Ajker Patrika

বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে কৃষককে মারধরের অভিযোগ, চার ঘণ্টা পর মৃত্যু

পাবনা প্রতিনিধি
বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে কৃষককে মারধরের অভিযোগ, চার ঘণ্টা পর মৃত্যু
গোল চিহ্নিত ব্যক্তি অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ইউসুফ আলী। ছবি: সংগৃহীত

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে এক কৃষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর জামিল হোসেন (৫০) নামে ওই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

নিহত জামিল হোসেন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার হরিণা গ্রামের আবু মণ্ডলের ছেলে। আর অভিযুক্ত ইউসুফ আলী ভাঙ্গুড়া উপজেলার চরভাঙ্গুড়া গ্রামের কুদ্দুস মণ্ডলের ছেলে। তিনি ভাঙ্গুড়া সদর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ দিন আগে ধান মাড়াইয়ের কাজে জামিল হোসেন তাঁর মেয়ে, মেয়ের জামাই ও চাচাতো ভাইকে নিয়ে ভাঙ্গুড়ায় আসেন। তাঁরা উপজেলার কৈডাঙ্গা গ্রামে রেললাইনের পাশে একটি ভাড়া ঘরে বসবাস করছিলেন।

নিহত ব্যক্তির মেয়ের জামাই আব্দুল কাদের বলেন, মৃত্যুর আগে জামিল হোসেন তাঁকে বলেন, শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিএনপি নেতা ইউসুফ আলী তাঁকে ধান মাড়াইয়ের কাজ করতে চাপ দেন। তিনি কিছুটা দেরি হবে জানালে ইউসুফ আলী ক্ষিপ্ত হয়ে ধান মাড়াই মেশিনের চাবি কেড়ে নেন। পরে চাবি ফেরত চাইলে সেই চাবি দিয়েই জামিলকে মারধর করা হয় এবং জোরপূর্বক ধান মাড়াইয়ের কাজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ধান মাড়াই করেন জামিল হোসেন।

আব্দুল কাদের আরও বলেন, কাজ শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাঁরা কৈডাঙ্গা গ্রামে ফিরে আসেন। সেখানে জামিল হোসেন অসুস্থতা অনুভব করলে পাশের নদীতে গোসল করতে যান। গোসল শেষে ফেরার পরপরই তিনি মারা যান। জামিল আগে থেকেই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন বলেও জানান তিনি।

ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শনিবার রাতে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার কৈডাঙ্গা গ্রামে। ছবি: আজকের পত্রিকা
ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শনিবার রাতে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার কৈডাঙ্গা গ্রামে। ছবি: আজকের পত্রিকা

আব্দুল কাদের অভিযোগ করেন, ঘটনার পর ইউসুফ আলীর চাপের মুখে তাঁরা মরদেহ দ্রুত নিয়ে যেতে চেষ্টা করেন। তবে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে ভাঙ্গুড়া থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।

অভিযুক্ত ইউসুফ আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তাঁকে বাড়িতেও পাওয়া যায়নি।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নূর মুজাহিদ স্বপন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’

ভাঙ্গুড়া থানার উপপরিদর্শক সুব্রত কুমার বলেন, প্রাথমিকভাবে মরদেহের মাথার পেছনে সামান্য কাটাছেঁড়ার চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে এটি পড়ে গিয়ে লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আজম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। রোববার সকাল পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত