Ajker Patrika

নীলফামারীতে বিদ্যালয়ের ইন্টারনেট বিল পরিশোধে অনিয়মের অভিযোগ শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি 
নীলফামারীতে বিদ্যালয়ের ইন্টারনেট বিল পরিশোধে অনিয়মের অভিযোগ শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে
কিশোরগঞ্জ উপজেলার ১৭৫টি বিদ্যালয়ের এক বছরের সম্পূর্ণ ইন্টারনেট বিল না দেওয়ায় অভিযোগ উঠেছে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ছবি: আজকের পত্রিকা

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ১৭৫টি বিদ্যালয়ে এক বছরের ইন্টারনেট বিল সম্পূর্ণ পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠেছে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে হয়রানি করার অভিযোগও করেছেন শিক্ষকেরা।

জানা যায়, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরের জন্য উপজেলার ১৭৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইন্টারনেট বিল বাবদ প্রতি মাসে এক হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ জন্য গত মে মাসে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরা ভাউচারসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জমা দেন। বিদ্যালয়প্রতি এক হাজার টাকা হিসাবে এক বছরে বিলের পরিমাণ দাঁড়ায় ১২ হাজার টাকা। সে হিসাবে ১৭৫টি বিদ্যালয়ের মোট ইন্টারনেট বিলের পরিমাণ দাঁড়ায় ২১ লাখ টাকা।

শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ১৩টি বিদ্যালয়ে ১২ মাসের, সাতটি বিদ্যালয়ে সাত মাসের ও ১৫৫টিতে চার মাসের ইন্টারনেট বিল দেওয়া হয়েছে। অথচ সব বিদ্যালয়ে ১২ মাসের ইন্টারনেট বিল দেওয়ার কথা ছিল, তা না করে শিক্ষা কর্মকর্তা নিজের মনমতো করে এসব বিল দিয়েছেন।

শিক্ষকদের অভিযোগ, নিজেদের অর্থে এক বছর বিদ্যালয়গুলোতে ইন্টারনেট ব্যবহার করে অফিশিয়াল বিভিন্ন কাজ করা হয়েছে। পরে গত মে মাসে ইন্টারনেট বিলের জন্য ভাউচার জমা দেওয়া হয়। তবে শিক্ষা কর্মকর্তা কয়েকজন শিক্ষক নেতার যোগসাজশে সম্পূর্ণ পরিশোধ না করে ইচ্ছেমতো কাউকে চার মাসের আবার কাউকে সাত মাসের বিল দিয়েছেন। এতে পুরো বছরে নিজের টাকা দিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করে এখন আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন শিক্ষকেরা। এ শিক্ষা কর্মকর্তার যোগদানের পর থেকে তাঁর বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। তাঁর এসব কাজের বিষয়ে প্রতিবাদ করলে নানাভাবে হয়রানি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন শিক্ষকেরা।

উপজেলার খয়ের দারোগাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক বলেন, ‘আমি ১২ মাসের ইন্টারনেট বিলের ভাউচার জমা দিয়েছি। সেটি দেওয়ার পরে আমাকে কাগজে দেখানো হয়েছে ভ্যাট কেটে ৪০০০ টাকা দিয়েছে, কিন্তু আমি পেয়েছি মাত্র ২ হাজার ৪০০ টাকা। সারা বছর নিজের টাকায় ইন্টারনেট চালিয়ে এখন আর্থিক ক্ষতিতে পড়তে হচ্ছে। সব উপজেলায় ১২ মাসের টাকা দিয়েছে, কিন্তু এখানে শিক্ষা কর্মকর্তা নিজের ইচ্ছেমতো কম দিয়েছেন।’

পানিয়াল পুকুর খোলাহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাপসি বেগম বলেন, ‘আমাদের কাছ থেকে ১২ মাসের ইন্টারনেট বিলের ভাউচার নেওয়া হয়েছে। ১২ হাজার টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও আমাদের ৩ হাজার ৬০০ টাকা দেওয়া হয়েছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও এক প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘আমরা এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলে হয়রানির শিকার হই। সরকার দিয়েছে ১২ মাসের টাকা, কিন্তু শিক্ষা কর্মকর্তা নাকি সেই টাকা আমাদের না দিয়ে অর্ধেক ফেরত দিয়েছেন। আমরা পুরো বছরে ইন্টারনেট ব্যবহার করার পরও আমাদের কম টাকা দিয়ে তিনি ফেরত দেবেন কেন? তা ছাড়া কোনো ফাইলপত্র নিয়ে গেলে তিনি আটকে রেখে নানাভাবে হয়রানি করান।’

এসব অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ড. মাহমুদা খাতুন বলেন, ‘আমার দপ্তরে কোটি টাকার কাজ হয়, ইন্টারনেট বিলের টাকা আমি খাইনি। এখান থেকে ১২ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছি। তা ছাড়া যে বিদ্যালয় যেমন ইন্টারনেট ব্যবহার করেছে, তেমন টাকা দেওয়া হয়েছে।’

কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান বলেন, শিক্ষকদের ক্ষতি হলে কিংবা কোনো অনিয়ম হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত