Ajker Patrika

ভূমিদস্যুদের বাধায় ধান লাগাতে না পেরে অঙ্কুরিত বীজের ঝুড়ি নিয়ে দশমিনার কৃষকের মানববন্ধন

দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি 
ভূমিদস্যুদের বাধায় ধান লাগাতে না পেরে অঙ্কুরিত বীজের ঝুড়ি নিয়ে দশমিনার কৃষকের মানববন্ধন
ধান লাগাতে না পেরে অঙ্কুরিত বীজের ঝুড়ি নিয়ে কৃষকদের মানববন্ধন। ছবি: আজকের পত্রিকা

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় রেকর্ডীয় জমিতে শান্তিপূর্ণ চাষাবাদে বাধা, ভয়ভীতি, হামলা ও হয়রানির অভিযোগে কৃষকেরা অঙ্কুরিত ধানের বীজভর্তি ঝুড়ি নিয়ে মানববন্ধন করেছেন। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা পরিষদের সামনের সড়কে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, উপজেলার চর ত্রৈলোক্য ও পাঁচখালী মৌজার রেকর্ডীয় ভূমির মালিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা নদীভাঙনে জমি বিলীন হওয়ার পরও নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে আসছেন। পুনরায় চর জেগে উঠলে তারা সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণ ও কৃষিকাজ করে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন। অথচ কিছু প্রভাবশালী ভূমিদস্যু, দালাল ও সন্ত্রাসীচক্র অবৈধভাবে জমি দখলের উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে বৈধ চাষাবাদে বাধা সৃষ্টি করছে। প্রতিবাদ করলে মারধর, প্রাণনাশের হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

ভুক্তভোগীরা বলেন, তিন চরের কৃষকেরা এখন বীজতলা তৈরির সময় অঙ্কুরিত ধানের বীজ প্রস্তুত করে বসে আছেন। কিন্তু ভূমিদস্যুদের দাপটে নিজেদের রেকর্ডীয় জমিতে ধান বুনতে পারছেন না। এতে প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার কৃষক পরিবারের ৪০ মণ অঙ্কুরিত বীজ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

ভুক্তভোগী কৃষকদের পক্ষে মোঃ শাহ আলম হাওলাদার (পাঁচখানী), আলী আকন চৌকিদার (পাঁচখানী) এবং মোস্তফা খলিফা বলেন, তাদের জমিতে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেওয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এর ফলে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং হাজারো পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

কৃষকদের অভিযোগ, দশমিনা সদরের মোল্লা পরিবারের রুহুল মোল্লার নেতৃত্বে সৈয়দ জাফর, আরজবেগী এলাকার জাহিদ শিকদার, তহিদ শিকদার, এনায়েত গাজী ও সাকুসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে চরাঞ্চলের জমি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা ও শারীরিক নির্যাতন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

মানববন্ধনে কৃষকেরা বলেন, তাঁরা রেকর্ডীয় ও প্রকৃত ভূমির মালিক। অথচ আজ নিজেদের জমিতে ধানের বীজ রোপণ করতে পারছেন না। প্রায় ৪০ মণ ধানের বীজ নষ্ট হওয়ার পথে। ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ম্যে হাজারো পরিবার আজ নিঃস্ব হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। প্রশাসনের কাছে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিরাপদে চাষাবাদের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।

মানববন্ধন শেষে ভুক্তভোগী কৃষকেরা দশমিনা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন।

ইউএনও মাহমুদ হাসান মৃধা আজকের পত্রিকাকে বলেন, `উপজেলার ভোলাইশিংয়ের চর ত্রৈলোক্য এবং পাঁচখালী মৌজার রেকর্ডীয় ভূমির মালিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন। আমি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।'

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত