Ajker Patrika

তিন শিক্ষকের কলেজে শিক্ষার্থী একজন, দ্বিতীয়বারও পাসের মুখ দেখেনি

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ২২: ০৭
তিন শিক্ষকের কলেজে শিক্ষার্থী একজন, দ্বিতীয়বারও পাসের মুখ দেখেনি
কেন্দুয়া উপজেলার গোপালপুর মডেল কলেজ। ছবি: এআই নির্মিত

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার গোপালপুর মডেল কলেজে অধ্যক্ষসহ শিক্ষক রয়েছেন তিনজন। অথচ এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কলেজটির একমাত্র শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। এ ছাড়া জেলায় আরও চারটি কলেজের কোনো পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

আজ শনিবার প্রকাশিত ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে এ তথ্য জানা গেছে। শূন্য পাসের তালিকায় থাকা পাঁচটি কলেজই নন-এমপিওভুক্ত।

২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত গোপালপুর মডেল কলেজটি এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। কলেজটির অধ্যক্ষ সুজিত কান্তি কর বলেন, একমাত্র পরীক্ষার্থী গত বছরও এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছিল। এবার শুধু ওই বিষয়ে পরীক্ষা দিলেও পাস করতে পারেনি।

অধ্যক্ষ আরও বলেন, দীর্ঘদিনেও কলেজটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় কোনো শিক্ষক এখানে থাকতে চান না। এ কারণে শিক্ষার্থীসংখ্যাও কমে গেছে। বর্তমানে তাঁকে নিয়ে কলেজে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র তিনজন।

জেলার শূন্য পাসের তালিকায় থাকা অন্য চারটি প্রতিষ্ঠান হলো কলমাকান্দা মহিলা কলেজ, পূর্বধলার খলিশাপুর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কলেজ শাখা, এম্বিশন মডেল কলেজ এবং জোবায়দা জহুর উদ্দিন সরকার মহিলা কলেজ।

জেলা শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কলমাকান্দা মহিলা কলেজ থেকে তিনজন, খলিশাপুর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কলেজ শাখা থেকে চারজন, এম্বিশন মডেল কলেজ থেকে ছয়জন এবং জোবায়দা জহুর উদ্দিন সরকার মহিলা কলেজ থেকে ১৬ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

এবার নেত্রকোনার ১০টি উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১৩ হাজার ৯১১ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ৫ হাজার ৮৭৩ জন। জেলায় পাসের হার ৪৩ দশমিক ৯১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭০ জন।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুনমুন জাহান লিজা বলেন, শূন্য পাস করা পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা করা হবে। শিক্ষার্থীরা কেন অকৃতকার্য হয়েছে, তা অনুসন্ধানের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত