থা। গ্যাসের সংকটে প্রতিষ্ঠানটির ৩০টি মেশিন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এতে উৎপাদন প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে। এ ছাড়া বাশার স্পিনিং, নরটেক্স টেক্সটাইল ও ডেলটা স্পিনার্সে উৎপাদন ৫০ শতাংশ বা তার বেশি কমেছে।

এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইলে স্বাভাবিক গ্যাসের চাপ না থাকায় ৪০ শতাংশ মেশিন অচল হয়ে পড়েছে। সিরামিক খাতের এক্সিলেন্ট সিরামিকসে ফার্নেস বন্ধ থাকায় উৎপাদন অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে।

এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইলের শ্রমিক হাফিজা আক্তার বলেন, গ্যাস-সংকটের কারণে কাজ অনেক কমে গেছে। সব মেশিন একসঙ্গে চলছে না। বাসাবাড়িতেও গ্যাসের সংকট থাকায় রান্নাবান্না ব্যাহত হচ্ছে।

গ্যাস-সংকটের কারণে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়া ও কর্মী ছুটি দেওয়া প্রসঙ্গে ভালুকা এলাকার গ্লোরি টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলসের ইউটিলিটি বিভাগের ব্যবস্থাপক সোহেল আহাম্মেদ বলেন, ‘দেড় থেকে দুই মাস ধরে গ্যাসের চাপ কম। কারখানায় গ্যাসের ১৫ পিএসআই চাপ প্রয়োজন হলেও পাওয়া যাচ্ছে ১১ থেকে ১২ পিএসআই। এতে আমাদের উৎপাদন ৩ থেকে ৪ শতাংশ কমেছে।’

গ্যাস সরবরাহের বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ময়মনসিংহের ভালুকা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (সিস্টেম অপারেশন) শামীম হোসেন বলেন, ‘ভালুকা এলাকার জন্য ১৪০ ও ৫০ পিএসআইয়ের দুটি পৃথক লাইনে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। কিন্তু বর্তমানে আমরা পাচ্ছি মাত্র ৩০ থেকে ৫০ পিএসআই গ্যাস।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত