Ajker Patrika

অভিমানে সীমান্তের পথে ৩ স্কুলছাত্রী, এসআইয়ের স্ত্রীর কৌশলে উদ্ধার

পাবনা প্রতিনিধি
আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১: ৪১
অভিমানে সীমান্তের পথে ৩ স্কুলছাত্রী, এসআইয়ের স্ত্রীর কৌশলে উদ্ধার
পাবনা সদর থানা। ছবি: আজকের পত্রিকা

স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তিন সহপাঠী। কিন্তু স্কুলে না গিয়ে অটোরিকশায় পৌঁছে যায় পাবনা বাস টার্মিনালে। সেখান থেকে বাসে নাটোর, এরপর রংপুর হয়ে কুড়িগ্রাম। লক্ষ্য ছিল সীমান্ত এলাকায় যাওয়া। তবে অপরিচিত এলাকায় গিয়ে পথ হারিয়ে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি তারা। পরে এক পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের সহায়তায় তিন কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়।

আজ সোমবার দুপুরে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পাবনা সদর থানা-পুলিশ। এর আগে গতকাল রোববার সকালে পাবনা সদর উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের ওই তিন ছাত্রী বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। তাদের একজন অষ্টম ও দুজন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তিন কিশোরীর মধ্যে একজন কিছুদিন ধরে নিজের চেহারা ও চোখের সমস্যা নিয়ে পরিবারের কিছু কথায় কষ্ট পাচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে তার মধ্যে অভিমান ও মানসিক চাপ তৈরি হয়েছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। একপর্যায়ে বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাওয়ার কথা ভাবতে শুরু করে সে। পরে নিজের এই পরিকল্পনার কথা দুই সহপাঠীকে জানালে তারাও তার সঙ্গে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

গতকাল রোববার সকাল ১০টার দিকে তিনজন স্কুলে এসে একত্র হয়। এরপর ক্লাসে না গিয়ে অটোরিকশায় পাবনার অনন্ত মোড় ও পরে বাস টার্মিনালে যায়। বাসে নাটোর হয়ে রংপুর পেরিয়ে তারা কুড়িগ্রামে পৌঁছায়। এর মধ্যে একজন বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় পরিবারের গচ্ছিত টাকা সঙ্গে নেয় বলে পরিবার জানিয়েছে।

সন্ধ্যার আগে কুড়িগ্রাম বাস টার্মিনালে নেমে রাত্রিযাপনের জন্য জায়গা খুঁজতে গিয়ে তারা একটি অপরিচিত মহল্লায় ঢুকে পড়ে। সেখানে কুড়িগ্রাম সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তাজ উদ্দিনের পরিবারের সদস্যদের নজরে পড়ে তিন কিশোরী। সন্দেহ হওয়ায় তাজের স্ত্রী তাদের বাড়িতে নিয়ে যান। খাবার ও বিশ্রামের ব্যবস্থা করার পর কৌশলে পরিবারের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন। পরে তাজ ও তাঁর স্ত্রী কিশোরীদের পরিবারে ও থানায় বিষয়টি জানান।

এদিকে তিন কিশোরী বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা পাবনা সদর থানায় পৃথক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে পাবনা পুলিশের সঙ্গে কুড়িগ্রাম পুলিশের যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হয়। কুড়িগ্রাম সদর থানা-পুলিশের সহযোগিতায় তিনজনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম বলেন, তিন কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার পর তাদের উদ্ধারে পুলিশ তৎপর হয়। কুড়িগ্রাম সদর থানার একজন উপপরিদর্শকের মাধ্যমে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত