Ajker Patrika

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে মধ্যরাত থেকে মাছ শিকারে নামছেন হাতিয়ার জেলেরা

হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে মধ্যরাত থেকে মাছ শিকারে নামছেন হাতিয়ার জেলেরা
আজ বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর নিষেধাজ্ঞা শেষ হবে। হাতিয়ার কাজীর বাজার ঘাট এলাকায় চলছে জেলেদের প্রস্তুতি। ছবি: আজকের পত্রিকা

মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মধ্যরাতে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরপরই নদীতে মাছ শিকারে নামবেন নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার জেলেরা। এ জন্য নৌকা, ট্রলার, জাল ও ইঞ্জিনের জ্বালানিসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছেন তাঁরা। দীর্ঘ ২২ দিন পর মাছ ধরার সুযোগ পেতে যাওয়ায় জেলেপল্লিগুলোতে ফিরে এসেছে কর্মচাঞ্চল্য।

৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া নিষেধাজ্ঞা জেলেরা যথাযথভাবে পালন করলেও এ সময়ে সরকারি সহায়তা পর্যাপ্ত ছিল না বলে অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ। দীর্ঘদিন মাছ ধরা বন্ধ থাকায় উপার্জনহীন অবস্থায় পরিবার চালাতে গিয়ে ধারদেনা করতে হয়েছে অনেক জেলেকে।

হাতিয়ার সূর্যমুখী ঘাটের প্রবীণ জেলে জানে আলম (৬৭) বলেন, অনেক দিন পর মাঝি-মাল্লারা ঘাটে ফিরেছেন। ২২ দিন মাছ ধরা বন্ধ থাকায় অনেকে বাড়িতে অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলেন। আজ রাত ১২টার পর সবাই নদীতে নামবেন। এ জন্য নৌকা ও জাল প্রস্তুত করা এবং ইঞ্জিনের জ্বালানি সংগ্রহসহ প্রয়োজনীয় কাজ করছেন তাঁরা। দীর্ঘ বিরতির পর জেলেদের মধ্যে আবার কর্মতৎপরতা ফিরে এসেছে।

একই ঘাটের জেলে নুর উদ্দিন জানান, তাঁর পরিবারের সদস্য আটজন। নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন উপার্জন বন্ধ থাকায় সংসার চালাতে অনেক কষ্ট হয়েছে। সরকারি সহায়তা হিসেবে ২৫ কেজি চাল পেয়েছেন। তবে দৈনন্দিন খরচ মেটাতে ধারদেনা করতে হয়েছে। এখন মাছ ধরতে নদীতে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। মাছ শিকার শুরু হলে সংসারের আর্থিক সংকট কিছুটা কাটবে বলে আশা করছেন এ জেলে।

সূর্যমুখী ঘাটের মতো হাতিয়ার প্রায় ২০টি ঘাটেই ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য। এসব ঘাটে প্রায় ১০ হাজার জেলে নৌকার মাঝি-মাল্লা নিজেদের নৌকা ও ট্রলার নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাঁদের হাঁকডাকে মুখর হয়ে উঠেছে ঘাটগুলো।

শুধু জেলে নয়, নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় ব্যস্ততা বেড়েছে মাছ ব্যবসায়ীদের মধ্যেও। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে চালুর প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে বিভিন্ন ঘাটে।

কাজীর বাজার ঘাটের ব্যবসায়ী আবদুস সহিদ বলেন, মাছের আড়ত, মুদিদোকান, খাবারের হোটেল, বরফকলসহ মাছের ঘাটকেন্দ্রিক বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আবারও ব্যস্ততা বেড়েছে। দীর্ঘদিন পর মাছ ধরা শুরু হতে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আনন্দ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হাতিয়ায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার। এর মধ্যে ১৫ হাজার জেলে পরিবারকে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা উপলক্ষে পরিবারপ্রতি ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে দুস্থ ও অসহায় জেলেদের মধ্যে এ চাল বিতরণ করা হয়। ইতিমধ্যে উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় চাল বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে এ সময়ে নদীতে কঠোর নজরদারি চালিয়েছে প্রশাসন। মৎস্য বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন, কোস্ট গার্ড ও নৌ পুলিশ যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় কয়েকটি ট্রলার ও জেলেকে আটক করার পাশাপাশি মাছ জব্দ করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছে।

হাতিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফয়জুর রহমান বলেন, আজ রাত ১২টার পর নিষেধাজ্ঞা শেষ হবে। এরপর জেলেরা নদীতে গিয়ে মাছ শিকার করতে পারবেন। এর আগে কাউকে নদীতে নামতে দেওয়া হবে না। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত