Ajker Patrika

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: সৈয়দপুরে কারখানা বন্ধ বেকার শত শত শ্রমিক

  • বিদ্যুতের চাহিদা ৪৬ মেগাওয়াট। পাওয়া যাচ্ছে ৩৬ মেগাওয়াট।
  • দিনের বেলায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না।
  • বিদ্যুৎ-সংকটে একের পর এক কারখানা বন্ধ হচ্ছে।
রেজা মাহমুদ, সৈয়দপুর (নীলফামারী) 
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: সৈয়দপুরে কারখানা বন্ধ বেকার শত শত শ্রমিক
ছবি: আজকের পত্রিকা

‘বিজলি বহুত ডিস্টার্ব কর রাহি হ্যায়, ইস লিয়ে মালিক নে কারখানা বান্দ কার দিয়া। আভি মেরে পাস কাম নেহি হ্যায়। ঘার ক্যায়সে চালেগা। ঘার মে এক ছোটা বেটা, দো বেটিয়া অউর বুড়ি মা হ্যায়।’ কথাগুলো বলছিলেন নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের গোলাহাট এলাকার হালকা প্রকৌশল কারখানার শ্রমিক উর্দুভাষী মোহাম্মদ ওয়ারিস।

বিদ্যুৎ-সংকটে সৈয়দপুরের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় ওয়ারিসের মতো শত শত শ্রমিক কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন। বিদ্যুৎ থাকছে না দিনে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে উৎপাদন কমে যাওয়ায় ইতিমধ্যে প্রায় অর্ধশত কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। চালু থাকা কারখানাগুলোতেও উৎপাদন নেমে এসেছে অর্ধেকে। ওয়ারিস বলেন, বিদ্যুতের সমস্যার কারণে মালিক কারখানা বন্ধ করে দিয়েছেন। এখন তাঁর কোনো কাজ নেই। সংসার কীভাবে চলবে জানেন না। তাঁর সংসারে ছোট ছেলে, দুই মেয়ে ও বৃদ্ধ মা রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সৈয়দপুরে প্রায় ১ হাজার শিল্পকারখানা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৪০০টি হালকা প্রকৌশল কারখানা। এসব কারখানায় রেলওয়েসহ বিভিন্ন খাতের খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরি হয়। এ ছাড়া রয়েছে রপ্তানিমুখী প্রায় ৩০০ ক্ষুদ্র পোশাক কারখানা, দুটি জুটমিল ও বিভিন্ন ধরনের মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এসব শিল্পকারখানায় প্রায় ১ লাখ মানুষ কাজ করেন।

সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরে ৪৯টি কারখানা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১০০ কোটি টাকা করে বিনিয়োগ হয়েছে এবং কাজ করেন প্রায় ৬ হাজার নারী-পুরুষ। উদ্যোক্তাদের দাবি, বিদ্যুৎ-সংকটের কারণে এসব কারখানার উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

সম্প্রতি শহরের শহীদ জহুরুল, বঙ্গবন্ধু সড়ক, বাস টার্মিনাল, আতিয়ার কলোনি ও মুন্সিপাড়া এলাকার বিভিন্ন কারখানা ঘুরে দেখা যায়, সেগুলোতে নেই কোনো মেশিনের আওয়াজ, নেই কর্মচাঞ্চল্য। শ্রমিকেরা অলস সময় পার করছেন। উদ্যোক্তারা জানান, দিনের বেলায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় কারখানা স্বাভাবিকভাবে চালানো যাচ্ছে না। এতে শ্রমিকদের বেতন ও ব্যাংকঋণের কিস্তি পরিশোধেও তাঁরা সমস্যায় পড়ছেন।

মুন্সিপাড়ার সারা ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসের মালিক আসিফ আহম্মেদ বলেন, সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারখানা খোলা থাকে। এই সময়ের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয়বার লোডশেডিং হচ্ছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়া-আসায় তাঁর একটি মূল্যবান মেশিন নষ্ট হয়েছে। উৎপাদনও অর্ধেকে নেমে এসেছে।

সৈয়দপুর বাস টার্মিনাল এলাকার রয়েল মেটালিক্স ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজ কুমার পোদ্দার বলেন, তাঁদের কারখানায় প্রেশার কুকার, রাইস কুকার, ওভেন, ফ্রাইপ্যানসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরি হয়। অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করা যাচ্ছে না।

আতিয়ার কলোনির পোশাক কারখানা ফরহাদ ট্রেডার্সের মালিক ফরহাদ হোসেন বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন কমে গেছে। অধিকাংশ দিন শ্রমিকদের বসিয়ে রেখেও বেতন দিতে হচ্ছে। এ কারণে আপাতত কারখানা বন্ধ রেখেছেন তিনি।

এ বিষয়ে নর্দান ইলেকট্রিক সাপ্লাই পিএলসি (নেসকো) সৈয়দপুর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী আলিমুল ইসলাম সেলিম বলেন, সৈয়দপুরে ৬১ হাজার গ্রাহকের জন্য বিদ্যুতের চাহিদা ৪৬ মেগাওয়াট। বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে ৩৬ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত